মোঃ আব্দুল মান্নান
চলে গেলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম মাদরাসাতুস সফফার পরিচালক হাফেজ এরশাদুল্লাহ (৭০)। আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের সময় উনার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাতুস সুফফার তৃতীয় তলায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হুজুর দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৫ মেয়ে ও ছাত্র ছাত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার (২৬ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় ফুলপুর সরকারি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি ময়মনসিংহ বড় মসজিদ থেকে হিফজ সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি কাজিয়াকান্দায় হাফেজ তালেব সাহেবের নিকট তিনি হিফজ পড়েছেন।
হাফেজ এরশাদুল্লাহ একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। জানা যায়, বারইগাও মাদরাসায় উনার শিক্ষকতা জীবন শুরু। এরপর শেরপুর তেরাবাজার মাদরাসায় ১৫ বছর, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ায় ৫ বছর, দিউ সাইয়্যেদেনা উমর ফারুক (রা.) আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এতে ৬ বছর শিক্ষকতা, দুবাইয়ে ৩ বছর ও ফুলপুর সরকারি কলেজ রোডে ২০১০ সনে নিজে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে এতে আজীবন তিনি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বহু ছাত্র গঠন করে গেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, ঢাকা চৌধুরীপাড়া মাদরাসার মুহতামিম মাহফুজুল হক কাসেমী, দারুস সালাম মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল হাকিম, জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাতের মুহতামিম মাওলানা ইয়াহইয়া, নকলার খলিল কাসেমী, ঢাকা কায়েদটুলী মসজিদের খতীব মাওলানা মুখলেসুর রহমান, আরজাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এমদাদ প্রমুখ।
হাফেজ এরশাদুল্লাহ তিন চিল্লার সাথী ছিলেন। মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী হুজুরের সাথে তিনি ইন্দোনেশিয়াতে দাওয়াতে তাবলীগের কাজে দুই মাস সময় লাগিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা উনার নেক আমলগুলো সহীহ হিসেবে কবুল করে নিয়ে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করুক।