মোঃ আব্দুল মান্নান :
আসসালামু আলাইকুম।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,
আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা, আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও মুসলিম পরিবারের সন্তান। আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনপ্রিয় একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উনার জন্য মানুষের ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম ও সীমাহীন। এ দেশের মানুষ রোজা রেখে উনার কামিয়াবির জন্য দোয়া করেছেন। আপনার রত্নগর্ভা মা বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনিও মানুষের সেই ভালোবাসাটা ধরে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ তিনি তার সততা ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত রাখার মাধ্যমে লাখো কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে দোয়া নিয়ে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে মর্যাদার সাথে শেষ বিদায় নিয়ে গেছেন। এমন দুজন মহান মানুষের সন্তান আপনি। আপনার বিষয়ে আর আলাদা করে প্রশংসা করার প্রয়োজন নেই। আপনি ইতোমধ্যে বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় বাসায় গিয়ে যে উদারতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা এদেশের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছেন।
আপনার নিকট আমার কয়েকটি দাবি : প্রথমত: আপনিসহ আপনার সংসদের সকল মুসলিম সদস্যদেরকে সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের দাওয়াত পেশ করছি। দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এবং আপনার এমপিদেরকে বহু নিয়ামত দান করেছেন। অর্থ সম্পদ দান করেছেন। মান সম্মান ইজ্জত দান করেছেন। এখন এর শোকরিয়া আদায় করবেন আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের মাধ্যমে, ক্ষমতার সুষ্ঠু বন্টনের মাধ্যমে। আর্থিক কোন কেলেঙ্কারিতে জড়াবেন না। লাগলে বৈধ ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে আরও কামাই করতে পারবেন। নিষেধ নেই কিন্তু সরকারি টাকায় তসরুপ করবেন না। গরিব মিসকিন, এতিম অনাথ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের টাকা মেরে খাবেন না। ব্রিজ কালভার্ট, রাস্তাঘাট বা এ ধরনের কাজের জন্য সরকারি যত প্রকারের বরাদ্দ রয়েছে, আপনার মন্ত্রী এমপিরা যাতে তাতে হাত না দেন। যে কাজের জন্য যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হবে তার সবটুকু যেন সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়।
তৃতীয়ত: যে দাবিটি আমি আপনার নিকট করতে চাই, তা হলো একটি মানবিক দাবি। আপনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন- আমি কিন্তু কোন রাজনীতি করি না। যাকে ভালো লাগে, যে সৎ ও ভালো মানুষ, আল্লাহওয়ালা মানুষ তাকে ভোট দেই। আমার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৮নং নড়াইল ইউনিয়নে মধ্য নড়াইল গ্রামে। আমার বাবার নাম মরহুম মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জবর আলী। আমি থাকি ফুলপুরে। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও ইমামতির সাথে জড়িত। আপনি ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে যে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছিলেন তা সঠিক ও যথাযথ ছিল বলে আমি বিশ্বাস করি। কেননা, আমার জানা মতে, তিনি ভালো মানুষ। সরল সোজা মানুষ। গরিবদের ভালোবাসেন। তার কাছে সবাই যেতে পারেন। কথা বলতে পারেন। কিন্তু এরপরও নির্বাচনে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল এ আসনে পাস করেছেন। রুবেলও ভালো। আমি তাকে খারাপ বলছি না। কিন্তু রুবেল যে আপনার মতের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন, আপনার অসন্তুষ্টির কারণ হয়েছেন এখন আপনি কি তাকে সেই ভালোবাসাটা দিবেন? শুনেছি, দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি যদি আপনার চোখ থেকে পড়ে গিয়ে থাকেন তাহলে তো আমরা বঞ্চিত হবো। আমাদের এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না বলে ধারণা করছি।
আমার জানামতে, আপনার দলের দুর্দিনে বিএনপিকে জিইয়ে রাখতে সারা বাংলাদেশে বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি চষে বেড়িয়েছেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তরে। যেখানেই বিএনপির কোন নেতাকর্মী বিপদে পড়েছেন সেখানেই তিনি দৌড়ে গেছেন, ঝাপিয়ে পড়েছেন। তিনি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহযোগিতা করেছেন। সান্ত্বনা দিয়েছেন। বিভিন্ন টিভির টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আনীত হাজারো প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব দিয়েছেন তিনি। আপনার দলের দুঃসময়ে উনার যে কি ভূমিকা ছিল আমার চেয়ে আপনিই তা ভালো জানেন। আমার জানা মতে, মানুষটি রাতদিন বিরতিহীনভাবে কাজ করেছেন। তাকে কি আপনার মন্ত্রী সভার কোন জায়গায় একটু জায়গা করে দেওয়া যায় না, প্লীজ? আমরা হালুয়াঘাট ধোবাউড়ার মানুষ যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছি। এখানে যে দলের এমপি হন ক্ষমতায় প্রায়ই সে দল থাকে না। দুয়েক পিরিয়ডে থাকলেও আমাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন তারা কেউ করতে পারেননি। হয়তো সরকারি টাকা মেরে খেয়েছেন অথবা উন্নয়ন করার সুযোগ পাননি। এবারও প্রায় অনেকটা সেরকম বিপাকে আমরা। ময়মনসিংহ-১ আসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মাদরাসার উন্নয়নসহ নাকধরা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ ও বেশ কয়েকটি ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও আজও এর লক্ষ্মণ চোখে পড়ছে না। এজন্য অবহেলিত ময়মনসিংহ-১-কে উন্নয়নের আওতায় আনতে আমাদের একজন মন্ত্রী দরকার। আশা করি, বিষয়টি সদয় বিবেচনা করে দেখবেন। সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ভাই শুধু বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিবই নন বরং তিনি গণমানুষের একজন নেতা। আপনার মন্ত্রীসভায় তাকে কোন একটা পদ দিলে উপকৃত হবো আমরা ময়মনসিংহবাসীসহ দেশবাসী।
জানি না, আমার এ চিঠি আপনার পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না। যদি আপনার নজরে পড়ে তাহলে আশা করি আমার অনুরোধটুকু আপনি বিবেচনায় রাখবেন। ওয়াস্ সালাম।