• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ : যা বললেন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ যদি কেউ রোজার মাসেও ধান্ধা করতে চায়, জানাবেন আমরা তা বন্ধ করব — এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ সমাজ কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে, আপনারা আপনাদের মেয়ে সন্তানদেরকে পড়াশোনা করাবেন — ফুলপুর ইউএনও ফুলপুরের মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসে তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো– রিফাত যুবকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে — এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুর ক্বাসিমুল উলূম মাদরাসার ছাত্র শরীফুল ইসলাম তানযীম বোর্ডে প্রথম আধা কিলোমিটার রাস্তা পাকা করলে দূরত্ব কমবে দুই কিলোমিটার, বাড়বে অন্যান্য সুবিধাও একবার হেরেছেন বেশি করলে বার বার হারবেন — এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুরে সুজুকি মার্ট -এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ফুলপুর শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. এ. কে. এম. আমিনুল হক

Reporter Name / ৫১৮ Time View
Update : শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫

মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. আমিনুল হক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামে উনার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ডা. আমিনুল হক তার ছাত্র জীবন, কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অলিখিত বক্তব্য দেন। বক্তব্য থেকে জানা যায়, তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বর্তমান সদস্য। এছাড়া ১৯৭৮ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাব-এর কেন্দ্রীয় কমিটির শুরুলগ্ন থেকে সদস্য । ইতোমধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ শুরু করেছেন।


জানা যায়, এমপি নির্বাচন করবেন এমন প্ল্যান তার দীর্ঘদিনের। সেই টার্গেটকে সামনে রেখে অনেক আগে থেকেই এলাকার মানুষের জন্য প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে, এলাকায় পয়ারী ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে টিউবওয়েল বিতরণ ও গরিব অসহায় ছেলেমেয়েদের বিবাহসাদীতে বিশেষ অনুদান প্রদানের মাধ্যমে জনসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
উনার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ড্যাব (আইপিজিএমআর)- এর আহ্বায়ক ছিলেন। ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এর উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ২০০৫ সাল থেকে ঢাকাতে ‘ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা সমিতি’ -এর সহসভাপতি হিসেবে ও এলাকায় তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ -এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে তার সম্পর্ক বহু আগের। প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, ময়মনসিংহে এসে যখন ব্রহ্মপুত্রে খাল খনন কাজে অংশ নেন ডা. এ. কে. এম. আমিনুল হক তখন তার সাথে খনন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিমান থেকে অবতরণের পর সর্ব প্রথম তিনিই প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে ফুল দিয়ে বরণ করেছিলেন। চাকরি করার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সময় দিতে না পারলেও বিএনপি তার অনেক ভালবাসার দল। এ দলের সাথে, দলের চেয়ার পার্সনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন তিনি। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান  তারেক রহমানের সহধর্মিণী যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট ছিলেন তিনি তখন ওই কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তারেক জিয়ার শ্বশুর ও তার মা সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবায় বহু সময় দিয়েছেন তিনি। সেই সুবাদে ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন এই নেতার দলের মুখ্য নেতৃবৃন্দের সাথে যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এরই আলোকে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চিকিৎসা উপলক্ষে ফুলপুর তারাকান্দা ও আশপাশের লোকজন আমাকে সবাই চিনেন।  চিনেন না এমন নেই বললেই চলে। এছাড়া তিনি বিটিভিসহ বেশ কয়েকটি টিভির টকশোতেও অংশ নেন জানিয়ে বলেন, যারা ঘরে বসে থাকেন অর্থাৎ মহিলারা তারাও আমাকে চিনেন। এমপি পদে নির্বাচন করার জন্য একজন মানুষের যেসব গুণের প্রয়োজন হয় এর সবকটিই তার মধ্যে আছে বলে দাবি করেন জামান নামে এক শিক্ষক।

অধ্যাপক ডঃ এ. কে. এম. আমিনুল হক অত্যন্ত সম্মানি, মার্জিত ও খান্দানী বংশের লোক। ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আমজাদ আলী মিয়া ছিলেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবী। তিনি ১৯৪৬-১৯৭১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই মেয়াদে ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের জেলা পরিষদ সদস্য (১৯৬৪-৬৮) এবং ময়মনসিংহের কালেক্টর অফিসের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অধ্যাপক আমিনুল হক তারই সুযোগ্য পুত্র। তার শিক্ষাদীক্ষা সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি পয়ারি গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭২ সনে তিনি এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৭৪ সনে আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। তারপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮১ সনে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইপিজিএম অ্যান্ড আর থেকে ১৯৯৭ সনে এমডি মেডিসিন ও বিসিপিএস থেকে ১৯৯৯ সনে এফসিপিএস মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডা. আমিনুল হক ১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি শুরু করেন এবং ২০১৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০০২ সালে ম্যাকপি (আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের সদস্য) এবং ২০০৫ সালে এফএসিপি (আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের ফেলো) এবং এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফআরসিপি (রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের সদস্য) ডিগ্রি অর্জন করেন।
জানা যায়, পেশাগত জীবনে অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক মেডিকেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এর বৈজ্ঞানিক সম্পাদক (১৯৮৩-১৯৮৭); এমডি/এমএস কমিটির সভাপতি (১৯৯৩-১৯৯৯) পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি (২০০১-২০২৪) বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিনের বৈজ্ঞানিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৩-১৯৮৬) ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কোষাধ্যক্ষ। প্রকাশনা ক্ষেত্রেও উনার রয়েছে অনেক অবদান। স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতার জন্য ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘স্বাস্থ্য কোষ’, আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে (২০১২ সাল থেকে) দ্বিবার্ষিক স্বাস্থ্য পত্রিকা ‘স্বাস্থ্য কথা’ ও ৩০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশ করেন তিনি।

উনার ভাই-বোনদেরও রয়েছে গৌরবজনক পরিচিতি। প্রথম ভাই মোঃ শামসুল হক, এমএ এলবি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, ময়মনসিংহ জজ আদালত। তিনি আমজাদ আলী মেমোরিয়াল থিয়েটারের সভাপতি। দ্বিতীয় ভাই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোঃ আজিজুল হক (অব.)। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার আমলে (২০০৩-২০০৭) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। তৃতীয় ভাই অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আমিনুল হক নিজে। চতুর্থ ভাই মোঃ মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. (আরটিডি), শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, ময়মনসিংহ। পঞ্চম ভাই অধ্যাপক. ড. মোঃ সায়েদুল হক, এফসিপিএস, এমএস (চক্ষু চিকিৎসা)। তিনি মিরপুরের মার্ক মেডিকেল কলেজের চক্ষুবিদ্যা বিষয়ক অধ্যাপক। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ডিএবি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ‘চোখের যতন’ বইয়ের লেখক।
২০০৯ সালে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অপথালমোলজিতে সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে বদলি হন। তার ড্যাব অ্যাফিলিয়েশনের কারণে তিনি এই পদোন্নতি পেয়েছিলেন। ১০ বছর পর তিনি পিরোজপুর থেকে একই পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন (স্বেচ্ছামূলক অবসর)। ষষ্ঠ বা সবার ছোট ভাই মোঃ আমদাদুল হক। তিনি একজন ব্যবসায়ী। এছাড়া তিনি আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক। পৈতৃক বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্বও অনেকটা তার উপরই। তার বোনেরাও স্ব স্ব জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রথম বোন আনোয়ারা খাতুন একজন গৃহবধূ। তবে তার স্বামী- প্রয়াত অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুইবার এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দ্বিতীয় বোন জাহানারা খাতুন বিএ। তিনি স্থানীয় লেদু মন্ডল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। তার স্বামী মৃত মোঃ জয়নাল আবেদীন, এমএ। তিনি শম্ভুগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। তৃতীয় বা সবার ছোট বোন অধ্যাপক. ড. ফিরোজা খাতুন। তিনি ফিজিওলজির (আরটিডি) অধ্যাপক। তার স্বামী- কলেজের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আউয়াল ভূঁইয়া, (অব.)। তিনি মিরপুরের একটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক্সের ডাক্তার। উনার সহধর্মিণী মিসেস সাবেরা হক এমএ (ইসলামিক ইতিহাস)। ব্যক্তি জীবনে অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক তিন সন্তানের জনক। প্রথম সন্তান আদিবা হক বারডেমের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের মেডিকেল অফিসার। দ্বিতীয়জন আদিলা হক এলসিএলএস থেকে এলএলবি আর সবার ছোট সন্তান ছেলে। উনার নাম মোঃ আইনুল হক। তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী। সবমিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান ডা. আমিনুল হক। তার সার্বিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনায় দল তাকে নমিনেশন দিবে বলে তিনি আশাবাদী।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা