• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা এমপিকে হেনস্থার অভিযোগসহ হামলা ও মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল ফুলপুরে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদরাসা) নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান নেত্রকোনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীলদের সভা হালুয়াঘাটে নতুন ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন তার একজন কর্মী মুরগী জবাই করে রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে — মোতাহার সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে সে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায় — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ তারাকান্দায় পহেলা বৈশাখে এমপি হেনস্থার অভিযোগসহ গুরুতর আহত ২ পহেলা বৈশাখ হোক গুনাহ থেকে ফিরে আল্লাহর পথে নতুনভাবে চলার অঙ্গীকার যাকাত সংগ্রহে সারাদেশে ফুলপুর চতুর্থ

ভুল রিপোর্টে রোগী ভোগান্তি : রোগীর স্বজন, রিপোর্ট সঠিক : আল্ট্রা ডাক্তার, আসলে কে সঠিক? এক্সপার্টদের মতামত ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ  

Reporter Name / ১২৪ Time View
Update : রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
মাহফুজুর রহমান (১৮) নামে এক রোগীর স্বজন মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আল্ট্রা ডাক্তারের ভুল রিপোর্টের কারণে আমরা মানসিক ও আর্থিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছি। আমি এর ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। কিন্তু অভিযুক্ত  ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আল্ট্রা বিষয়ক ডা. জয় বলেছেন, রিপোর্ট  সঠিক দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম ব্যথাটা যখন হয়, তখন অ্যাপেনডিসাইটিস পাওয়া যায় কিন্তু এটা কমে গেলে নিচে নেমে যায়। পাওয়া যায় না। এছাড়া মেশিনে ঝামেলা থাকলেও অনেক সময় উল্টাপাল্টা রিপোর্ট আসে।’ ‘আপনি যে মেশিন দিয়ে টেস্ট করিয়েছেন এতে কোন ঝামেলা আছে কি?’  সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না। এ রোগীর ব্যাপারে আমার বক্তব্য আগেরটাই।’
এমনকি তার পক্ষে মত দিয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আল্ট্রা বিষয়ক ডা. সজিব। ডাক্তার সজিবের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডা. জয় যা বলেছেন তা সঠিক।’ কিন্তু মানতে নারাজ রোগী মাহফুজের ভাই মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ব্যাথাটা কমে গেলে যদি অ্যাপেনডিসাইটিস নিচে নেমে যায়, পরবর্তী টেস্টে ধরা না পড়ে তাহলে ব্যাথা কমা পর্যন্ত ডাক্তার রোগী বা তার অভিভাবককে অপেক্ষা করার উপদেশ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো তা দেননি। এমতাবস্থায় অধিকাংশ রোগীর অভিভাবকরা দ্রুত অপারেশন করিয়ে ফেলেন। তিনি আরও বলেন, যদি প্রকৃতপক্ষে অ্যাপেনডিসাইটিস হতো তাহলে টেস্টে উহা সবসময়ই পাওয়া যেতো। আসলে অ্যাপেনডিসাইটিস হয়নি। অযথা ভুল রিপোর্ট দিয়ে রোগী হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রোগীর স্বজনদের পেরেশানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
গত ১৪ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়,  তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানার ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান (১৮) কেরানীগঞ্জের জামিয়া হাকিমিয়া  কওমি মাদরাসার ৭ম জামাতের শিক্ষার্থী হঠাৎ তার পেটে ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল্ট্রা করাতে বলেন। আল্ট্রা করার জন্য তাকে সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। ডা. জয় সেখানে এক্সট্রা ডিউটি করেন ও আল্ট্রার রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। রিপোর্টে ডা. জয় মাহফুজের ‘অ্যাপেনডিসাইটিস’ হয়েছে বলে জানান। এ খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে পেরেশানি নেমে আসে এবং তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে একটি টেস্ট দিলে টেস্টের রিপোর্টে আল্ট্রা বিষয়ক ডা. মঈনুল হোসেন নরমাল অবস্থার কথা জানান। এ খবরে রোগীর পরিবারে স্বস্তি নেমে আসে কিন্তু এরই মাঝে চলে গেছে তাদের প্রায় ৮ হাজার টাকা। ফলে রোগী মাহফুজের ভাই মাসুদ রানা ফুলপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রিয়াদের নিকট এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু পরিচালক রিয়াদ বলেন, ক্ষতিপূরণ আমি দিব কেন? টেস্টের রিপোর্টে কোন ত্রুটি থাকলে সেটা ডাক্তারই ভাল বলতে পারবেন। কেন ত্রুটি হয়েছে?  এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগলে তিনি দিবেন। কেননা, আমরা উনাকে বেতন দিয়ে রেখেছি, সঠিক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। ভুল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নয়। এটা তো আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন ত্রুটি নয়। পরে ডা. জয়ের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রথম ব্যথাটা যখন হয়, তখন অ্যাপেনডিসাইটিস পাওয়া যায় কিন্তু এটা কমে গেলে নিচে নেমে যায়। পাওয়া যায় না। এছাড়া মেশিনে ঝামেলা থাকলেও অনেক সময় উল্টাপাল্টা রিপোর্ট আসে। ‘আপনি যে মেশিন দিয়ে টেস্ট করিয়েছেন এতে কোন ঝামেলা আছে কি?’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। এ রোগীর ব্যাপারে আমার বক্তব্য আগেরটাই।’ একই ঘটনা ঘটেছে হালুয়াঘাটের নড়াইল ইউনিয়নের খরমা গ্রামের মরহুম হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হাফেজ আমিনুল ইসলামের সাথে। কিছু দিন আগে তার পেটে ব্যথা হয়। পরে তাকে ফুলপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আল্ট্রা করানো হয় এবং অ্যাপেনডিসাইটিস হয়েছে বলে রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট লেখেন ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মাসূম। পরে তাকে ময়মনসিংহে নিয়ে গেলে সেখানের পরীক্ষায় তার ‘নরমাল’ রিপোর্ট আসে। এমতাবস্থায় ফুলপুরের রিপোর্ট এবং ময়মনসিংহের রিপোর্ট দুটিই কি সঠিক? নাকি একটি? একটি সঠিক হলে কোনটি সঠিক ধরা হবে? এ বিষয়ে এক্সপার্টদের মতামত জানতে চাই। ভুক্তভোগীদের মতে, ফুলপুরের রিপোর্ট ভুল। সে হিসেবে সুবিচার চেয়ে তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা