কামরুল ইসলাম খান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে হারানো মোবাইল উদ্ধার করে দিয়ে মোবাইল মালিকদের মুখে হাসি ফোটালেন ফুলপুর থানার এএসআই মো. তানিমুল ইসলাম। এ থানায় যোগদানের পর থানার চৌকস ওসি মোঃ আব্দুল হাদির দিক নির্দেশনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মোবাইল মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা কড়ইতলা গ্রামের আব্দুল জব্বার মেম্বারের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলামের ওয়ালটন গ্রুপের বিভিন্ন মডেলের ৭টি মোবাইল তার দোকান থেকে হারিয়ে যায়। পরে তিনি এ ব্যাপারে ফুলপুর থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
এ ডায়রি মূলে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান শুরু করেন এএসআই তানিমুল ইসলাম। ফুলপুর থানার ওসি মোঃ আব্দুল হাদি তাকে এ দায়িত্ব দেন। বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সময় তানিমুলকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। তখন বিভিন্ন জনের সহযোগিতাও তাকে নিতে হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে এএসআই তানিমুল ইসলাম বলেন, চাকরিজীবনে এটা আমার বিশেষ সফলতা। এ ব্যাপারে প্রথমেই আমি আমার ওসি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। এছাড়া কাজটি করতে গিয়ে তারাকান্দা থানার এসআই জাহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের এএসআই মাইন উদ্দিনের কাছেও আমি বিশেষভাবে সহযোগিতা পেয়েছি। তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মোবাইল হাতে পেয়ে কেমন লাগতেছে জানতে চাইলে, রহিমগঞ্জে ধন্তা কড়ইতলা গ্রামের মঞ্জুরুল বলেন, আসলে আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।

জানতাম যে, হারিয়ে ধন খুঁজলে আর পাওয়া যায় না কিন্তু ফুলপুর থানার ওসি স্যার ও এএসআই তানিমুল ভাইয়ের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মোবাইলগুলো পেয়ে কী যে খুশি হয়েছি তা বুঝাতে পারবো না।
ফুলপুর থানার ওসি মোঃ আব্দুল হাদির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৯ ও ১০ আগস্ট দুদিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে এবার ৭টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর আগেও আমরা আরও ৩৭টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিতে পেরেছি। হারানো মোবাইল পেয়ে মালিকরা খুব খুশি। উদ্ধার কাজে আমাদের এএসআই মো. তানিমুল ইসলামের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, মূলতঃ মানুষের সেবা দেওয়াই পুলিশের কাজ। তাই যে কোন সমস্যায় আপনারা পুলিশকে স্মরণ করুন, পুলিশি সেবা নিন।