মো. আব্দুল মান্নান :
গাজীপুরের চান্দনায় ৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে মসজিদ মার্কেটের সামনে নির্মমভাবে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে উপর্যুপরি কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে। তুহিন আমাদের ময়মনসিংহের ছেলে। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের পুত্র। তার তাওকীর হোসেন (৫) ও আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (৩) নামে দুজন শিশুসন্তান রয়েছে। তুহিনকে হত্যার প্রতিবাদে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শনিবার (৯ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে ফুলপুর গোল চত্বর এলাকায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ফুলপুর শাখার উদ্যোগে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় সাংবাদিকরা তুহিন হত্যায় জড়িত গ্রেফতারকৃত ঘাতক সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান। সংগঠনের ফুলপুর শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক হুমায়ুন কবির মুকুল, নুরুল আমিন, খলিলুর রহমান, সিদ্দিকুল হাসান, মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ। সাংবাদিক নুরুল আমিন বলেন, জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র সমাজ এজন্য রক্ত দেয়নি যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা করবে। এরকম বাংলাদেশের জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়নি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন দাবি করেন। একই কথা বলেন সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর মুকুল ও সাংবাদিক সিদ্দিকুল হাসান। বক্তব্যে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার (নিজ) মো. আব্দুল মান্নান তুহিন হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, তুহিন হত্যা সারাদেশের সাংবাদিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এই ঐক্যকে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং আগামী দিনে দেশের যে কোন জায়গায় সাংবাদিকদের উপর জুলুম নির্যাতন আসলে এভাবেই ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপিয়ে পড়তে হবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ করে আমাদের ফুলপুরের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফুলপুরের যে কোন অনিয়ম দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করা সম্ভব। ফুলপুরের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত ও উন্নত হওয়া সম্ভব। যেসব বরাদ্দ আসে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজ করানো সম্ভব। বিভেদে বিপদ বাড়ে। ক্ষতি হয়। একদল সাংবাদিক সরেজমিন চষে এসে নিউজ করলেও বিপক্ষ দল বলবে এটা ভুয়া নিউজ। ওখানে কোন ত্রুটি নেই। ১০০% সঠিকভাবে কাজ হয়েছে। এতে লাভ কার? ফুলপুরবাসী এতে লাভবান হবেন? হবেন না। বরং দুর্নীতিবাজরা লাভবান হবে। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিউজ করলেও বিপক্ষ দল শুধু শুধু বিরোধিতার খাতিরে সঠিক নিউজকে বলবে যে, এটা ঠিক করেনি অমুক। এতে দুর্নীতিবাজরা প্রশ্রয় পায়। এরকম কথা বলে দেওয়ায় সত্য নিউজ যিনি করলেন তার বিরুদ্ধে চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। এগুলো হলো সাংবাদিকদের অনৈক্যের কুফল। যদিও আমাদের ফুলপুরে এসব নেই। তবু এরকম ঘটতে কতক্ষণ লাগবে? এরকম ঘটলে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ফুলপুরবাসী। কোন কিছু ঘটার আগেই সতর্ক হওয়া, সতর্ক থাকা ভাল।
এজন্য আবারও ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আলাদা আলাদাভাবে থাকলে বা চললে যে উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করা হয় তা ব্যাহত হবে। তাই সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের উপজেলা সহ-সভাপতি সেলিম রানা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান রনি, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল হক ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান রাজন, সদস্য খাদিমুল হাসান, হাদিয়াতুল ইসলাম উমরিদ প্রমুখ।