• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
Headline
হালুয়াঘাটে প্রবীণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান আর নেই, জানাজা শুক্রবার ফুলপুরে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের ধরপাকড়, তিন দিনে গ্রেফতার ১১ আশ্রয়হীন নজরুলের জীবন : সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি হ্যাচারি ও খামার মালিকদের মাঝে পোনা বিতরণ করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ময়মনসিংহ উত্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন রেলপথ নির্মাণের দাবিতে রেলমন্ত্রীকে ডিও দিলেন প্রিন্স ফুলপুরে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মাদরাসার ছাত্র আব্দুর রহমান, অভিনন্দন ২৭ জুন ১১ দলীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে বিকেএম ময়মনসিংহ জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অবশেষে শিক্ষক হাজিরা খাতায় নামের ক্রম ফিরে পেলেন নাছরীন ম্যাডাম ময়মনসিংহ-শেরপুর রেললাইন তারাকান্দা, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট হয়ে নির্মাণের দাবিতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ থেকে ফুলপুর হয়ে শেরপুর পর্যন্ত রেললাইন দিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ

মোঃ আব্দুল মান্নান / ১৪৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ চেয়ে স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেছেন- আমরা একটা সংবাদ পেলাম যে, ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর রেললাইন অনুমোদন হয়েছে। মাননীয় রেলমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো- এ রাস্তাটা যেন জামালপুর থেকে শেরপুর না হয়ে ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দা, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট হয়ে শেরপুর পর্যন্ত হয়। তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, মাননীয় স্পীকার, আমরা বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষ সবসময় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এটা আপনিও জানেন, আমিও জানি সামনে যারা আছেন তারাও জানেন। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে হয়তো আমি এই বেঞ্চে না থেকে ওই বেঞ্চে থাকতাম। যাক, আমি আপনাকে আমাদের অভিভাবক মনে করি। আপনি অভিভাবক হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে আমাদেরকে অবদান রাখার সুযোগ দিবেন, ইনশাআল্লাহ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শুরুতে সালাম দিয়ে বক্তব্যে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় স্পীকার, হাদীসে একটি বাক্য আছে, তুমি যদি কাউকে ভালোবাস তাকে জানিয়ে দাও। এই সংসদের সকল সদস্যদের সামনে ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি’ এটা জানিয়ে দিলাম। এসময় সবাই হাততালি দিয়ে তাকে সাধুবাদ জানান। স্পীকার হেসে দিয়ে বলেন- ‘অসংখ্য ধন্যবাদ।’ এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ময়মনসিংহে একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে অসংখ্য মানুষের সামনে উনার আসনে বসিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলে সম্বোধন করে তিনি আমাকে সম্মানিত করেছিলেন। আপনার মাধ্যমে তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই।
মাননীয় স্পীকার, আমার দল ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’ -এর আমীর আল্লামা মামুনুল হক জোর করে আমাকে ইলেকশনে নামিয়েছিলেন। যে কারণে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। এজন্য আল্লামা মামুনুল হককেও আমি ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই ফুলপুর তারাকান্দার মানুষগুলোকে যারা তাদের দুঃখ কষ্ট ও মনের কথাগুলো সংসদে বলার জন্য আমাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।
মাননীয় স্পীকার, এই ভঙুর অর্থনীতিতে আমাদের অর্থমন্ত্রী হৃষ্টপুষ্ট এবং হ্যান্ডসাম একটি বাজেট ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি, বাজেটটা সবদিক থেকে ভালো না হলেও মোটামুটি তুলনামূলক ভালো। এই সংসদে বহুবার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এসব বাজেট স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমি আশা করি, এ বছর বাজেট বাস্তবায়ন হবে। এসময় তিনি হাদীসের অংশ ‘খাইরুন্নাস, মাইয়্যানফাউন্নাস যে মানুষের কল্যাণ করে সে সবচেয়ে উত্তম মানুষ’ শুনিয়ে বলেন- সংসদ সদস্যরা মানুষের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। আশা করি তারা সেটা করবেন।
এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ স্পীকারের কাছে সময় বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, যে অর্থনীতির উপর আমাদের এদেশ দাঁড়িয়ে আছে, এই অর্থনীতির উপর সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়। লুটপাট না হলে এদেশের উন্নয়নের জন্য ৫৪ বছর অপেক্ষা করা লাগতো না। গত ৫৪ বছর ধরে এদেশের মানুষ সাফারার হচ্ছে। যারা জনপ্রতিনিধি হন বিশেষ করে অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন যারা ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত থাকার কারণে গত ১৭ বছরের ইতিহাস আপনার আমার সামনে আছে। আমি এ বছরের সাড়ে ৩০০ এমপিমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ করবো- ৫টা বছর জনগণের জন্য আপনারা মেহনত করুন। ৫টা বছরের এ অর্থ বরাদ্দ জনগণের পিছনে ব্যয় করুন। আপনারা খেয়ানত না করেন তাহলে এই ১ বছরের বাজেটের টাকা দিয়ে আমাদের গৈ-গেরামে ৫ বছরের সমান উন্নয়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় স্পীকার, আপনার মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট একটা ছোট্ট আবদার থাকবে সেটা হলো- আপনারা জানেন, বিএনপি যখন থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের কওমী ঘরাবার মানুষ তাদের সাথে তখনও ছিল এখনো আছে কিন্তু বিগত সময়ে কওমী ঘরানার মানষদের জন্য কখনো কোন বরাদ্দের কথা আসেনি। এ বছর আমরা ভেবেছিলাম, যেহেতু বিএনপি ইসলামপন্থী দল, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তাই তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে যেভাবে অর্থ বরাদ্দের মধ্যে এনেছে কওমী অঙ্গনকেও সেভাবে এ বরাদ্দের মধ্যে আনবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কওমী ঘরানার আলেম উলামা ও ছাত্রদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা তাদেরকে কোন গ্রহের মানুষ মনে করে তা বুঝে আসে না। মাননীয় স্পীকার, আপনার মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট সবিনয় অনুরোধ করবো- কওমী ঘরানার আলেম উলামা ও ছাত্রদেরকেও আপনাদের এই অর্থমন্ত্রণালয়ের একটা বাজেট দিয়ে তাদেরকেও এদেশ উন্নয়নের কাজে লাগানো হোক।
স্পীকারের উদ্দেশ্যে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় স্পীকার, আপনি যে এলাকার এমপি আমিও এর কাছাকাছি এলাকার এমপি। আপনার এলাকায় যত সমস্যা, যেসব সমস্যা আছে, আমার এলাকায়ও তত সমস্যা। লক্ষ লক্ষ মানুষের শুধু একটা ফোনই আসে, সেটা হলো- বৃষ্টির দিনে মানুষ কোথাও চলাচল করতে পারে না। প্রতিটা রাস্তাঘাটে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। রিকশা উল্টে অনেক মানুষ এক্সিডেন্ট করে। এসময় স্পীকার এমপির সময় বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমি আপনার এলাকা হয়ে যাই। আপনার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা তো আছেই। তাই ২ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, আপনার পক্ষ থেকে আরও ২ মিনিট চাই, মাননীয় স্পীকার। এসময় সবাই হেসে দেন। এমপির রসিকতাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে আনতে হলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন লাগবে। আমার এলাকায় ২ থানায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা। যতটুকু পাকা আছে সেটাও এখন অচল। এসময় তিনি সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী, আমার দিকে একটু নজর দিবেন। আমার এলাকার মানুষের চলাচলের একটা সুব্যবস্থা করে দিবেন, ইনশাআল্লাহ। এরপর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। আমি আপনার প্রতি অনেক সন্তুষ্ট, খুশি। আমাদের এলাকার যতগুলো স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এগুলোতে ভবন নেই। শিক্ষক নেই। তাদের ভালো ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। কারেন্টের ব্যবস্থা নেই। বাচ্চারা অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে। শিক্ষা খাতে আপনি যে বড় বরাদ্দ পেয়েছেন উহার যেন সুষম বণ্টন হয়। আমি যেন আমার এলাকার প্রাপ্য সঠিকভাবে পাই। যা দিয়ে আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে কাজ করতে পারি।
মাননীয় স্পীকার, আমার এলাকায় ২টা থানা ও ১টা পৌরসভা আছে। পৌরসভা যেন ইউনিয়নের মত। কোন উন্নয়ন নেই। রাস্তাঘাট নেই। ড্রেন নেই। ফুলপুর থানা ও পৌরসভার মানুষগুলো বৃষ্টির সময় চলাচল করতে পারে না। এসময় প্রত্যেকটা পৌরসভার উন্নয়ন দাবি করে সি গ্রেডের পৌরসভাগুলোকে এ গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, তারাকান্দাও বিশাল একটা বাজার এবং বিশাল জনগোষ্ঠী এখানে বসবাস করে। এখানে একটা পৌরসভা না থাকায় এলাকাটা গ্রামের এলাকার মত। ইউনিয়ন পরিষদের মত। রাস্তাঘাট নেই, ড্রেন নেই। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ চলাচল করতে পারে না।
মাননীয় স্পীকার, আপনার মাধ্যমে তারাকান্দার যেমন উন্নয়ন চাই, তেমনিভাবে তারাকান্দাকে পৌরসভা ঘোষণা করা হোক এ দাবি জানাই।
এরপর এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, মাননীয় স্পীকার, স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আমি কথা বলেছিলাম। আমি শুনেছি, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল অনুমোদন হয়েছে। এসময় হঠাৎ মাইক বন্ধ হয়ে যায়। মাইক চালু হলে স্পীকার বলেন, ডানদিক থেকেও চাচ্ছে আপনাকে সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ভালো জনপ্রিয় মানুষ। নেন ১ মিনিট বাড়িয়ে দিলাম।
সবশেষে রেললাইন নির্মাণ বিষয়ে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ রেলমন্ত্রীর নিকট দাবি জানিয়ে বলেন- জামালপুর থেকে নয় বরং ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দা, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট হয়ে শেরপুর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হোক। তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা