মোঃ আব্দুল মান্নান:
ময়মনসিংহের ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদ পত্রিকার ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন বলেছেন- সংবাদ কারো পক্ষে গেলে অভিনন্দনের জোয়ার আসে না কিন্তু বিপক্ষে গেলেই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিষোদগার করা হয়। আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে তার ফেইসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে তিনি একথা বলেন। তার সেই পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো।
তিনি বলেন, ‘মফস্বলে সাংবাদিকতা করা আর তপ্ত মরুভূমিতে খালি পায়ে হাঁটা—বোধহয় একই কথা। জেলা শহরের তুলনায় উপজেলা পর্যায়ে কলম ধরাটা যে কত বেশি কঠিন, তা কেবল তারাই জানেন যারা মফস্বলের জনপদের একদম গভীরে গিয়ে সত্যের সন্ধান করেন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে আমি সেই কঠিন বাস্তবতার সাথেই লড়াই করে আসছি। সেই তৎকালীন ‘দৈনিক জাহান’ থেকে শুরু করে আজকের ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক সংবাদ’—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে সময়ের কত পরিবর্তন দেখলাম, কিন্তু মফস্বলের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলো বদলায়নি।
৩০ বছর এই পেশায় পার করার পরও আজ বিনয়ের সাথে বলতে হয়, আমি আজও পরিপূর্ণ ‘সাংবাদিক’ হয়ে উঠতে পারিনি। কারণ, মন যা বলতে চেয়েছে আমার লিখায় তা সবসময় প্রতিফলিত হয়নি। কলম যা লিখতে চেয়েছে অনেক সময় তা সাদা কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। তবুও সীমাবদ্ধতার এই বেড়াজাল টপকে যতটুকু করতে পেরেছি, সেটুকুর জন্যই সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা-ই আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি। সাংবাদিকতা এক চ্যালেঞ্জিং পেশা। উপজেলা সাংবাদিকদের জন্য ঠিক পেশা বললে ভুল হবে বলতে পারেন নেশা। সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্য কোন পেশা না থাকলে উপজেলা সাংবাদিকদের আর্থিক সংকট নিত্য সঙ্গী হয়। দীর্ঘদিন ধরে মফস্বল সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকায় আমার রয়েছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা। সংবাদ কারও পক্ষে গেলে অভিনন্দনের জোয়ার আসে না, কিন্তু বিপক্ষে গেলেই শুরু হয় ব্যক্তিগত আক্রমণ আর বিষোদগার। আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অনেক শিরোনামের জন্য আমাকে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল। এসব রিপোর্ট যে সকল বড় সাহেবের বিপক্ষে গিয়েছিলো তাদেরও অনেক পজিটিভ রিপোর্ট আমি করেছিলাম কিন্তু সেগুলোর মূল্য নেই। “প্রকৃত সাংবাদিকের কোনো বন্ধু থাকে না”—নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এই তিক্ত ধ্রুব সত্যটি আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।
জীবনের এই দীর্ঘ পথে কতো ‘বড় সাহেবদের’ বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছি, কতো মানুষের পিচ্ছিল পথকে নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে মসৃণ করে দিয়েছি, কিন্তু নির্মম পরিহাস আমার নিজের বিপদের দিনে তাদের ছায়াটুকুও খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাদের চলার পথের কাঁটা সরিয়েছি, তারাই অনেক সময় আমার অগ্রযাত্রার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে অবলীলায়। তবুও আমি থেমে যাইনি। কারো অবহেলা বা কারো কৃতজ্ঞতাহীনতা আমার চলার গতিকে রুদ্ধ করতে পারেনি। আমি আমার আপন গতিতে হেঁটে চলেছি নিরন্তর। হয়তো একজন শত্রু তৈরি হয়েছে, কিন্তু তার বিপরীতে অন্য কোনো সাধারণ মানুষ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাল যে শত্রু ছিল কিছুদিন পর সেই আবার বন্ধু হয়েছে। এভাবেই প্রতিকূলতাকে জয় করে মানুষের ভালোবাসা বুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে আমার জীবন।’
লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে এর জন্য ধন্যবাদ জানানোসহ তাকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।