• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
Headline
ফুলপুরকে ফুল দিয়ে সাজাতে চান পৌর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম ফুলপুরে চুরির অভিযোগে আটক ২, মালামাল উদ্ধার নেতৃত্বের অনুভূতি থাকা ব্যক্তিই প্রকৃত লীডার –আল্লামা মামুনুল হক হুজুর আমাকে বলছিলেন, ‘যা, তোকে আমি সবটুকু ভালবাসা দিয়ে গেলাম’ — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুরে ৫ম শ্রেণির কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ফুলপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২ তারাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু ময়মনসিংহ মার্কাজের মুরুব্বি কৃষি ভার্সিটির প্রফেসর হাফেজ হাফিজ উদ্দিন স্যার আর নেই হেমায়েতপুরে উলামা ও সালেকীনদের খাস মজলিস অবসরজনিত বিদায় নিলেন ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাফিজুর রহমান

হুজুর আমাকে বলছিলেন, ‘যা, তোকে আমি সবটুকু ভালবাসা দিয়ে গেলাম’ — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ

মোঃ আব্দুল মান্নান / ৩৬ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

১৪৭, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট শাইখুল হাদীস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হকের পিতা আল্লামা আযীযুল হক (রহ.) সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘শাইখুল হাদীস (রহ.)-এর যে ভালবাসায় আমি ধন্য’ শিরোনামে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন-
‘​২০০১ সাল। হুজুর এবং আমিনী (রহ:) জেল থেকে সবেমাত্র বের হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে উনাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের ময়মনসিংহের বড় বড় উলামায়ে কেরাম বিশেষ করে ময়মনসিংহ বড় মসজিদের বড় হুজুর, হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা সাদী সাহেবসহ আরো অনেকেই দুটো মাইক্রোবাস ভাড়া করে উনাদের সাক্ষাৎ এবং সংবর্ধনার বিষয়ে কথা বলতে ঢাকায় আসেন।
​সাক্ষাৎ পরবর্তী সংবর্ধনা বিষয় আলাপচারিতায় শাইখুল হাদিস (রহ:) জানতে চাইলেন, “আপনারা কোন ব্যানারে আমাকে সংবর্ধনা দিতে চান?” তখন মাওলানা সাদী সাহেব বললেন, “ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে।” হুজুর জানতে চাইলেন, “সেটা কেন?” তিনি উত্তরে বললেন, “আমরা ময়মনসিংহের উলামায়ে কেরাম কোন রাজনীতির জালে বন্দি হতে চাই না।” হুজুর বললেন,
​”আমি রাজনীতির কারণে জেল খেটেছি, সংবর্ধনা দিলে রাজনৈতিক ব্যানারেই দিতে হবে অন্যথায় সংবর্ধনা আমি নিতে পারবো না।”
এরপর ​উলামায়ে কেরাম চলে গেলেন মুফতী ফজলুল হক আমিনী (রহ:) -এর বাসায়। সেখানে আলাপচারিতার পর সিদ্ধান্ত হল- শুধু আমিনী (রহ:)কেই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দিন তারিখ ঠিক হলো। সংবর্ধনা দেওয়া হল। কিন্তু হুজুরের সংগঠনের সদস্যগণ সাদী সাহেবদেরকে ডিঙিয়ে, রাজনৈতিকভাবে হুজুরকে সংবর্ধনা দিবেন, সে সাহস এবং জনবল কোনটাই ছিল না।
​কিন্তু আমি অধম নাছোড়বান্দা মনকে প্রবোধ দিতে পারছিলাম না। কি করে হুজুরকে ময়মনসিংহে রাজনৈতিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া যায় এবং ময়মনসিংহবাসীর ও হুজুরের মনের আশা পুরা করা যায় সে চিন্তা মাথায় নিয়ে মাঠে নেমে পড়লাম। সাথে নিলাম ছাত্র মজলিসের কয়েকজন তরুণ যুবকদেরকে; যার মধ্যে— শামীম, মশিউর, মুজাহিদ ও মনিরসহ ১০-১২ জন। যার সার্বিক সহযোগিতায় সংবর্ধনার কাজ সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়েছি, তিনি হলেন সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন খান দুলু ভাই।
​অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছিল যে, পুরা এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল। যারা শাইখুল হাদীস (রহ:)-কে সংবর্ধনা দিতে অস্বীকার করেছিল তারাও সেদিন অনুষ্ঠান দেখতে এসে হতবাক হয়েছিল। কিন্তু তাদের অনেককেই স্টেজে উঠতে দেইনি। লজ্জিত হয়ে ফিরে গিয়েছিল। যতদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলাম ততদিন তারা আমাকে দেখে বিড়ালের মত পালিয়ে যেত।
​হুজুর আমাকে বলেছিলেন, “তুই একা এত বড় হিম্মত কি করে করলি?” আমি বলেছিলাম, “হুজুর আপনার মুহাব্বত আর ভালোবাসা।” হুজুর আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ​”যা, আমি তোকে সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম।”
​হুজুরের সেই ভালোবাসাকে পুঁজি বানিয়ে কঠিন বাস্তবতার দুনিয়া অতিক্রম করে চলেছি। হে আল্লাহ, মরহুম শাইখুল হাদিস (রহ:)-এর মাকবারাকে জান্নাতের আলো দ্বারা আলোকিত করে দাও। আর আমাদের মত নাদানদেরকে মরহুমের দেখানো পথে চলার তাওফিক দাও। আমীন।”

​* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা