মোঃ আব্দুল মান্নান :
বড়ভাইয়ের ৪র্থ ছেলে হালুয়াঘাট গরুহাটা জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব বর্তমানে নকলা শাহরিয়ার ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ মাওলানা মোঃ সাজ্জাদুর রহমান কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিলে চান্স পেয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের পরিবারে বলতে গেলে লেখাপড়া ছিলই না। আব্বা মরহুম আব্দুল জব্বার জবর আলী বাল্য শিক্ষা পাস করেননি। আম্মা আম্মাপারা পর্যন্ত পড়েছেন। দাদা দস্তখত দিতে পারতেন কি না, জানি না। মাশাআল্লাহ, এখন হচ্ছে। অনেকেই অনেক দূর এগিয়েছে। সবার বর্ণনা দিতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আব্বা কিছুটা না, মাশাআল্লাহ অনেকটাই দেখে গেছেন। একবার ধান ক্ষেতের আইলে বসে এসব বিষয়ে আলাপ করতে করতে খুশিতে হাউ মাউ করে কেঁদে দিয়েছিলেন তিনি। আব্বা বলছিলেন, ‘আমার পেটে একটা কালা অক্ষর নাই আজ আমার ঘরে আল্লাহ এডি কি দিছে! আলহামদুলিল্লাহ।’ আমাদের বাড়ি থেকে ৮-১০ জন যখন মাওলানা হয়ে গেলো তখন আব্বা দোকানে পাটে বা যেখানেই যেতেন মানুষ আব্বাকে হাত উঠিয়ে সালাম দিতো। আব্বাকে সম্মান করতো। প্রশংসা করতো। আব্বা এতে খুশি হতেন। সেই খুশির আলাপগুলো করতে করতেই আব্বা কেঁদে দিয়েছিলেন।
যাক, এখন আল্লাহ তায়ালা দিন দিন আরও তরক্কী দিচ্ছেন। ছোটভাই আব্দুল্লাহ হাফেজ মাওলানা। জামিয়া রহমানিয়া থেকে দাওরা পাস। সে ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক। এর আগে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা থেকে সে দাখিল আলিম পাস করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। সেখান থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। এরপর আমার ছারছীনার বন্ধু ক্লাসমেট বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর অধীনে এমফিল সম্পন্ন করে বর্তমানে ডক্টরেট করছে। তার বড়টা মাওলানা আব্দুল হান্নান মেখলের লেখাপড়া শেষ করে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে দাওরা পাস করেছে। এখন ফেনিতে খেদমতে আছে।
ভাতিজারা অনেকেই হাফেজ মাওলানা। তাদের মধ্যে সাজ্জাদও ওই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই সাবজেক্টে অনার্স মাস্টার্স করেছে। তাদের রেজাল্ট খুবই চমৎকার। এবার এমফিলে চান্স পেলো। শুনে খুশি হলাম। এর আগে নিবন্ধনে পাস করে বিনা টাকায় চাকরি পেয়েছে। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এসব যোগ্যতাকে আখেরাত কামাইয়ের উসীলা বানায়।