• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
Headline
ফুলপুরকে ফুল দিয়ে সাজাতে চান পৌর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম ফুলপুরে চুরির অভিযোগে আটক ২, মালামাল উদ্ধার নেতৃত্বের অনুভূতি থাকা ব্যক্তিই প্রকৃত লীডার –আল্লামা মামুনুল হক হুজুর আমাকে বলছিলেন, ‘যা, তোকে আমি সবটুকু ভালবাসা দিয়ে গেলাম’ — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুরে ৫ম শ্রেণির কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ফুলপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২ তারাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু ময়মনসিংহ মার্কাজের মুরুব্বি কৃষি ভার্সিটির প্রফেসর হাফেজ হাফিজ উদ্দিন স্যার আর নেই হেমায়েতপুরে উলামা ও সালেকীনদের খাস মজলিস অবসরজনিত বিদায় নিলেন ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাফিজুর রহমান

ছবি ও জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশ গ্রহণ

Reporter Name / ৫৪ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক :

চৌদ্দ. ধরে নিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, যেটার সাথে আমার দায়িত্ব এবং অধিকারের সরাসরি সম্পর্ক। কিন্তু জেলা প্রশাসক একজন নারী এবং বেপর্দা নারী। এখন আমার কী করনীয়? জেলা প্রশাসক নারী বলে আমি আমার অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব কিংবা আমার অবধারিত অধিকার ফেলে রেখে চলে আসবো? অনেকে সেটা করতে পারেন, আমি সেটা নিয়ে মন্তব্য করবো না। কিন্তু আমি সেখানে আমার দায়িত্ব পালন ও আমার অধিকার আদায়ের জন্য যতটুকু সম্ভব, সীমার মধ্যে থেকে করে যাবো।

একটা সময় ছিল পাসপোর্ট করতে হলে ছবি তুলতে হবে বলে অনেক বুযুর্গানেদ্বীন পাসপোর্টই করতেন না। অনেক আল্লাহওয়ালার কিংবদন্তি শোনা যায়, শেষ পর্যন্ত নাকি তাদের জন্য ছবিবিহীন পাসপোর্ট-এর ব্যবস্থা করে তাদের হজ সফরের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা সবাই পাসপোর্ট-এর প্রয়োজনে ছবি তুলি।

বিমানে সেবা দেয়ার জন্য নারী বিমান বালা থাকে বলে সেই বিমানে আমরা হজ সফর কিংবা ভ্রমণ করতে আপত্তি করি না।

নারীরা সংসদে আছে বলে আমরা সংসদে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কার্পণ্য করি না, এগুলো সময়ের বাস্তবতা।

বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নারীর উপস্থিতির বিষয়টিও এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও অধিকার অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাফেজ্জী হুজুর রাহিমাহুল্লাহকে আমরা দেখেছি, ছবির ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থেকেও কখনো নিজের ছবি তোলার অনুমতি দেননি। বরং মঞ্চে সাংবাদিকদের ছবি তোলার সময় মাথায় রুমাল দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন। তাই, অরাজনৈতিক আলেম-ওলামা অনেকে ছবির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, খতীব ওবায়দুল হক, আল্লামা আহমদ শফী, মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করিম, মুফতি আমিনী তারা কেউই ছবির তোলার ক্ষেত্রে সেই কঠোর জায়গায় থাকেননি।

এমনি ভাবে রাজনীতির মঞ্চে নারীর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে নিজেদের প্রস্থান না করারও বেশ লম্বা ইতিহাস রয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের শতবর্ষের সম্মেলনমঞ্চে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দেওবন্দের শীর্ষ আলেমগণ। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, মুফতি আমিনী, মুহিউদ্দিন খান প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ বেগম জিয়া ও বিএনপির নারী নেতৃবৃন্দের সাথে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। আল্লামা আহমদ শফী, শাইখুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী নারী প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন।
আর এক্ষেত্রে পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কিংবদন্তি নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে এমন অসংখ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন।

আমার মনে পড়ে আজ থেকে প্রায় ৩৫/৪০ বছর আগের কথা। তখন পাকিস্তানের রাজনীতিতে মাওলানার সূচনা পর্ব। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তখন তুমুল আলোচিত মুখ বেনজীর ভুট্টো। বেনজীর তখনো প্রধানমন্ত্রী হননি। একেবারেই অল্প বয়স্কা যুবতী নারী। মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবও কুচবর্ণের শশ্রুমণ্ডিত সুদর্শন যুবক। শাসক দলের বিরুদ্ধে তিনি রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে তুললেন বেনজীর ভুট্টোর সাথে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমে পিপিপি নেত্রীর সাথে জমিয়ত নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হয়। এটা নিয়ে কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে বেশ ট্রল হতো। সেটা যোগাযোগ মাধ্যম আবিষ্কার হওয়ার বহু পূর্বের কথা। আমার মনে আছে অনেক মৌলভীরা বেনজীর ভুট্টোর সাথে মাওলানার ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের ছবির দিকে ইঙ্গিত করে খালওয়াতে সহীহা হয়েছে কিনা মর্মে বিকৃত রুচির প্রশ্ন ছুড়ে দিত। এমন তরো উপহাস করে অনেকেই বিকৃত মজা লুটত। সেই থেকে অদ্যাবধি মাওলানা চলছেন তার গতিপথে। বেনজীর ভুট্টো থেকে মারয়াম নওয়াজ কারো উপস্থিতির কারণেই মাওলানা নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রস্থান করেননি।

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার লক্ষ্যে কদম ফেলতে গিয়ে অনুভব করছি যে, জাতীয় রাজনৈতিক বন্দোবস্তের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রয়োজনে নারীদের জন্য নিজেদের পৃথক কর্মপরিকল্পনা এবং অন্যান্য দলগুলোর সাথে রাজনীতি করার সময় তাদের নারী কর্মীদের বিষয়টি সুন্দর ভাবে ডিল করা আমাদের জন্য সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
আমরা এক্ষেত্রে দারুল উলুম দেওবন্দের শতবর্ষ সম্মেলনে ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতি থেকে নিয়ে জমিয়ত নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের রাজনৈতিক তৎপরতার দৃষ্টান্তগুলোকে আপাতত নিজেদের সামনে রাখছি।

পনের. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চলমান রাজনৈতিক অগ্রগতির সাথে নতুন সংযুক্ত হচ্ছে নারীদের মধ্যে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারের উদ্যোগ। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
প্রাথমিকভাবে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে-
এক) নারী সমাজের মধ্যে দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হবে। তাদেরকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বশীলতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি কার্যকরী বিভাগের উপযোগী করা হবে। আগামী শুক্রবার ইনশাআল্লাহ প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুই) দেশব্যাপী সংগঠনের জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে জেলা পর্যায়ে নারীদেরকে কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে দ্রুতই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

তিন) অফলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে নারী সদস্য সংগ্রহ করা হবে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য সংগৃহীত হলেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় টিমের তত্ত্বাবধানে ঘরোয়া আয়োজনে কর্মসূচি পালন শুরু করা হবে ইনশাআল্লাহ।

* লেখক

আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

বি. দ্র. তথ্য ও ছবি Mamunul Haque নামে ফেইসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা