ময়মনসিংহের ফুলপুরে প্রায়ই লোড শেডিং হয়। বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার পর থেকে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বাড়ছে লোড শেডিং। বিশেষ করে সান্ধ্যকালীন লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ নারী পুরুষ সবাই। ছাত্রছাত্রীরাও। গত ক’দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা ‘ফুলপুরের জন্য বিদ্যুৎ বরাদ্দ কতটুকু? ফুলপুরবাসী সেটা পাচ্ছেন কি না?’ এরকম একটা পোস্ট দিলে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করেছেন। অনুমান নির্ভর মন্তব্যই বেশি। আফিয়া তাসনিম ঈশা বলেছেন, সারাদিনে মাত্র ৪০% বিদ্যুৎ পেয়েছি। মোঃ সেলিম মিয়া বলেছেন, এখন আর মানুষ বিদ্যুৎ থাকা নিয়ে চিন্তা করে না। শুধু অপেক্ষা করে ১৫-২০ মিনিটের জন্য কখন আসবে। মুফতী আনোয়ার হুসাইন বলেছেন, ভাইটকান্দি হিটারে তুলনামূলক ২০% বিদ্যুৎও পাওয়া যায় না। আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন- আমাদের সিংহেশ্বর ইউনিয়নে ৬০% এর মত বিদ্যুৎ থাকে। আসাদ খান বলেছেন, বওলা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামে ফজরের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। আর বাকি সময় থাকে না। তবে এগুলো সবই অনুমান নির্ভর মন্তব্য। আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় আমি যখন লিখছি তখন দেড় ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। তাই মনে করলাম এখনই বিষয়টা নিয়ে লেখা দরকার।
ময়মনসিংহের ফুলপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোফাজ্জল হোসেনের কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে লোড শেডিং কেন হয়? ফুলপুরবাসীর জন্য বিদ্যুৎ যতটুকু বরাদ্দ রয়েছে তা তারা পান কি না? এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, এটা একটা instant issue. বিদ্যুৎ আগে থেকে এনে জমিয়ে রাখার মত বিষয় না। যখন চাহিদা হয় তখনই এর ব্যবস্থা করা হয়। তবে যেখান থেকে আমাদেরকে বিদ্যুৎটা সরবরাহ করা হয় সেখানে টেকনিকালি কোন সমস্যা থাকলে এখানেও বিদ্যুৎ পেতে সমস্যা হয়। গ্যাস না থাকলে বা যান্ত্রিক কোন ত্রুটি থাকলে বিদ্যুৎ পেতে লেইট হতে পারে। বিদ্যুৎ চুরি হয় কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ, চুরি হয়। গত এক বছরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আমরা অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছি। শুধু গত মাসেই আমরা ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছি। বললাম যে, তাহলে আপনারা যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা পেশ করেন সেই পরিমাণ থেকে যখন চুরি হয়ে যায় তখনই তো প্রকৃত গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বিদ্যুৎ পাবেন না। বিষয়টি যদিও তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেননি তবু আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বিদ্যুৎ না পাওয়ার পেছনে এটা একটা অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত জানতে চাই।