ময়মনসিংহের ফুলপুরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যানদের (ইউপি সদস্য) হাতে না দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ জুন ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট সংস্কার, ছোট ছোট সেতু-কালভার্ট নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচলিত নিয়মে প্রকল্পের অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে উত্তোলন ও বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ফুলপুরে ব্যাংক থেকে ওই অর্থ উত্তোলন করে পিআইও অফিসের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী নিজেদের ব্যাগে নিয়ে যান।
এ সময় কয়েকজন প্রকল্প চেয়ারম্যান অর্থ বুঝে নিতে চাইলে ব্যাংকের ভেতরেই উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পিআইও অফিসের কর্মচারীরা প্রকল্প চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে বলেন, “অফিসে আসেন, পরে টাকা দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, প্রকল্পের অর্থ সরাসরি প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কাছে না গিয়ে অন্যের হেফাজতে থাকলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং উন্নয়নকাজের মান ও বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সুযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ যথাযথ নিয়মে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ব্যয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বেগম শাহিন বলেন, “প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেই বিল দেওয়া হয়। এলাকাবাসী কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে নেওয়া।