অনলাইন ডেস্ক :
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হন শহীদ সুলায়মান হুসাইন। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সুলায়মান।
সেদিন সকাল বেলা বাসা থেকে মায়ের কাছ থেকে আন্দোলনে যাওয়ার জন্য বিদায় চেয়েছিলেন সুলায়মান কিন্তু তার মা তাকে বিদায় না দিয়ে বার বার নিষেধ করছিলেন। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্দোলনের উদ্দেশ্যে ছাত্রদের সাথে ঢাকায় চলে যান সুলায়মান। সারাদিন মোবাইলে চেষ্টা করার পরে বিকালে আসরের পর থেকে যখন ওর মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাচ্ছিলো পরিবারের সদস্যরা, তখন তার মা তার বোন জামাইকে ফোন দিয়ে বলছিলেন সারাদিন কল দিলাম রিসিভ করল না।
এখন তো সোলায়মানের মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি, তুমি একটু ফোন দিয়ে দেখো তো পাও কিনা। জামাই তখন শাশুড়িকে বললেন টেনশন করিয়েন না, হয়তো কোথাও আনন্দ মিছিল করছে বা গণভবনসহ ঢাকার দিকে আনন্দ করছে রাত্র পর্যন্ত অপেক্ষা করেন বাসায় চলে আসবে।
রাত্র যখন ১০ টা বাজে তখন আবারও সুলায়মানের মা জামাইকে ফোন দিয়ে বললেন, বাবা, ১০ টা বেজে গেল এখনও তো সুলায়মান বাসায় আসলো না। আমার তো টেনশন হচ্ছে কি করব, বুঝতেছিনা।
তখন জামাই আবারো তার শ্বাশুড়িকে সান্তনা দিয়ে বললেন রাত্র ১২ টা পর্যন্ত দেখেন, মনে হয় রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া চলতেছে না। হেঁটে হেঁটে আসতেছে। এজন্য হয়তোবা দেরি হচ্ছে।
শ্বাশুড়িকে একথা বলে সান্ত্বনা দিলেও ভেতরে ভেতরে তিনিও অনেক টেনশন করছিলেন। কি করবেন? কোথায় খুঁজবেন? ভেবে কূল পাচ্ছিলেন না। এ ব্যাপারে জামাই বলেন, পরে চিন্তা হল দিনের বেলা শুনেছি যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের সাথে গোলাগুলি হয়েছে। সেখানে খবর নিয়ে দেখি তো। সেখানে আমার এক বড় ভাই এবং আরও একজন ভাইকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিলাম। যাত্রাবাড়ীর কি অবস্থা? তখন তারা বলল, যাত্রাবাড়ীতে ভয়াবহ গোলাগুলি হয়েছে এবং সেখানে অনেকগুলো লাশ পড়ে আছিল দীর্ঘক্ষণ। তখন ভাইকে বললাম, সুলায়মানকে পাচ্ছি না। বাসায়ও এখনো যায়নি। তখন উনি বললেন, ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারো।
এরপর আমি বললাম, ভাই আপনি ঢাকা মেডিকেলে চলে আসেন আর আমিও বাসা থেকে বাইক নিয়ে বের হচ্ছি।
তারপর ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে খুঁজতে লাগলাম। অবশেষে মেডিকেলের মর্গে গিয়ে দেখি হাফেজ সুলায়মানের লাশ সেখানে পড়ে আছে।
হঠাৎ করেই রক্তমাখা শরীর আর গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। নিজেও খুব ভেঙে পড়লাম। যাক, কি আর করা। ঢাকা মেডিকেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় নিয়ে আসলাম সুলায়মানকে।
বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে হাফেজ সুলায়মান। তার বাবা থাকেন সৌদি আরবে। শুধু মা আর ছেলেই থাকতেন বাসায়।
মা তার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন প্রায় পাগল প্রায়। দেশে মূল অভিভাবক না থাকায় আমি তার বোন জামাই হিসেবে একমাত্র অভিভাবকের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করছি। এ ব্যাপারে আমি নিজেও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
সকলের কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ পাক যেন আমার এই ছোট ভাইটিকে শহীদি মর্যাদা দান করেন এবং তার শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য্যধারণ করার তাওফীক দান করেন।
* অনলাইন থেকে নেওয়া।