
মো. আব্দুল মান্নান :
ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ময়মনসিংহের ফুলপুরে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন দুইদিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ও এসব এলাকায় বেশ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৭ মে) ভোররাত আনুমানিক ৪টা থেকে মঙ্গলবার (২৮ মে) ভোররাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ঝড় তুফান, হালকা ও কখনো ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
ওই সময় থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাগাতার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এলাকায়। এতে হাজারো পরিবারের ফ্রিজে রাখা লাখ লাখ টাকার গোশত, মাছ ও স্টক মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ট্যাংকির পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রোগী, শিশুসহ ও মসজিদের মুসল্লীদের অজু ইস্তেঞ্জায় ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিন এলাকা পরিদর্শনে গেলে নজরে পড়ে গাছগাছালি ভেঙে সড়কে ও বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে আছে। বিভিন্ন ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড, বিল বোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুন ভেঙে ছিঁড়ে উড়ে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েছে। গ্রামেও এ ধরনের দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনুমান করা হচ্ছে এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলপুর পৌরসভার শেরপুর রোডে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স জালাল এন্টারপ্রাইজের সাইন বোর্ড, হক অটোসের সাইন বোর্ড, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ফুলপুর জোনাল অফিসের সাইন বোর্ড, অগ্রণী ব্যাংকের ছাদে থাকা একটি পিভিসি কোম্পানির বড় বিল বোর্ড, মার্সেল শো রুমের ডিজিটাল সাইন বোর্ড, সৈয়দ মার্কেটের ছাদের বিল বোর্ড, শেরপুর রোড মোড়ে মেসার্স মনোয়ার মেডিসিন কর্ণার, টং দোকান, চা স্টল, মেসার্স সুরুজ পেইন্ট অ্যান্ড হার্ডওয়্যার সংলগ্ন দোকানের ডিজিটাল সাইন বোর্ড, ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল সাইন বোর্ড ও আঞ্জুমান সুপার মার্কেটে ভিভো মোবাইল জোনের ডিজিটাল সাইন বোর্ডসহ বিভিন্ন বিল বোর্ড ও সাইন বোর্ড ঝড় তুফানে ভেঙে গেছে।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবন এলাকায় বেশ কিছু গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। মহিলা কলেজ রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাইতুল কুরআন মাদরাসা সংলগ্ন স্থানে বিদ্যুতের তারের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। এসব গাছ সরিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে ফুলপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া মনে হয় সম্ভব হবে না। কারণ বিভিন্ন জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। এগুলো ঠিক না করে সংযোগ দেওয়া যাবে না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঝড় তুফান অব্যাহত রয়েছে।