মো. আব্দুল মান্নান :
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চরনিয়ামত গ্রামের মো. আব্দুল হাকিমের পুত্র ফুলপুর তথা বাংলাদেশের গর্ব মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসটিংগুইশড রিসার্চ প্রফেসর বিজ্ঞানী ড. সাইদুর রহমান।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্বের প্রথম সারির চিকিৎসা ও বিজ্ঞান বিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’-এর সমন্বিত জরীপে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সনে অসাধারণ গবেষণা কর্মের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের মধ্যে তার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এলসেভিয়ায়ের জরীপ অনুযায়ী মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনার্জি বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানীদের প্রকাশনা, এইচ-ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচক বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।
প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান এর আগে ২০১৪-২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি শীর্ষ ১% -এর মধ্যে থাকায় তার গবেষণা মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি চলতি ২০২৪ সনে ‘এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স’-এর প্রকাশিত তালিকায় মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছেন। ২০১১-২০১৪ সনে ইউনিভার্সিটি মালয় তাকে অসামান্য গবেষণার জন্য সম্মানিত করেছিল। এই একই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২৪ ও ২০১৯ সনে তিনি সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য গবেষণা দক্ষতার জন্য তাকে ডিসটিংগুইশড রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। স্কোপাস ডেটা বিশ্লেষণে জানা যায়, তিনি মালয়েশিয়ার ন্যানোম্যাটারিয়াল গবেষণায় ১ নম্বরে রয়েছেন। ২০২২ সনের ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার অগ্রণী হাউসের মাধ্যমে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সিআইপি সম্মাননা দিয়েছে।
অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান তার গবেষণা ও রুটিন কাজের বাইরেও সামাজিক ও ধর্মীয় নানা সেবামূলক কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। দেশে আসলে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় সেমিনার করে ফ্রি মোটিভেশনাল স্পীচ দান করে থাকেন তিনি। তার মোটিভেশনাল স্পীচে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন অনেক এতিম অসহায় ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীরা। তাদের মনে উচ্চাকাঙ্খা জাগ্রত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধকল্পে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।