অনলাইন ডেস্ক :
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর এলাকায় কর্মরত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কেটু মিজান, স্বাধীন ও গোলাপী। জানা যায়, র্যাব-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেটু মিজান জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার মাহমুদপুর গ্রামের মোবারক মিয়ার পুত্র। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তার মঞ্জু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কেটুর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত এক নারীসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশ। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দা, ছুরি ও চাপাতি হাতে সন্ত্রাসীদের দেখা গেছে।
পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) তাহেরুল হক চৌহান।
ঘটনার শুরুতে ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন নারী। তার নাম গোলাপি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফুটেজে চাপাতি হাতে দাড়িওয়ালা এবং মাথায় ক্যাপ পরা কোপানোর জন্য দৌড়াচ্ছিলেন ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজন, ফুটেজে যাকে সাদা শার্ট ও জিনসের প্যান্ট পরা চাপাতি হাতে দাঁড়ানো দেখা গেছে সেই যুবক স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়, ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান ও গোলাপি স্বামী-স্ত্রী।
তাদেরকে শুক্রবার মহানগরীর সদর থানা মেট্রোর সালনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছিল।
সাংবাদিক তুহিন হত্যার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছিল। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পর আসামিদের শনাক্ত করা এবং তাদের অবস্থান জানার জন্য চেষ্টা অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মসজিদ মার্কেটের ভেতর প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের পুত্র। তুহিন স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।