মো. আব্দুল মান্নান :
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে সর্ববৃহৎ আকারে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)’র নবরাত্রী হলে ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

জানা যায়, বিশ্বের ১৭টি দেশ থেকে ১৭ জন ও দেশের কয়েক হাজার প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। এ উপলক্ষে আইসিসিবি’র নবরাত্রী হল বিশ্ববরেণ্য হাফেজ-আলেমদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিরাজ করছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত, উৎসবমুখর ও আনন্দমুখর পরিবেশ।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এই দুইভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩ জন ও জাতীয় পর্যায়ে ৮ জন মোট ১১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার কৃতি সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ জাকি। পুরস্কার হিসেবে তাকে নগদ ১৫ লক্ষ টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া রানার্স আপ হয়েছেন দুইজন। তাদের একজন হলেন ইয়েমেনের মুহাম্মদ বালিগ সায়্যিদ আবদুল গাফফার আলী। তাকে ১০ লক্ষ টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। আরেকজন হলেন বাংলাদেশের নেত্রকোনার জামালুল কুরআন মাদরাসার কৃতি শিক্ষার্থী হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। তাকে ৭ লক্ষ টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
আর জাতীয় পর্যায়ে ৮ জন পুরস্কৃত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ও দেশসেরা হয়েছেন, হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। তাকে ১০ লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। আর জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়েছেন হাফেজ জিহাদুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৭ লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। তৃতীয় হয়েছেন হাফেজ আবদুর রহমান বিন নূর। তিনি ৫ লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র পেয়েছেন। চতুর্থ হয়েছেন অন্ধ হাফেজ মো. জুবায়ের আহমাদ। তিনি ২ লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র পেয়েছেন। পঞ্চম হয়েছেন হাফেজ মুহাম্মদ শাহেদ আলম তারিফ। তিনিও ২ লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র পেয়েছেন। ষষ্ঠ হয়েছেন হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক নুমান, সপ্তম হাফেজ মুহাম্মদ আফফান বিন সিরাজ ও অষ্টম হয়েছেন হাফেজ মুহাম্মদ ইউসুফ আলী। তারা সবাই ১ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন। এছাড়া সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র পেয়েছেন।
জানা যায়, পরবর্তীতে তাদেরকে পিতামাতাসহ বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে ওমরাহ করানো হবে।
এ মহতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ -এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে মুবারকবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, দেশে প্রথমবারের মত বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য তাদেরকে মুবারকবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ আয়োজন যাতে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে সেই কামনা করছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর চরমোনাইয়ের মরহুম পীরের সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ মুসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানী। প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এমডি সায়েম সোবহান আনভীর আপনাদেরকে সালাম জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট ইসলামী সংগীতশিল্পী বদরুজ্জামান উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শামসুল আলম, দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর ড. খলিলুর রহমান মাদানী, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ -এর সভাপতি শায়েখ হাফেজ আবদুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মিজানুর রহমান, শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন নদভী, শায়খুল হাদীস ইহসানুল হক জিলানী, শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম, কুরআনের নূর আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার চিফ কো-অর্ডিনেটর হায়দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী, মিজানুর রহমান মানিক, গুলজার আহমেদ, হাফেজ মাওলানা ক্বারী আবু সালেহ মো. মূসা প্রমুখ।
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।