• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগে মারামারি, রাস্তা কর্তন, চাপা উত্তেজনা তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ ফুলপুর কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসায় অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত তারাকান্দায় ১৪৪ ধারা জারি বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা এমপিকে হেনস্থার অভিযোগসহ হামলা ও মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল ফুলপুরে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদরাসা) নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান নেত্রকোনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীলদের সভা হালুয়াঘাটে নতুন ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন তার একজন কর্মী মুরগী জবাই করে রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে — মোতাহার

আপনি কি হজ্বে যাচ্ছেন? তবে জেনে নেন প্রতিটি আমল আপনাকে কিভাবে আদায় করতে হবে

Reporter Name / ১৩১ Time View
Update : সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫

মো. আব্দুল মান্নান :
সম্মানিত সুধী, আমরা জানি, প্রতিটি আমলেরই একটা সুফল রয়েছে বা উহা থেকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে। যেভাবে হজ্ব করলে আমাদের জীবনের মোড় ঘুরে যাবে, আমরা আল্লাহওয়ালা বনতে পারবো সেই রকম হজ্ব যাতে নসীব হয় এজন্য একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বয়ান করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো :
জানা যায়, এক মুরীদ হজ্ব থেকে ফেরার পর আল্লাহর ওলী শায়খুল মাশায়েখ শিবলী (রহ.) তাকে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর বর্তমানে যারা হজ্বের সফরে যাচ্ছেন তাদের জেনে রাখা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি। মুরীদ নিজেই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, শায়েখ শিবলী (রহ.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হজ্বে যাওয়ার আগে তুমি কি হজ্বের জন্য পাকাপাকি নিয়ত ও এরাদা করেছিলে? তিনি বললেন, জি। শায়েখ বললেন, এর সাথে ওই সমস্ত জিনিসও কি একেবারে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সংকল্প করেছিলে যা জন্ম হতে আজ পর্যন্ত হজ্বের শানের খেলাফ করেছ? মুরীদ বলেন, এই সংকল্প ত করি নাই। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি হজ্বের সংকল্পই করনি।
এরপর শায়েখ বললেন, এহরাম বাঁধার সময় পরিধানের কাপড় খুলে পৃথক করেছিলে? মুরীদ বললেন, জি, খুলছিলাম। শায়েখ বললেন, সে সময় আল্লাহ ব্যতীত সব জিনিসকে নিজ হতে পৃথক করেছিলে? মুরীদ বলেন, এরকম ত হয়নি। শায়েখ বললেন, তাহলে কাপড় পৃথক করে কি লাভ হলো? আচ্ছা, অযু গোসল দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। তখন কি সর্ব প্রকার ময়লা ও গুনাহ হতে পবিত্রতা হাসিল হয়েছিল? মুরীদ বলেন, এমন ত হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে পবিত্রতা হাসিল হলো কই? এরপর শায়েখ বললেন, লাব্বাইক বলেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, আল্লাহর পক্ষ হতে উত্তর পেয়েছিলে কি? মুরীদ বলেন, আমি ত কোন উত্তর পাইনি। শায়েখ বললেন, তবে আর লাব্বাইক বলা হলো কই? অতঃপর বললেন, হারাম শরীফে প্রবেশ করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন সবসময়ের জন্য সমস্ত হারাম কাজ পরিত্যাগ করার সংকল্প করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, এটা ত করিনি। তিনি বলেন, তবে ত হারামেও প্রবেশ করনি। তারপর বললেন, মক্কা জিয়ারত করেছিলে? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন পরবর্তী জগতের জিয়ারত নসীব হয়েছিল কি? মুরীদ বলেন, সেই জগতের কিছু ত দেখলাম না। শায়েখ বললেন, তবে ত তোমার মক্কার জিয়ারতও হয়নি। এরপর শায়েখ বললেন, মসজিদে হারামে প্রবেশ করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন কি আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের অনুভূতি হয়েছিল? মুরীদ বলেন, এরকম ত হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তোমার মসজিদে প্রবেশ করাও হয়নি। এরপর শায়েখ বললেন, কা’বা শরীফ জিয়ারত করেছ কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, যে উদ্দেশ্যে কা’বা শরীফ জিয়ারত করা হয়ে থাকে উহা দেখেছ কি? মুরীদ বলেন, আমি ত কিছু দেখিনি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি কা’বা শরীফও দেখনি। তারপর শায়েখ বললেন, তাওয়াফের সময় রমল (বিশেষভাবে দৌড়ানো) করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, সেই রমলের সময় দুনিয়া হতে এমনভাবে দৌড়ে পালিয়েছিলে কি, যাতে তোমার অনুভব হয়েছে যে, তুমি দুনিয়া থেকে একেবারে আলাদা হয়ে গেছ? মুরীদ বলেন, এমন ত অনুভব হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি রমলও করনি। এরপর শায়েখ বললেন, হাজরে আসওয়াদের উপর হাত রেখে উহাকে চুম্বন করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি, করেছিলাম। শায়েখ বললেন, যে হাজরে আসওয়াদের উপর হাত রাখলো সে যেন আল্লাহর সাথে মুসাফাহা করলো। যার সাথে আল্লাহ মুসাফাহা করেন সে সর্বপ্রথম নিরাপদ হয়ে যায়। তোমার উপর ওই নিরাপত্তার আছর জাহির হয়েছিল কি? মুরীদ বলেন, কোন আছর ত জাহির হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি হাজরে আসওয়াদের উপর হাতই রাখনি। এরপর তিনি বলেন, মাক্বামে ইবরাহীমে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েছিলে কি? মুরীদ বললেন, জি। শায়েখ বললেন, সে সময় তুমি আল্লাহর দরবারে এক উচ্চ মরতবায় পৌঁছেছিলে। আর যে উদ্দেশ্যে সেখানে দাঁড়িয়েছিলে উহার হক আদায় করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, আমি ত তা করিনি। শায়েখ বললেন, তাহলে ত তুমি মাক্বামে ইবরাহীমে নামাজই পড়নি। এরপর সাফা মারওয়ায় সাঈর জন্য সাফা পাহাড়ে উঠেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি করেছ? মুরীদ বলেন, ৭বার তাকবীর বলেছি এবং হজ্ব কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেছি। শায়েখ বললেন, তোমার তাকবীরের সাথে ফেরেশতারাও কি তাকবীর বলেছিল? এবং তাকবীরের হাকীকত কি অনুভব করেছিলে? মুরীদ বলেন, না। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি তাকবীরই বলনি। এরপর শায়েখ বললেন, সাফা হতে নিচে নেমেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন তোমার মনের সকল কালিমা দূর হয়ে মন পরিষ্কার হয়েছিল কি? মুরীদ বলেন, না। শায়েখ বললেন, তাহলে ত মনে হয়, তুমি না সাফাতে উঠেছ আর না সাফা হতে নেমেছ। এরপর শায়েখ বললেন, সাফা-মারওয়ার মাঝখানে দৌড়েছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন কি সমস্ত জিনিস হতে পালিয়ে আল্লাহর নিকট পৌঁছে গিয়েছিলে? মুরীদ বলেন, না, এমন ত অনুভব হয়নি। শায়েখ বললেন, তাহলে ত তোমার দৌঁড়ানোই হয়নি। এরপর তিনি বলেন, তুমি কি মারওয়া পাহাড়ে উঠেছিলে? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, সেখানে কি তোমার উপর সাকীনা নাযিল হয়েছিল? এবং উহা হতে বিরাট একটি অংশ তুমি হাসিল করেছ কি? মুরীদ বলেন, না, এরকম ত মনে হয়নি। তখন শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি মারওয়ায় উঠইনি। এরপর শায়েখ বললেন, তুমি মিনায় গিয়েছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি, গিয়েছিলাম। শায়েখ বললেন, সেখানে আল্লাহর নিকট এমন কিছু আশা করেছিলে কি যা গুনাহের অবস্থায় হয় না? মুরীদ বলেন, এমন আশা ত করতে পারিনি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি মিনাতেই যাওনি। এরপর শায়েখ বললেন, তুমি মসজিদে খাইফে প্রবেশ করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন আল্লাহর প্রতি এমন ভয় হয়েছিল কি যেমন ভয় অন্য সময় হয়নি? মুরীদ বলেন, না। এমন ত হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি মসজিদে খাইফে প্রবেশই করনি। এরপর শায়েখ বললেন, তুমি আরাফার ময়দানে হাজির হয়েছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, সেখানে হাজির হয়ে একথা কি বুঝতে পেরেছিলে যে, দুনিয়াতে কেন এসেছো? কি করতেছ? এখন কোথায় যেতে হবে? এসব বিষয় বুঝতে পেরেছ কি? মুরীদ বলেন, না, এসব বিষয় ত বুঝতে পারিনি। শায়েখ বললেন, তাহলে ত তুমি আরাফাতেই যাওনি। এরপর বললেন মুযদালিফায় গিয়েছিলে? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, সেখানে কি তুমি এমনভাবে জিকির করেছিলে, যা আল্লাহ ছাড়া আর বাকি সবকিছুকে ভুলিয়ে দেয়? মুরীদ বলেন, এমন ত হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি মুযদালিফাই যাওনি।
এরপর মিনায় ফিরে এসে কুরবানী করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি, করেছিলাম। শায়েখ বললেন, তখন কি তোমার নিজের নফসকে জবাই করে দিয়েছিলে? মুরীদ বলেন, এমন ত করা হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি কুরবানীই করনি। এরপর শায়েখ বললেন, রামী করেছিলে কি? অর্থাৎ শয়তানকে কংকর মেরেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, প্রত্যেক কংকর মারার সময় নিজের পূর্বের অজ্ঞতাকে দূরে নিক্ষেপ করে নতুন কিছু এলেম বর্ধিত হওয়া বিষয়ে অনুভব হয়েছে কি? মুরীদ বলেন, এমন ত অনুভব হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি রামীও করনি। তারপর বললেন, তাওয়াফে যিয়ারাত করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন তোমার নিকট বাস্তব ও প্রকৃত তত্ত্ব প্রকাশিত হয়েছিল কি? আল্লাহ জাল্লা শানুহুর পক্ষ হতে তোমার উপর কোন সম্মান ও আপ্যায়নের বর্ষণ হয়েছিল কি? মুরীদ বলেন, আমার নিকট ত এমন কিছু প্রকাশিত হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি তাওয়াফে যিয়ারাতও করনি। তারপর শায়েখ বললেন, হালাল হয়েছিলে কি?অর্থাৎ ইহরাম খুলেছিলে? মুরীদ বলেন, জি। শায়েখ বললেন, তখন সর্বদা হালাল রিজিক রোজগারের অঙ্গীকার করেছিলে কি? মুরীদ বলেন, না। এমন ত করা হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি হালালও হওনি। এরপর শায়েখ বললেন, বিদায়ী তাওয়াফ করেছিলে কি? মুরীদ বললেন, জি, করেছিলাম। শায়েখ বললেন, সে সময় দেহ মনকে সম্পূর্ণরূপে বিদায় জানিয়েছিলে কি? মুরীদ বলেন, এমন ত অনুভব হয়নি। শায়েখ বললেন, তবে ত তুমি বিদায়ী তাওয়াফও করনি। এরপর শায়েখ বললেন, তুমি পুনরায় হজ্বে যাও এবং এভাবে হজ্ব করে আস যেভাবে আমি তোমাকে বিস্তারিতভাবে বলেছি।
মুহতারাম, বয়ানটি মুহাদ্দিস আলহাজ্ব জাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির লেখা ফাযায়েলে হজ্ব নামক কিতাবের ৮৭-৯২ পৃষ্ঠায় লেখা ঘটনা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ ঘটনা এজন্য বর্ণনা করা হয়েছে যাতে আন্দাজ করা যায় যে, আল্লাহওয়ালাদের হজ্ব কেমন হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এভাবে হজ্ব করার তাওফীক দান করুক।

ছবি : গুগল থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা