সাঈদ আহমেদ খান :
২০২৪ সালের কথা । হজব্রত পালন শেষ । আজ জুমআ। পবিত্র হারাম শরীফের ধারে-কাছে ঘেঁষার জো নেই। মিছফালার পিচঢালা তপ্ত পথে বিছিয়ে নিলাম জায়নামাজ। পাশে খালি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়লেন মধ্য বয়সী এক কৃষ্ণবর্ণ মুসল্লি। তাকে কাছে ভিড়িয়ে নিজের জায়নামাজটার ভ শেয়ার দিলাম। সালাম ফিরিয়ে দেখি, লোকটি বিস্ময়ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে। শুকরিয়া জ্ঞাপনসহ ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে জানালেন, তিনি হজ্বে এসেছেন আফ্রিকার তাঞ্জানিয়া থেকে। বললেন, আপনার জায়নামাজটা আরামদায়ক। কোত্থেকে কিনেছেন ? আমিতো আশপাশে কোথাও জায়নামাজ পেলাম না! ‘ এটি পছন্দ হয়েছে ?’ বললাম তাকে। বললেন, ‘খূব সুন্দর !’
জায়নামাজটা দিয়ে দিলাম তাকে। হাজী সাহেব শুনেতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। পরে সাইডব্যাগ থেকে রিয়াল বের করলেন, মূল্য পরিশোধের জন্য। লজ্জ্বায় পড়ে গেলাম। বললাম, আমি জায়নামাজ বেচি না। আপনাকে গিফট করলাম। তাঞ্জানিয়ান হাজী সাহেব এটি এভাবে কিছুতেই নেবেন না। বুঝলাম ভদ্রলোক ইতস্তত। পরে সাইড ব্যাগ থেকে আরেকটা পোটলা বের করলেন। মেলে ধরলেন কিছু খেজুর। লুফে নিয়ে দিলাম মুখে । তাঞ্জানিয়ান হাজী খুব খুশি হলেন। জাপটে ধরলেন আনন্দে। বললাম, দিস ইস মুসলিম ব্রাদারহুড ! রঙ যেমনই হোক, ধর্মের ভিত্তিতে সব মুসলিম ভাই ভাই !
ক্ষণিকের পরিচয়ে জমে ওঠে আলাপ। মুহূর্তে ‘এশিয়া-আফ্রিকা’ হয়ে গেলাম একাকার । ছবি-সেলফি হলো । বিনিময় হলো হোয়াটস অ্যাপ নম্বর। আমন্ত্রণ জানালেন তার দেশ সফরের। পেশায় প্রকৌশলী হাজী সাহেবের নাম ছিলো সম্ভবত: ওয়াহেদ আবদাল হক। আমার ‘আফ্রিকা-দর্শন’ বলতে ওই টুকুই।
তাঞ্জনিয়া তথা কোনো আফ্রিকানের সঙ্গে ওটাই ছিলো প্রথম আলাপ। কালো কালো মানুষ। তাদের ভাবনা এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে আমার আগ্রহ সব সময়কার। জীবনে সুযোগ পেলে আফ্রিকার মাটি ছুঁয়ে আসবো । এ স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। সেই মওকা মিললো দুই দফায় ১৫ ঘন্টার ট্রানজিটে ।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স রানওয়ে স্পর্শ করতেই দেহ-মনে অনুভব করলাম অন্যরকম এক শিহরণ। আজকের রাতটা কাটাতে হবে আদ্দিস আবাবায়। এটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত বৃহৎ রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। পশ্চিমা দেশগুলোর এয়ার ট্রানজিট হিসেবে শহরটির ক্রমশ:ই জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ যাবৎকাল জেনে এসেছি, ইথিওপিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত,অস্থির ও দারিদ্রপীড়িত একটি দেশ। এয়ারপোর্ট নেমে দেশটি সম্পর্কে পূর্বধারণায় একটি ধাক্কা খেলাম। এমন আন্তর্জাতিক মানের এয়ার সার্ভিস দেশটি তাহলে দিচ্ছে কী করে ? আরো বিস্মিত হলাম এয়ারপোর্টের বাইরে এসে। কী ঝাঁ তক তক রোড-ঘাট ! উন্মুক্ত কোনো ড্রেন নেই। লাইটপোস্টগুলোতে নেই ঝুলন্ত তারের প্রকান্ড পুটলি। দেশটির সমুদয় ইলেক্ট্রিফিকেশন আন্ডারগ্রাউন্ড। রাত-অথচ দিনের মতো ফর্সা। বাড়িগুলো দূরে দূরে। আধুনিক ভবন। বিপনী বিতান। আলো ঝলমল। গোটা আদ্দিস আবাবাকেই মনো হচ্ছে উৎসব নগরী। মিষমিষে কালো আর লিকলিকে গড়ন। সাদা দাঁতের হাসিতে যেন মুক্তা ঝরে ইথিওপিয়ানদের মুখে। হালকা কুয়াশায় যতটা বোঝা গেলো, ভারি শকট চলাচল করছে। অথচ কোনো ধুয়ো-ধূলো নেই। নেই শব্দ দূষণ। বোঝা গেলো, ডিজেল চালিত কোনো ইঞ্জিন এ শহরে চলে না। যে হোটেলটিতে ঠাঁই হলো সেটিও বেশ পরিপাটি। ঠান্ডা-গরম জলের ব্যবস্থা রয়েছে রেস্টরুমে। শহরটিকে আপাত: যুদ্ধবিদ্ধস্ত,পশ্চাদপদ, বর্বর কোনো দেশের অংশ বলেই মনে হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানালেন, ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’কে ইথিওপিয়া প্রায় পরাজিত করে ফেলেছে। গোত্র বা গোষ্ঠিগত কিছু সংঘাত এখন রয়েছে ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ একজন মুসলিম। অথচ দেশটিতে ৬৭.৩ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলমান দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠি (৩৫ শতাংশ)। অন্যান্যরা ‘ইথিওপীয় অর্থোডক্স তেওয়াহেডো’, ‘প্রোটেস্ট্যান্ট’ , ‘ক্যাথলিক’ ধর্মের। দেশটির আয়তন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪শ’ বর্গ মাইল। বিশ্বের ২৭ তম বৃহত্তম দেশ। ইথিওপিয়াকে ঘিরে রেখেছে উত্তরে ইরিত্রিয়া, উত্তর-পূর্বে জিবুতি, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে সোমালিয়া, দক্ষিণে কেনিয়া, পশ্চিমে দক্ষিণ সুদান এবং উত্তর-পশ্চিমে সুদান। স্থলবেষ্টিত একটি ভু-খন্ড। একটি বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় সংস্কৃতির দেশ।

৮০টিরও বেশি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির বসবাস আফ্রিকার এই দেশটিতে। তাদের ভাষা ও ঐতিহ্যই এ বিভক্তির কারণ। ওরোমো, আমহারা, সোমালি, তিগ্রায়, সিডামা হচ্ছে ইথিপিয়ায় কর্তৃত্ব করছে। ‘ওরোমো’দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট জনগোষ্ঠির ৩৪.৫ শতাংশ জুড়ে তাদের অবস্থান। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির মধ্যে ওয়েলাইটা, হাদিয়া,আফারা, গামোসহ বেশ কিছু নৃ-গোষ্ঠি রয়েছে।
জনপদটির অধিকাংশ মানুষের পারিবারিক ভাষা আফ্রো-এশীয়। সেমিটিক,কুশিটিক এবং মোটিক ভাষায় কথা বলেন তারা। একটি ছোট অংশ ‘নীলো-সাহারা’ ভাষা ব্যবহার করেন। এই জাতিগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতেই ইথিওপিয়া এখন একটি ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা’য় পরিচালিত হচ্ছে।
ইথিওপিয়ার অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে কৃষি, জ্বালানি ও সেবাখাত দিয়ে। কৃষিই দেশটির মূল অর্থনীতি। গম, ভুট্টা, টেফ, বার্লি, সরগাম ইথিপিয়ার অন্যতম কৃষিপণ্য। বেশে রফতানি করছে কফি। এ ছাড়া তিল, তৈলবীজ, গবাদি পশু এবং ফুলও রফতানি করছে। কৃষি কাজ ও সেচ পুরোটাই টেকনোলজি নির্ভর। ডিজিটাল কমোডিটি ট্রেডিং এবং ক্লাস্টার ফার্মিংয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে ইথিওপিয়া সরকার। এখন এটি পূর্ব আফ্রিকার উন্নত দেশ।
যুদ্ধ বিগ্রহ দেশটিকে পিছিয়ে দিয়েছিলো বটে। কিন্তু ২০২০-২০২২ এর পর অন্তর্কলহ অনেকটাই থিতিয়ে এসেছে। টাইগ্রে অঞ্চলে ভারী সংঘর্ষের কথা মাঝেমধ্যেই সংবাদ শিরোনাম হয়।
দেশটির ‘আমহারা’ অঞ্চলে ‘ফানো’ মিলিশিয়া এবং ওরোমিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর কিছু সংঘর্ষ এখনো চলছে। এছাড়া প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সম্পর্কও এখন উত্তপ্ত। দেশটির অভিযোগ এই যে ইরিত্রিয়া তাদের ভূখণ্ডে বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সহায়তা করছে। অন্যদিকে ইরিত্রিয়ার রয়েছে সমুদ্র। এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অধিকার এবং সীমান্ত নিয়ে দুদেশের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি বিদ্যমান।
রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ইথিওপিয়ার অর্থনীতি অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০.২% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। লক্ষ্য হচ্ছে,সরকারি ঋণ কমানো এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন।
ইতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্য্পূর্ণ ভূ-খন্ড ইথিওপিয়া। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বেলাল (রা:) র স্মৃতিধন্য দেশ ইথিওপিয়া। তার পূর্বপুরুষরা এ দেশ থেকে মক্কা গিয়েছিলেন। তখন দেশটির নাম ছিলো হাবশা। এ কারণে হযরত বেলালকে ‘ বেলাল হাবশী’ নামে ডাকা হতো। মুসলিমদের প্রথম হিজরতের দেশও এটি। ইসলামের ইতিহাসে যা ‘আবিসিনিয়া হিজরত’ নামেপরিচিত। হযরত বেলাল (রা:) মা হাম্মাহ ছিলেন একজন আবিসিনীয় রাজকুমারী। ৫৮০ খৃস্টাব্দে মক্কার হেজাজ অঞ্চল ‘সারাত’ এ জন্ম নেন। বেড়ে ওঠেন মক্কার উমাইয়া ইবন খালাফের দাস হিসেবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় হযরত বেলালের ত্যাগ, বীরত্ব সর্বজনবিদিত। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
ইসলামের ইতিহাসে আবিসিনিয়া (আজকের ইথিওপিয়া) এক অবিস্মরণীয় নাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নবুওয়তের প্রাথমিক যুগে মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিলো। তখন ইথিওপিয়াই ছিল মুসলিমদের জন্য প্রথম নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মক্কার নির্যাতিত মুসলিমরা নবীজি (সা.)-এর নির্দেশে নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে (৬১৫ খ্রিস্টাব্দে) প্রথম হিজরত করে আসেন এই আবিসিনিয়ায়। এটিকে ইসলামের ইতিহাসে ‘প্রথম হিজরত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
তৎকালিন আবিসিনিয়া ছিল খ্রিস্টান শাসিত রাজ্য। ন্যায়পরায়ণ রাজা আসহামা ইবনে আবজার, ইতিহাসে ( নাজ্জাশি উপাধিতে পরিচিত) মুসলিমদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেন। কুরাইশরা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর জন্য বড় বড় উপহার নিয়ে রাজার দরবারে গেলেও নাজ্জাশি হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর মুখে সুরা মারইয়ামের তেলাওয়াত শুনে তাদের ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। বাদশাহ নাজ্জাশি পরে ইসলাম কবুল করেন। ইতিহাস বলছে, নাজ্জাশির ইন্তেকালের পর মহানবী (সা.) মদিনায় সাহাবীদের নিয়ে তার জন্য গায়েবানা জানাজা পড়েছিলেন।
প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রা.) ছিলেন আবিসিনিয়া তথা ইথিওপিয়া বংশোদ্ভূত। এ ছাড়া মহানবী (সা:) এর শৈশবের অন্যতম লালনকারী উম্মে আয়মান (রা:) ছিলেন ইথিওপিয়ান। এর মধ্যে হযরত বেলাল (রা:) এবং উম্মে আয়মান (রা:)র তেমন কোনো স্মারক ইথিওপিয়ায় নেই। আছে হযরত নাজ্জাশি জাফর ইবনে আবি তালিব (রা:)র স্মৃতি চিহ্ন। তাঁর নামে টাইগ্রে অঞ্চলের নেজাশে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘আল-নেজাশি মসজিদ’। এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম মহাদেশের প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ৭ম শতাব্দীতে হিজরত করে আসা সাহাবীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় হয়েছিলো মসজিদটি। আদি মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তুরস্কের সহায়তায় এটি সংস্কার করা হয়। স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘টিকা এজেন্সি’ অটোমান স্থাপত্যের ছোঁয়া বহন করছে ‘আল-নেজাশি মসজিদ।
এই মসজিদ ছাড়াও ইথিওপিয়ায় রয়েছে বেশকিছু ইসলামী স্থাপত্য। দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং আফ্রিকান-আরব সংস্কৃতির এক অনন্য মিশ্রণ লক্ষ্যনীয় স্থাপত্যগুলোতে। স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে ‘হারার জুগোল’। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং ইসলামের চতুর্থ পবিত্রতম শহর হিসেবে বিবেচিত। ১৩শ’ থেকে ১৬শ’ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই প্রাচীন শহরটি ৫টি ঐতিহাসিক ফটক আর ৮২টি মসজিদের জন্য সুপরিচিত। এখানকার গ্র্যান্ড জামি মসজিদ ইথিওপিয়ার প্রাচীন ও আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন।
আমরা যে শহরটিতে অবস্থান করছি এখানে রয়েছে ‘গ্র্যান্ড আনোয়ার মসজিদ’ নামের বিখ্যাত ও বিশাল একটি স্থাপনা । এটি পরিদর্শন করতে চাইলে যেতে হয় আদ্দিস আবাবার ‘মার্কেটো’ এলাকায় । ১৯২২ সালে ইতালীয় শাসনামলে এর নির্মাণ শুরু হয়। সাদা ও সবুজ রঙের গম্বুজ । একেকটি মিনার যেন আধুনিক কিন্তু ধ্রুপদী রূপ মেলে ধরেছে।
ইথিওপিয়ার ‘ভিলু’ অঞ্চলে রয়েছে ‘তুর সিনা মসজিদ’। ৪০টি পিলারের ওপর স্থাপিত মসজিদটির ছাদ। এখানে দূরদূরান্ত থেকে ইথিওপিয়ান মুসল্লিগণ নামাজ আদায় করেন।
ওরোমিয়া অঞ্চলে রয়েছে ‘শেখ হুসাইন মসজিদ’। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক ট্যুরিস্ট স্পট এটি। মসজিদটি প্রাচীন গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত । বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এখানে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে।
ইথিওপিয়ার ইসলামী স্থাপত্যে জ্যামিতিক নকশা, খোদাই করা কাঠের বীম এবং আরবীয় নকশার প্রভাব সুস্পষ্ট। হারার অঞ্চলের বাড়ি-ঘর গুলোতে লক্ষ্য করা যায় অভ্যন্তরীণ বিশেষ সজ্জা। মধ্যখানে উঠোন। উঠোনের চারপাশে ঘর। স্থানীয় জলবায়ুর সাথে খাপাখাইয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বসতবাড়িগুলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্রপীড়িত ইথিওপিয়াকে আজকের দিনে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কোথাও কোথায় সংঘর্ষ চললেও আদ্দিস আবাবায় এর লেশমাত্র নেই। ইসলামের ইতিহাস সমৃদ্ধ এই মায়াবি দেশ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না মোটেই !
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।