মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরের ঐতিহ্যবাহী ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) নাছরীন আক্তার খাতুন অবশেষে শিক্ষক হাজিরা খাতায় তাঁর প্রাপ্য জ্যেষ্ঠতার ক্রম ফিরে পেয়েছেন।
গত ২১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাঃ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে পূর্বের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান পুনর্বহাল করা হয়।
জানা গেছে, নাছরীন আক্তার খাতুন গত ১৬ জুন উপপরিচালক বরাবর এ বিষয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর দাখিলকৃত কাগজপত্র এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) ছালেহ আহাম্মদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারিকৃত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০২৪-এর ১১(৩) ধারা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) নাছরীন আক্তার খাতুন, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) ছালেহ আহাম্মদের তুলনায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। ফলে শিক্ষক হাজিরা খাতায় তাঁর জ্যেষ্ঠতার ক্রম পুনর্বহাল করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আবেগাপ্লুত নাছরীন আক্তার খাতুন আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ। মানীর মান আল্লাহই রাখেন। জায়াল হাক্কু ওয়া জাহাকাল বাতিল, ইন্নাল বাতিলা কানা জাহুকা। সত্যের জয় হয়েছে, মিথ্যার পরাজয় হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা সবসময়ই পরাজিত হয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর নামও শিক্ষক হাজিরা খাতায় ৭ নম্বর ক্রম থেকে ১৮ নম্বরে অবনমিত করা হয়েছিল। পরে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালকের কাছে আবেদন করলে তাঁর জ্যেষ্ঠতার ক্রমও পুনর্বহাল করা হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদের পূর্বের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডিডি স্যার যেভাবে দিয়েছেন, সেভাবেই করা হয়েছে। আমি তো আর ডিডি স্যারের উপরে নই।”
পরপর দুই শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতার ক্রম সংশোধনের ঘটনায় ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয় পরিচালনায় এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে এবং প্রশাসনিক ত্রুটি বা অদক্ষতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।