মো. আব্দুল মান্নান :
আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ কাজে লাগতে শুরু করেছে। পাড় না রেখে পুকুর বা ফিশারী খনন করায় ভেঙে যায় সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে করা কাঁচা বা পাকা রাস্তা।

এজন্য ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও বর্তমানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীর উপস্থিতিতে বক্তব্যে ও নিউজে এ দাবিটি উত্থাপন করে আসছিলাম। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ২০১৮ সনের ২৭ অক্টোবর ‘পাড় না রেখে পুকুর খনন করায় রোডস্ এন্ড হাইওয়ের জায়গা বেদখল’ শিরোনামে

আমার একটি নিউজ পাবলিশ করা হয়েছিল।

আমাদের দাবি ছিল, সড়কের পাশে কেহ পুকুর বা ফিশারী খনন করলে তাকে অবশ্যই সড়ক ব্যতীত পৃথক পাড় রাখতে হবে। পাড় না রেখে পুকুর খনন করায় দিনে দিনে পুকুরের পাশ দিয়ে রাস্তা ভেঙে যায়। এতে সরকার ও এলাকাবাসী সবাই ভোগান্তির শিকার হন। এ ভোগান্তি লাঘবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ছিল সময়ের দাবি। আমাদের দাবি ছিল, যাতে এসব পুকুর বা ফিশারী খননকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়। দীর্ঘদিন পরে হলেও আমাদের এ নিউজ বা প্রতিবাদ কাজে লাগতে শুরু করেছে।
জানা যায়, সোমবার (১৪ জুলাই) ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা এ ব্যাপারে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে একটি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

এসময় একজনকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে তিনি বলেন, ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফিশারি কিংবা পুকুর খননের সময় রাস্তাকে পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি হালট কিংবা আইডিভুক্ত রাস্তায় এধরণের কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ। ভবিষ্যতে ফুলপুর উপজেলার যেকোনো ইউনিয়নে এ ধরনের কার্যক্রম কেউ করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে সকলকে অনুরোধ করা হলো। পুকুর খনন কিংবা ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। রাস্তা থেকে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরত্ব রেখে পুকুর খনন করতে হবে।

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক, ফুলপুর থানা পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।