মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল বাসার আকন্দের গাড়ি (বরিশাল-ঘ ১১-০০৩২) ভাঙচুরের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রীণ রোডে উনার নিজ বাসভবনে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এড. আবুল বাসার আকন্দ বলেন, শনিবার ফুলপুর পৌরসভার বালিয়া মোড় এলাকায় জনৈক আমিন মিয়ার তুলার মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আমিন অগ্নিদগ্ধ হন ও তার বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুনে আমিনকে দেখতে গেলে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দিতে গেলে একদল দুর্বৃত্ত তার অনুপস্থিতিতে তার গাড়ি ভাঙচুর করে। গাড়িতে ইট মেরে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে সব গ্লাস ভেঙে ফেলে। এমনকি গাড়ির বডিরও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় গাড়ির ড্রাইভার আরমান, এড. আবুল বাসার আকন্দের ভাগ্নে মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুক ও মামুন দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। তারা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ ঘটনায় ভুলক্রমে জেলা যুবদল নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুনকে দায়ী করে কৃষকদলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল এবং ফুলপুর পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মিঠুনও তার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পরক্ষণে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মিঠুনের হাত ছিল না বলে জানা যায়। পরে কৃষকদল নেতা এড. আবুল বাসার আকন্দ ভুল স্বীকার করে মিঠুনকে ঘিরে দেওয়া তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু বিএনপিরই অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে তার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের নির্বাচনি প্রচারণায় এড. আবুল বাসার আকন্দ সক্রিয় ছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে এবং এর রেশ ধরেই তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের পক্ষে প্রচারণায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমনকি নিজের টাকা খরচ করে কৃষক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করেছেন বলেও তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলে জানান। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় তিনি অন্য এলাকায় প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বিএনপির একটি গ্রুপ মনে করে যে, তিনি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে দল তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি ‘দিনে শীষ, রাতে বিষ’ ভূমিকায় ছিলেন। এমনকি মোতাহার হোসেন তালুকদারের পরাজয়ের পেছনে তার হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। হয়তো সেই ক্ষোভটিই তার গাড়ির উপর ঝাড়া হয়েছে। কেউ কেউ এ গাড়ি ভাঙার ঘটনাটি রিকশা প্রতীকের সমর্থকদের গাঢ়ে চাপিয়ে দেওয়ারও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে কথা ওঠেছে কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল বাসার আকন্দ তা নাকচ করে দিয়ে বলেন রিকশা প্রতীকের কেউ এ ঘটনা জড়িত নন। এ বিষয়ে এড. আবুল বাসার আকন্দ বলেন, মোতাহার আমাকে আন্তরিকভাবে প্রচারণায় না টানলেও আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই দলের জন্য কাজ করছি। আমার নেতাকর্মীরা আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বলেছিল কিন্তু আপনারা জানেন, আমার এই বাসায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পদার্পণ করেছিলেন। যুবক বয়স থেকে আমি এই দলটি করে আসছি। আমার স্ত্রীরও পরামর্শ ছিল- শেষ বয়সে দলের মতের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার প্রয়োজন নেই। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বা তার দলের সাথে দূরত্ব তৈরি করার প্রয়োজন নেই। যে কারণে আমরা মনোনয়ন ফরম কিনেও প্রত্যাহার করেছি। তারপরও আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এটা মেনে নিতে পারছি না। ওরা যেভাবে আমার গাড়িটি ভাঙচুর করেছে ঘটনাস্থলে আমাকে পেলে হয়তো মেরেই ফেলতো। সর্বশেষ এ ব্যাপারে তিনি জানান, এ ঘটনায় আমরা এখনো কোন মামলা মোকদ্দমায় যাইনি। কারণ, আমার নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। উনার কথা হলো- আপনারা কেউ সংঘাতে জড়াবেন না। তাই উনার নির্দেশনা অমান্য করে কোন সংঘাতে জড়াতে চাচ্ছি না; এমনকি আমার দ্বারা ফুলপুরে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক সেটাও আমি চাই না। এ বিষয়টিই আপনাদের সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার দলের হাইকমান্ডকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে’- বলেন এড. আবুল বাসার আকন্দ।
এসময় জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শাহ মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, পৌর কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইল্লাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।