মো. আব্দুল মান্নান :
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন জামিয়া তা’লিমিয়া, আদর্শ নগর, ঢাকা-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা হাফীজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা হুজুর) বলেছেন, আলেমরা এক হলে দেশ চালাবে তারা। এজন্য একদলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ষড়যন্ত্র চলছে। আলেমরা যাতে এক না হতে পারে। আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বাদ মাগরিব ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার সাহাপুর বাজার সংলগ্ন খান মেমোরিয়াল এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার ২ দিনব্যাপী আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আলেমদের বাড়ি নেই, গাড়ি নেই কিন্তু সকল বাড়িওয়ালা গাড়িওয়ালারা তাদের ভয় পায়। সাধারণ মানুষ বলে, হুজুর, সব দেখছি; আপনারা এক হয়ে আসেন।
মাওলানা হাফীজুর রহমান সিদ্দিক বলেন, উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কেন? আলেম কি কারো দোকানে গিয়ে চাঁদাবাজি করে? মারে? কাউকে গালি দেয়? — সমস্বরে সবাই বলেন, ‘না’। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে এত চক্রান্ত কেন? তিনি বলেন, উলামায়ে কেরাম একবার চেয়ারে বসলে, এক মাস দেশ চালালে জীবনেও আর চেয়ার থেকে উঠতে হবে না। জনগণ তাদের উঠতে দিবে না। কারণ তারা রাস্তার টাকা মারবে না। দুর্নীতি করবে না। কুরআন হাদীস অনুযায়ী দেশ চালাবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।
মাওলানা হাফীজুর রহমান সিদ্দিক বলেন, রাসূল আর আসবেন না। সকল ক্ষেত্রে শান্তির ঠিকানা হলো ইসলাম। আর ইসলামের সুমহান পথ দেখাবেন একমাত্র উলামায়ে কেরাম। উলামায়ে কেরামের কথা মেনে চললে দেশটা জান্নাতের বাগানে পরিণত হবে। কিন্তু এতে একদলের সমস্যা আছে। সমস্যা কার? সমস্যা চাঁদাবাজদের। দুর্নীতিবাজদের। টেরোরিস্টদের সমস্যা। টেরোরিস্ট কারা? যারা জুলুম করে তাদেরকে বলে টেরোরিস্ট, সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা চায় না হুজুররা এক হোক। এজন্য সকল সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, আলেমদের বাড়ি নেই, গাড়ি নেই কিন্তু সকল বাড়িওয়ালা গাড়িওয়ালারা তাদের ভয় পায়। আলেমরা এক হলে দেশ চালাবে তারা। এজন্য একদলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আলেমদের ঐক্য নষ্ট করার জন্য ক্ষমতার লোভ, টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে। ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।
মাওলানা হাফীজুর রহমান সিদ্দিক বলেন, আলেমদের বিরুদ্ধে যাবেন না। তাদের বিরুদ্ধে কিছু লেখবেনও না। তিনি বলেন, আল্লাহকে বেজার করে কারো কথা মানা যাবে না। আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে কোন নেতার কথা মানা যাবে না। আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে কোন পীরের কথা মানা যাবে না। মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব দুনিয়াতে সবাই স্বার্থের বশবর্তী হয়ে ভালবাসে। স্বার্থের জন্য দয়া করে, মায়া করে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা স্বার্থের জন্য দয়া করেন না, মায়া করেন না। তিনি বান্দাকে নিঃস্বার্থভাবে দয়া করেন, মায়া করেন। এজন্য দুনিয়ার সবাইকে বেজার করলেও আল্লাহকে বেজার করা যাবে না। আল্লাহ স্বার্থপর না। যে কারণে মুমিন যে পথে চলে, বেঈমানও সে পথে চলতে পারে। আল্লাহ বাধা দেন না।
তিনি বলেন, দুনিয়াতে যত নীতি আছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নীতি হলো- ইসলামের নীতি। এজন্য ইসলাম ছাড়া শান্তি আসবে না। ইসলাম বলে- ‘ছোটদেরকে মায়ার নজরে দেখ। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি পরিশোধ কর।’ বড়রা যদি এভাবে ছোটদেরকে মায়ার নজরে দেখে তাহলে জিন্দেগীতে অশান্তি হবে না। এজন্য তিনি বলেন, এমন একজনকে নির্বাচিত কর যার দ্বারা ইসলামের উপকার হয়। সবশেষে আবারও তিনি মা-বাবা, শিক্ষক ও উলামায়ে কেরামের সাথে বেআদবি না করতে সতর্ক করেন। বলেন, যে ব্যক্তি তাদের সাথে বেআদবি করবে তার কপাল পুড়ে যাবে। এরপর মুনাজাতের মাধ্যমে তিনি বয়ান শেষ করেন।
এসময় খান মেমোরিয়াল এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মাহমুদুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন, সভার সভাপতি পীরে কামেল মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ডা. এ কে এম শামীম খান, উনার আব্বা, হাফেজ মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা আওলাদ হুসাইন, মাওলানা এ কে এম জালাল উদ্দিন, জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা গাজী আল মাহমুদ, হাফেজ মাওলানা ইবরাহীম খলিল, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ, মুফতী ইখলাস উদ্দিন, মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।