মো. আব্দুল মান্নান :
একটু জৈ ঝামেলা বা পরীক্ষাস্বরূপ মাঝে মধ্যে একটু কষ্ট মসিবত আসলে মনে হয় আমার মত হতভাগা আল্লাহর জমিনে আর দ্বিতীয় কেউ নেই। হায়রে! আমি কতই না কষ্টে আছি! মন ছোট হয়ে যায়। কিন্তু আসলে কি তাই? মোটেও না। সব ধরনের সুবিধাসম্পন্ন উঁচু ভবনে থাকা হয়। হয়তো দুয়েক সময় একটু খানাদানা খারাপ হতে পারে, দুয়েক মাসের ঘরভাড়া একটু লেইট হয়ে যেতে পারে, বাজার থেকে আসতে পারে একটু বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ। তাই বলে কি? এতেই কি আমি শেষ?
দুদিন পর কিন্তু আমার এসব চাপ থাকছে না। কোনো না কোনোভাবে সামলে যাচ্ছে। সমাধান হয়ে যাচ্ছে সকল সমস্যা। ঠিক হয়ে যাচ্ছে সব। উন্নত মশারী, ফ্যানের বাতাস, টাইলস করা টয়লেট ও বহুতল ভবনে সময় কাটছে বেশ।
কিন্তু এরা? এদের জীবন নিয়ে কি কখনো ভেবেছি আমরা? ওরা কতই না কষ্টে আছে! যারা মাটিতে ঘুমায়, গায়ে গাড়ি উঠে যাওয়ার ভয় নিয়ে মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘুমায়, টয়লেট ও ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে ঘুমায়। যাত্রী ছাউনিতে, মানুষের বারান্দাতে ও সড়কে মশারী ছাড়া ঘুমায়। তারা কতই না কষ্টে আছে! শুধু যে একদিন বা একরাত তা নয় বরং রাতের পর রাত, দিনের পর দিন এভাবে জীবন কাটাচ্ছে একটা শ্রেণি। ওদের চেয়ে আমরা কতই না ভাল আছি! কতই না সুখে আছি! আলহামদুলিল্লাহ।
মশারী টানিয়ে শুই। হঠাৎ একটা মশা কামড় দিলে নিজে অথবা সাথীকে দিয়ে মশারী খুলিয়ে চিপে মশা মেরে আর মশা নেই নিশ্চিত হয়ে পরে ঘুমাই। আরামের একটু ব্যাঘাত ঘটলে ঘুম হয় না। শরীর একটু ঘামলে পাতলা গামছা ভিজিয়ে চিপে উহা দ্বারা শরীর মুছে পরে শুইতে হয়। যে টয়লেটে অন্যরা যায় ওটাতে যেতে মন চায় না। অন্যের ব্যবহৃত গামছা তো কখনো টাচই করা হয় না। এত সুখ! এত শান্তিতে আল্লাহ তায়ালা রাখছেন। এরপরও একটু কষ্টের মুখোমুখি হলে আল্লাহর প্রতি বেজার হয়ে যাই। নাউজুবিল্লাহ।

সামান্য কারেন্ট আসতে একটু দেরি হলে, মনে মনে কষ্ট পাই। ভাবি, হায়রে! কত কষ্টে আছি! এতক্ষণ কারেন্ট ছাড়া মানুষ থাকে কেমনে? এটাও কি সম্ভব? মানুষের বাসায় কারেন্টের বিকল্প আছে। আর আমরা কতই না গরিব! আমাদের বাসায় আইপিএস নেই! জেনারেটর নেই!
কিন্তু আসলে কি তাই? না, না। কষ্টে নয় বরং মহাসুখে রাখছেন আল্লাহ তায়ালা। আলহামদুলিল্লাহ। ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।
সবশেষে বলবো, নিজে সুখে থাকাটাই আসলে প্রকৃত সুখ নয় বরং আশপাশের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে পারলেই প্রকৃত ভাল থাকা বা সুখে থাকা বলে। এজন্যে আসুন, হৃদয়বান ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন। এসব হতভাগাদের পাশে এসে দাঁড়ান। এদেরকে কেমনে একটু ভাল রাখা যায় এ ব্যাপারে একটু ফিকির করুন।
আমার ধারণা, বড় বড় মসজিদগুলোতে এক পাশে এসব অসহায় বা মুসাফিরদের জন্য মশা ও ঝুঁকিমুক্ত রাত কাটানোর একটু ব্যবস্থা করা যায়। চাইলে এটা সম্ভব। এ বিষয়ে সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, মসজিদ কমিটি, সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদেরকে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ রইলো।