মো. আব্দুল মান্নান
মালয়েশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইমন (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ান সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেলাবুহান উতারায় ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। ইমন (অবিবাহিত) ছনধরা গ্রামের হেলাল উদ্দিন ও রাবেয়া দম্পত্তির বড় ছেলে।
মালয়েশিয়ান একটি গণমাধ্যম জানায়, জালান পেলাবুহান উতারার ফ্যাক্টরির সামনে ট্র্যাকের পাশে মৃত ওই যুবকের দুই পায়ে হাঁটুর নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ ক্লাং জেলা পুলিশের সহকারী কমিশনার চা হুং ফং এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী একজন বিদেশী পুরুষ। পুলিশ তার ব্যাপারে অপরাধের কোন উপাদান খুঁজে পায়নি এবং মামলাটিকে আকস্মিক মৃত্যু হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
পরে মিডিয়ার মাধ্যমে ৪ দিন পর খবর পেয়ে নিহতের পরিবার তাকে শনাক্ত করেন। পরে ইমনের মরদেহ দেশে আনতে চাইলে দালালরা তাদের নিকট আড়াই লাখ টাকা দাবি করে। এসময় অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর অবস্থা হয়ে যায় ইমনের পরিবার। বিষয়টি চাইল্ড হ্যাভেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদল নেতা মোজাম্মেল হক আশিক খানের বিবেকে নাড়া দেয়। তিনি জানতে পেরে আমেরিকায় তার বড়ভাই ইলিয়াস খানকে জানান যে, দালালদের আড়াই লাখ টাকা দাবির কারণে ইমনকে দেশে আনতে পারছে না তার পরিবার। এ সংবাদ পেয়ে ইলিয়াস খান

মালয়েশিয়ায় তার বন্ধু মামুন বিন মান্নানের নিকট ফোন দেন।
ইলিয়াস খান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। আমেরিকায় তার বড় ব্যবসা রয়েছে। নকলা-নালিতাবাড়ী আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সেই ইলিয়াস খান তার বন্ধু মামুন বিন মান্নানকে

বলে ছনধরার ইমনের মরদেহ বিনা টাকায় দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। জানা যায়, মামুন হলেন নান্দাইলের কৃতি সন্তান ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য। তিনিও নান্দাইল থেকে এমপি পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে সুদূর প্রসারি পরিকল্পনায় জনহিতকর কাজকাম করছেন। মালয়েশিয়ায় তার বড় ব্যবসা রয়েছে। পরে ইমনের মরদেহ যাতে বিনা টাকায় দেশে পাঠানো যায় এ ব্যাপারে মামুন মালয়েশিয়া প্রশাসন বিভাগ, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইমন যে কোম্পানিতে চাকরি করতো ওখানে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সব জায়গায় যোগাযোগ করে ডকুমেন্টস-এর মাধ্যমে ইমনের লাশ শনাক্ত করে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন

রায়হান শরীফ হলুদ। উনাদের সহযোগিতায় অবশেষে বিনা টাকায় ইমনকে দেশে আনা হয়। আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পায় ইমনের পরিবার।
মৃত্যুর প্রায় ১৫ দিন পর গতকাল বুধবার (৬ মার্চ) রাতে ইমনের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছে। এসময় তাদের বাড়িসহ এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের অবতারণা হয়। সে মাত্র ৬ মাস আগে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিল। কিন্তু ৫ মাস পর্যন্ত দালালরা তাকে কোন কাজ দিতে পারেনি। দীর্ঘদিন বসা থাকার পর জানুয়ারিতে কাজ পেয়ে ৪০ হাজার টাকা সে বাড়িতে পাঠিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের লেখা যায় না দেখা, যায় না কভু জানা। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় ছনধরা কবরস্থান মাঠে জানাজাশেষে তাকে ওই কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে। জানাজায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।