• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা এমপিকে হেনস্থার অভিযোগসহ হামলা ও মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল ফুলপুরে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদরাসা) নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান নেত্রকোনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীলদের সভা হালুয়াঘাটে নতুন ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন তার একজন কর্মী মুরগী জবাই করে রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে — মোতাহার সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে সে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায় — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ তারাকান্দায় পহেলা বৈশাখে এমপি হেনস্থার অভিযোগসহ গুরুতর আহত ২ পহেলা বৈশাখ হোক গুনাহ থেকে ফিরে আল্লাহর পথে নতুনভাবে চলার অঙ্গীকার যাকাত সংগ্রহে সারাদেশে ফুলপুর চতুর্থ

ফুলপুরে জনস্বাস্থ্যের টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name / ৪১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প কর্তৃক বিতরণের লক্ষ্যে টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে মানের রিং বা ম্যাটারিয়ালস ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। নিম্নমানের মালামাল দিয়ে টয়লেট নির্মাণ করার অভিযোগে কাজে বাধা ও এক জায়গায় কাজ বন্ধ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ২ হাজার ২৯০টি টয়লেট বাবদ ৭ কোটি ২৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। প্রতিটি টয়লেটের জন্য পৃথকভাবে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁডায় ৩১ হাজার ৬৪০ টাকা। এই টাকা থেকে ভ্যাট আইটি ১২% হারে ৩ হাজার ৭৯৭ টাকা আর  ঠিকাদারের পার পিস প্রফিট ২ হাজার টাকা করে বাদ দিয়ে প্রতিটি টয়লেট নির্মাণের জন্য থাকে ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা। কিন্তু কর্মশালায় সরকার কর্তৃক যে মানের টয়লেটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল তাতে প্রতি টয়লেটের খরচ ধরা হয়েছে আনুমানিক ২৩ হাজার ৬৭৫ টাকা। সে হিসেবে টয়লেট করে দেওয়ার পরও প্রতি টয়লেট থেকে ২ হাজার ১৬৮ টাকা অর্থাৎ ২২৯০টি টয়লেট বাবদ মোট ৪৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৭২০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে।
ছক অনুযায়ী প্রতিটি টয়লেটের  উপকরণ ও সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৪টি আরসিসি প্লেট ২ হাজার টাকা, পলিথিন ৩০ টাকা, খোয়া ২৮০ টাকা, বালি ১২০ টাকা, সিমেন্ট ৫৬০ টাকা, ৪ এমএস তার ৩২৫ টাকা, ২৪ নং তার ৩০ টাকা, সাইফুন পিভিসি ১২০ টাকা, সিরামিকের কমোড ৯৫০ টাকা, পিভিসি হোজ পাইপ ৫২০ টাকা, পিভিসি গ্যাস পাইপ ২৪০ টাকা, রং ১৫০ টাকা, বালতি বা ড্রাম/ মগ/বদনা/ টয়লেট ব্রাশ/ হারপিক ৫২০ টাকা, রিং ১০টি ৪৫০০ টাকা, ঢাকনা ২টি ৯০০ টাকা, আরসিসি পিলার ১০২’  ১৫০০ টাকা, আরসিসি পিলার ৯৬’ ১৪০০ টাকা, কাঠ ২১০০ টাকা, টিন ৪২০০ টাকা, তারকাটা ১৩০ টাকা, স্ক্রু ৩০ টাকা, কব্জা ২৪০ টাকা, ব্যারেল বোল্ট ১২০ টাকা, হ্যাজ বোল্ট ১৬০ টাকা, টিন পেরাক ৫০ টাকা ও পরিবহন এবং মজুরি বাবদ ২৫০০ টাকা। এখানে যে মানের উপকরণ ধরে প্রতি টয়লেট বাবদ ২৩ হাজার ৬৭৫ টাকা খরচ এসেছে ওয়ার্ক অর্ডারে ম্যাটারিয়ালসের পরিমাণ এর চেয়েও কম রয়েছে বলে জানা গেছে। রিংয়ের জন্য ৪ এমএস তার (৫এমএম) ধরা হয়েছে আড়াই কেজি কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডারে আছে ৩ এমএস তার। টিন ০.২৫ এমএমের স্থলে ওয়ার্ক অর্ডারে আছে ০.১৯ এমএম। তারপরও কাজের কোয়ালিটি মেইনটেইন না করে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন গিয়ে কথা হয় উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যেদিন দরিদ্রদের জন্য টয়লেট নির্মাণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল আমি সেদিন ওই কর্মশালায়  অংশ নিয়েছিলাম। ওখানে টয়লেটগুলো যেভাবে নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছিল সেভাবে করা হচ্ছে না। আমার প্রতিবেশী ভাই হামিদুর রহমানের জন্য করা টয়লেটটিতে দুর্নীতি চোখে পড়লে সাব-কনট্রাক্টর মাসুদকে আমি এ ধরনের নিম্ন মানের কাজ করতে বাধা দেই। তিনি বলেন, ভাই, আগে বললে কাজটা আরেকটু ভালোভাবে করে দিতাম। এখন আর বাধা দিয়ে লাভ কি? ইউপি মেম্বার মিজান বলেন, মূল ঠিকাদারকে আজ পর্যন্ত এলাকায় আসতে দেখিনি। যেনতেনভাবে কাজ করা হচ্ছে। উনি আসুক। না আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। ফলে ওই কাজটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সাব-কনট্রাক্টর মাসুদের নিকট কাজের কোয়ালিটি এবং প্রতিটি টয়লেটের জন্য কি কি ম্যাটারিয়ালস ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে সাংবাদিককে তিনি এ তথ্য দিতে অস্বীকার করেন এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে এ বিষয়ে ঠিকাদার রুহুল আমিন সাইফুলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানামতে কোথাও কাজ খারাপ করা হয়নি। এরপর টয়লেট নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রনি রায়হান বলেন, কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঠিকাদার ৪৫০ টাকা মানের প্রতিটি রিং দিবে এটা আমাদের চাহিদা না। আমাদের চাহিদা হলো, ড্রয়িং মোতাবেক আমাকে রিং দিতে হবে। থিকনেস ঠিক থাকতে হবে। এতে আপনি যদি ১৫০ টাকা দিয়েও করে দেন তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। ড্রয়িং মত কাজটা বাস্তবায়ন করাই আমার দায়িত্ব। ১০টি রিং সাড়ে ৪ হাজার টাকা। প্রতিটি রিং সাড়ে ৪শ টাকা মানের হবে কি না? এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। এটা ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব। এসময় আরেক প্রশ্নের উত্তরে রনি রায়হান নিজেই কাজে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের কাছে রিংয়ে ৩ এমএস তারের স্থলে ২ এমএস তার দেওয়ার অভিযোগ এসেছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি রিংয়ের থিকনেসসহ সবই ঠিক আছে। অবশেষে একটি রিং ভেঙে যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা