• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
Headline
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ : স্থানীয়ভাবে ফুলপুরে শুভ উদ্বোধন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানের বাংলাদেশ সফর শুরু ২১ জুন ফুলপুরে ছাত্রদল নেতা সুজার জন্য স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফুলপুরে লোড শেডিং বা বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ -এর চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে নিয়োগ পেলেন মোতাহার হোসেন তালুকদার নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানালেন ফুলপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ফুলপুরে জুয়া-মাদকসহ অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান ফুলপুরে বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ ফুলপুর পৌরসভায় প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে, ই-জিপি টেন্ডার লটারি অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা বিলাল বাওয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা

সন্তান হিসেবে মা-বাবার জন্য আমাদের করণীয় কি

মোঃ আব্দুল মান্নান / ৬৪ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

একজন সন্তান হিসেবে মা-বাবার জন্য অনেক কিছু করণীয় করণীয় আছে। এ বিষয়ে নিচে কয়েকটি কথা তুলে ধরা হলো:
১। যদি মা-বাবার প্রয়োজন হয় এবং সন্তান তাদের ভরণ পোষণ দিতে সক্ষম হয় তাহলে মা-বাবার ভরণপোষণ দেওয়া সন্তানের উপর ওয়াজিব। এমনকি মা-বাবা কাফের হলেও তাদের ভরণপোষণ দেওয়া ওয়াজিব।
২। প্রয়োজন হলে মা-বাবার খেদমত করতে হবে। খেদমত নিজে পারলে করবে। নিজে না পারলে খেদমতের লোকের ব্যবস্থা করে দেওয়া দায়িত্ব। উল্লেখ্য, খেদমতের ক্ষেত্রে বাবার চেয়ে মাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৩। মা-বাবা ডাকলে তাদের ডাকে সাড়া দিতে হবে। এমনকি মা-বাবা যদি কোন অসুবিধায় পড়ে বা অসুবিধার ভয়ে সন্তানকে সহযোগিতার জন্য ডাকে আর অন্য কেউ তাদের সহযোগিতা করার মত না থাকে তাহলে ফরজ নামাজে থাকলেও তা ছেড়ে দিয়ে তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ওয়াজিব। তবে জরুরত ছাড়া যদি ডাকেন তবে ফরজ নামাজ ছাড়া জায়েজ হবে না।
আর নফল বা সুন্নাত নামাজে থাকা অবস্থায় বিনা জরুরতে মা-বাবা ডাকলে তখনকার মাসআলা হলো- যদি সে নামাজে আছে একথা না জেনে ডাকে তাহলে নামাজ ছেড়ে তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি নামাজে আছে জেনেও বিনা জরুরতে ডাকে তাহলে সেরূপ ক্ষেত্রে নামাজ ছাড়া যাবে না। দাদা-দাদি ও নানা-নানির ক্ষেত্রেও মাসআলা অনুরূপ।
৪। মা-বাবার হুকুম মান্য করা ওয়াজিব, যদি কোন পাপের বিষয়ে না হয়। কেননা, পাপের বিষয়ে হুকুম করা হলে তা মান্য করা যাবে না। মুস্তাহাব পর্যায়ের ইলম হাসিল করার জন্য সফর করতে হলে তাদের অনুমতি প্রয়োজন। তবে ফরজে আইন বা ফরজে কেফায়া পরিমাণ ইলম হাসিল করার জন্য সফর করাটা তাদের অনুমতির উপর নির্ভরশীল নয়।
৫। মা-বাবার সাথে সম্প্রীতি ও ভক্তির সাথে নম্রভাবে কথা বলা আদব। রূঢ়ভাবে ও ধমকের স্বরে কথা বলা নিষেধ।
৬। কথায় কাজে ও আচার আচরণে মা-বাবার আদব সম্মান রক্ষা করতে হবে। এজন্যই তাদের নাম ধরে ডাকা নিষেধ। চলার সময় তাদের পিছনে চলা উচিৎ। তাদের সামনে নিম্ন স্বরে কথা বলা উচিৎ। তাদের সামনে তেজ দৃষ্টিতে তাকানো উচিত নয়। উল্লেখ্য, সম্মানের ক্ষেত্রে মা’র চেয়ে বাবাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৭। যে কোনভাবে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম। মা-বাবা সন্তানকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিলেও তাদেরকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
৮। নিজের জন্য যখনই দোয়া করা হবে তখনই মা-বাবার জন্য رب ارحمهما كما ربيانى صغيرا এই দোয়া পড়া। তাদের মাগফিরাতের জন্য, তাদের প্রতি আল্লাহর রহমতের জন্য, তাদের মুশকিল আসান ও কষ্ট দূর হওয়ার জন্য দোয়া করতে হবে।
তাদের মৃত্যুর পরও আজীবন তাদের জন্য দোয়া করতে হবে।
৯। মা-বাবার খাতিরে তাদের বন্ধু বান্ধব ও প্রিয়জনদের সাথে এবং মা-বাবার ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সম্মানের ব্যবহার করতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী তাদের উপকার ও সহযোগিতা করতে হবে।
১০। মা-বাবার ঋণ পরিশোধ করা এবং তাদের জায়েজ অসীয়ত পালন করাও তাদের হক আদায়ের মধ্যে পড়ে।

একজন আদর্শ সন্তান হিসেবে মা-বাবার জন্য আরও কি কি করণীয় আছে তা বিশদভাবে জানতে হবে এবং মানতে হবে। কিন্তু দেখা যায়, আমাদের দেশে, আমাদের সমাজে অধিকাংশ সন্তানই তাদের মা-বাবা সম্বন্ধে বেখবর। মা-বাবার হক সম্বন্ধে বেখবর। তাদেরকে ঠিকমতো দেখবাল করা হয় না। হাদিসে আসছে, মা-বাবার খুশিতে আল্লাহ খুশি। একইভাবে মা-বাবার নারাজিতে আল্লাহ নারাজ। কাজেই মা-বাবাকে অবশ্যই আমাদের খুশি রাখতে হবে। দেখা যায়, মা-বাবা সন্তানকে  ডাকলে কাছে পায় না। যে বয়সে তাদেরকে শিশু সন্তানের মত চোখে চোখে রাখতে হয়, খাওয়ায়ে দিতে হয়, গোসল করিয়ে দিতে হয়, সেই বয়সে ৮দিন ১০দিনেও উঁকি দেওয়া হয় না তাদের ঘরে। এমনকি ঈদের দিনেও নেওয়া হয় না তাদের খবর। যে কারণে আজ আমাদেরকে দেখতে হচ্ছে যে, সন্তান সচিব, সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদেশে থেকে বহু টাকা কামাই করতেছে কিন্তু মা-বাবার খোঁজ খবর না রাখায় জাতির কাছে লজ্জিত হতে হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মা-বাবার প্রতি যত্নশীল থাকার তাওফীক দান করুক।

* তথ্য সূত্র: আহকামে জিন্দেগী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা