মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহে সার্কিট হাউজ মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন ও বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা মনির হায়দার। সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি ফারাহ শাম্মী।
সাইফুল হকের উপস্থাপনায় ও আকুয়া মসজিদের ইমাম মাওলানা হাসান আব্দুল মুঈদের তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সম্মেলনে স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফজলুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বশির উদ্দিন বলেন, আমরা বৈষম্যহীন দেশ চাই। যে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এজন্য সংবিধানকে নতুন করে লিখতে হবে। আপনারা আপনাদের মিম্বার ও মাইককে কাজে লাগিয়ে মানুষকে দুর্বৃত্তায়ন থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবেন।
উপমহাপুলিশ পরিদর্শক আতাউল কিবরিয়া বলেন, অযোগ্য লোককে যখন যোগ্য লোকের আসনে বসিয়ে রাখা হবে তখন মানুষ বঞ্চিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণঅভ্যুত্থানই এই গণভোট নিয়ে এসেছে। বিগত ৫৪ বছর আমরা ভুলের মধ্যে ছিলাম। তা থেকে বের হয়ে আসার জন্যই এই গণভোট। সংবিধান তৈরির সময় এ জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় বলা হয়েছিল- সাম্য থাকবে, অধিকার থাকবে, মানুষের মর্যাদা থাকবে কিন্তু এগুলো আমরা পাইনি। আমরা জিম্মি ছিলাম। আমাদের কথা বলার অধিকার ছিল না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশটা আগে একজনে চালাতো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তর থাকলেও ওই একজনের কথা ছাড়া কেউ কিছু করতে পারতো না। এসময় তিনি তত্বাবধায়ক সরকার গঠন বিষয়ে একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, কিছু সংশোধন সাপেক্ষে তত্বাবধায়ক সরকার আইনের পক্ষে সবাই মতামত দেন। ১২০ জন মানুষ এ বিষয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করেন। পরে যখন এ ফাইল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে গেল তিনি তা বাতিল করে দিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি মাত্র দুটি কাজ করতে পারেন। একটা হলো- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও আরেকটা হলো- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এছাড়া আর কোন কাজ তিনি এককভাবে করতে পারেন না। করলেও তাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগে। একজন ফাঁসির আসামি রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন কিন্তু সেখানেও লাগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি। এ ধরনের বহু অনিয়মের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন তাহলে এরকম একক সিদ্ধান্ত আর কেউ নিতে পারবে না। এসময় তিনি ইমামদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা যেন সাধারণ মুসল্লীদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ আঞ্জুমান মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ময়মনসিংহ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক প্রমুখ।