অনলাইন ডেস্ক :
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী।
আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে এ উপলক্ষে ময়মনসিংহে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ঐতিহাসিক টাউনহল প্রাঙ্গণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে সঙ্গীতের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জানা যায়, ৬৫ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ এবং ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ কোটার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডারদের শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচি আহবান করে ময়মনসিংহের আলেমদের সর্ববৃহৎ ইসলামী সংগঠন ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী।

এ কর্মসূচির ব্যাপারে ইত্তেফাকের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাদ দিয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগ একটি পরিকল্পিত ধর্মবিমুখ নীতির বহিঃপ্রকাশ। এটি কার স্বার্থে, কার উদ্দেশ্যে এবং কীসের ভিত্তিতে করা হচ্ছে—তা জাতি জানতে চায়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মৌলিক শিক্ষায় ভয়াবহ ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষানীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী। ইসলাম ধর্মে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় ধ্বংসের সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র।
ইত্তেফাক নেতা আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী বলেন, গান শেখানোর পরিবর্তে শিশুদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে আলাদা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চারিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষাই অপরিহার্য।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইত্তেফাকের নেতারা আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে অধর্মের পথে পরিচালনা করার এই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া প্রতিটি দেশপ্রেমিক ও ঈমানদার মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দেশের সচেতন আলেম সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, তৃতীয় লিঙ্গ কোটার নামে শিক্ষাব্যবস্থায় সমকামিতার মতো এজেন্ডা প্রবেশ করানো হচ্ছে, যা সমাজে নতুন বিভাজন ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করবে।
দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য এই সময়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতাকে দায় করে বক্তারা আরও বলেন, সরকার দেশের পরিস্থিতি শান্ত করতে পারছে না। তদুপরি আবার শিক্ষার নামে সমাজে নতুন বিভাজন তৈরি করছে। একদিকে সরকার বলছে, সব সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারবো না। নির্বাচিত সরকার এসে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, ট্রান্সজেন্ডারসহ নানা বিতর্কিত বিষয়ের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করছে সরকার। এটা উদ্বেগজনক।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের স্বার্থে অবিলম্বে এ প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। জনগণের আন্দোলন রাজপথে কঠোর থেকে কঠোরতম হবে।
এ কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে সচেতন তৌহিদি জনতা অংশগ্রহণ করে। টাউনহলে মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা দেন নেতারা। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাউনহল মোড় হয়ে, নতুন বাজার, বাতিরকল প্রদক্ষিণ করে সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মজলিসে শূরার সভাপতি আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জি। উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, আল্লামা আব্দুল হক, মুফতী মুহিববুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মাদ বিন হাফেজ্জি, মাওলানা মঞ্জুরুল হক, আবুল কালাম আজাদ, মুফতী আমীর ইবনে আহমাদ, মুফতী শরিফুর রহমান, মাওলানা মানাজির আহসান খান তাবশির প্রমুখ।