মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে সরকারি হালট বেদখল করে বাড়ি নির্মাণ করায় চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে এলাকাবাসীর। সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে অবশেষে হালট প্রমাণিত হওয়ায় বাড়িটি দ্রুত উচ্ছেদ চায় এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের সঞ্চুর গ্রামের জনৈক হেলাল উদ্দিনের বাড়ি নিয়ে এ বিপত্তি ঘটে। হেলাল উদ্দিন এর আগে এটা তার নিজের জায়গা বলে দাবি করে আসছিলেন। এমনকি এ নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মাপ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘন্টা মাপার পর সার্ভেয়ার এ সিদ্ধান্ত দেন এবং হালটের উভয় পাশের সীমানায় খুঁটি গেঁড়ে দেন। এতে ২০ ফুট হালটের সবটুকুজুড়ে রয়েছে হেলাল উদ্দিনের বাড়ি।
জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে হেলাল উদ্দিন এ হালট বেদখল করে ভোগ করে আসছেন। সড়কের উভয় পাশ দিয়ে এলাকাবাসী এখানে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বিকল্প পথ হিসেবে ঈদগাহ মাঠের জায়গা দিয়ে চলাচল করতেন। কেউ হয়রানির শিকার হননি। যে কারণে বিষয়টি জনসম্মুখে আসেনি।

সম্প্রতি হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে সোহেল এলাকাবাসীর সাথে তর্কে জড়ালে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে শুরু করেন। তারা হেলালকে বলেন, আপনার বাড়ি সরকারি হালটে পড়েছে কিন্তু হেলাল উদ্দিন বলেন, না। আমার বাড়ি আমার ক্রয় করা জায়গাতেই আছে। এক দুই কথায় তর্কে জড়ালে আমিন (সার্ভেয়ার) এনে মাপ দেওয়ানো হয়। পরে সত্যিই তার বাড়ি হালটে পড়েছে বলে জানান আমিন। কিন্তু হেলাল তা না মেনে বরং হালটের উপর আরও পাকা বারান্দা নির্মাণ করেন। বারান্দা দেওয়ার সময় বাধা দিলেও মানেননি তিনি। তারপর এলাকাবাসী মাপ অনুযায়ী বাঁশ কাঠ ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে তাদের ঈদগাহ মাঠের সীমানায় বেড়া বা বাউন্ডারি দিয়ে ঈদগাহ হেফাজতে নেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় জনচলাচল। ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। তারপর সরকারি হালট অবমুক্ত করে দেওয়ার দাবি তুলেন তারা। এমনকি এ দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে সঞ্চুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মাস্টার একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন। এতে ২১ জন স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৫ মাস আগে এ আবেদনপত্র জমা দিলেও কোন সূরাহা না হওয়ায় ১৯ জুলাই এ প্রতিবেদক ‘ফুলপুরে সরকারি হালটের উপর বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী’ শিরোনামে রূপালী বাংলাদেশ-এ ও একই দিন ‘ফুলপুরে রাস্তার উপর বাড়িঘর নির্মাণ, ভোগান্তি’ শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ পত্রিকায় এবং ২০ জুলাই ‘ফুলপুরে রাস্তার উপর বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকায় নিউজ করেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমার দিক নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক বিষয়টি আমলে নেন এবং বলেন, সরকারি সার্ভেয়ার চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হলে আমরা সরেজমিন হালট মাপার জন্য সার্ভেয়ার পাঠাবো। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার জায়গাটি মাপ দেওয়া হয়। মাপে হেলাল উদ্দিনের বাড়ি প্রায় পুরোটাই হালটের উপর পড়ে। এসময় সার্ভেয়ার আব্দুর রাজ্জাক, সিংহেশ্বর ইউনিয়নের নায়েব আনিসুল হক আকন্দ, নাঈম, অফিস সহকারী মোস্তফা, এলাকাবাসীর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, স্থানীয় মমিন মেম্বার, মোজাহারুল মাস্টার, হাবিবুর রহমান, আবুল হাশেম, নাজিম উদ্দিন, শহর আলী, আব্দুল খালেক, জাহের আলী, আব্দুল করিম, জসিম উদ্দিন, সদর আলী, আলাল উদ্দিন, হারুনুর রশীদ, সিদ্দিকুর রহমান, এমদাদুল, আব্দুস সালাম, মোফাজ্জল, লুৎফুর রহমান, ফারুক মিয়া, রুকনুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে বাড়ির মালিক হেলাল উদ্দিন বাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে সোহেল বাড়িতে থাকলেও সার্ভেয়ার আসার খবর পেয়ে গা ঢাকা দেন তিনি। তবে হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মাপের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এখন এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সরকারি হালট থেকে হেলাল উদ্দিনের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে হালটের জায়গা অবমুক্ত করে দেওয়া হোক। যাতে এলাকাবাসীর চলাচলে আর কোন বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, এলাকাবাসীর চলাচলে যাতে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় সেই ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য হেলাল উদ্দিনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উহা না করা হলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।