মো. আব্দুল মান্নান :
সময় থাকলে বিকালবেলায় ঘুরে আসুন। দেখে আসুন কংশের হাল অবস্থা। আমি গিয়েছিলাম শনিবার (২৯ মার্চ) বিকালে। বাতিকুড়া গ্রামের কৃতি সন্তান ঢাকার উত্তরখানে ময়নার টেক জিয়াবাগ এলাকার দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাইমূন সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে এ জায়গাটি অবস্থিত। দেখে আসলাম।

এটি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাতিকুড়া ও পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার সাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজুড়ি গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া কংশের একটি ডোবা। ওখান থেকে তোলা এ ছবি। কংশ নদী বর্তমানে শুকিয়ে গেছে।

বিশাল বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে শুধু বালু আর বালু। তবে ডোবা এলাকায় বা যেখানে ভ্যাকু গেড়ে বালু উঠানো হয়েছিল ওই ধরনের কিছু জায়গায় অল্প পানি আছে। এ পানি দেখে কেউ মনে করবেন না যে, কংশে পানি থইথই করছে।

১৬৫ কোটি টাকা খরচ করে কংশ খনন করা হলেও বর্তমানে কিন্তু কংশ নদীতে পানি নেই। এসব ডোবায় কিছু পানি আছে যেখানে মাছ ধরেন জেলেরা। আপনি যদি বিকালে কখনো ওখানে হাঁটতে যান তবে অনেক ভালো লাগবে। দেখে আসতে পারবেন কংশের বাস্তব রূপ লাবণ্য। নদীর পাড়ে কৃষকরা মিষ্টি আলু, লাউ কুমড়া, বাদাম নানা ফসল চাষ করেছেন। দেখলে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। তবে ওই এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য এখনো হয়নি পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট। এছাড়া নদীর এক পাড় ভেঙে গড়ছে অপর পাড়।

বর্ষাকাল এলে নদীর পাড়ের মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত থাকে সদা সর্বদা। চোখের সামনে যখন ধসে পড়ে তাদের সোনার ফসলের ক্ষেত বা কারো বাড়ি ঘর তখন কাঁপনি ওঠে শরীরে। কিন্তু তবু থাকতে হয় তাদেরকে সেখানেই অদৃশ্য কারণে। গেলে সচক্ষে দেখে আসতে পারবেন এসবের বাস্তবতা।
ফুলপুর থেকে যদি ওখানে যান তবে দুই দিক দিয়েই যেতে পারবেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে থানা রোড দিয়ে ডেফুলিয়া বাঁশতলা বাজার। ওখানেই রয়েছে কংশের এসব দৃশ্য। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সরচাপুরের আগে পূর্ব বাখাই টু বাতিকুড়া রাস্তা দিয়ে যেতে পারেন।