• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ : যা বললেন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ যদি কেউ রোজার মাসেও ধান্ধা করতে চায়, জানাবেন আমরা তা বন্ধ করব — এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ সমাজ কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে, আপনারা আপনাদের মেয়ে সন্তানদেরকে পড়াশোনা করাবেন — ফুলপুর ইউএনও ফুলপুরের মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসে তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো– রিফাত যুবকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে — এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুর ক্বাসিমুল উলূম মাদরাসার ছাত্র শরীফুল ইসলাম তানযীম বোর্ডে প্রথম আধা কিলোমিটার রাস্তা পাকা করলে দূরত্ব কমবে দুই কিলোমিটার, বাড়বে অন্যান্য সুবিধাও একবার হেরেছেন বেশি করলে বার বার হারবেন — এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুরে সুজুকি মার্ট -এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ফুলপুর শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

ফুলপুর হাসপাতালে ছাদ ফেটে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে

Reporter Name / ৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মো. আব্দুল মান্নান :
৫০ শয্যা বিশিষ্ট ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ ফেটে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। অবকাঠামো, জনবল ও বেডের অভাবে রোগী ভোগান্তি হচ্ছে। দরজা জানালা ভেঙে গেছে। বৃষ্টির সময় ভেতরে পানি ঢুকে স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশ বিরাজ করে। টয়লেট, বেসিন, টেপ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে মহিলা ওয়ার্ডে একটি টয়লেট চালু আছে। বাকিগুলো নষ্ট। অল্প জায়গায় ড্রেন থাকলেও উহা মাঝখানে কাটা ও অগভীর।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, তারাকান্দা, হালুয়াঘাট, নকলা, নালিতাবাড়ী ও ধোবাউড়াসহ প্রায় ৬টি উপজেলার প্রবেশপথ এ উপজেলা। এখানে চিকিৎসা ভালো দেওয়া হয় এরকম প্রচার থাকায় অন্যান্য উপজেলার প্রচুর রোগী এখানে এসে ভীড় জমান।
ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাদ মাহমুদ জয় বলেন, এখানে যে পরিমাণ রোগী আসে এর প্রায় ৭০%ই উপজেলার বাইরের। বাইরের রোগী আসলে আমরা তো তা ফেলে দিতে পারি না। ওষুধ বরাদ্দ তো সব জায়গায় সমান। ফলে অনেক সময় আমাদের ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে প্রায় ১৫ প্রকার ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রোগীদেরকে দেওয়া হয় না। বাহির থেকে কিনে আনতে বলা হয়। খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি ২০১৫ সনে পুরাতন ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকে অদ্যাবধি এটি দিয়েই ঝুঁকির সাথে কাজ চালানো হচ্ছে। নতুন অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা বরং পুরাতনটিও মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এক্স-রে মেশিন ও ডেন্টাল ইউনিটের বেডসহ ডিজি অফিস থেকে বেশ কিছু নতুন যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু করা হলে যন্ত্রপাতির অভাব অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রাহাত চৌধুরী। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে, আউট ডোরে ও শিশু ওয়ার্ডসহ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীর প্রচুর ভীড়। দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। ডাক্তার ও নার্সদের রোগী সরিয়ে সরিয়ে চলাচল করতে হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রাহাত চৌধুরী বলেন, আমাদের জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এটি ৫০ বেডের হাসপাতাল হলেও এখানে প্রায় সবসময় একশর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর জন্য বারান্দা দিয়ে পর্যন্ত হাঁটা যায় না। ৫০ বেডের হাসপাতালের জন্য ১০ জন্য কনসালট্যান্টের প্রয়োজন থাকলেও আছেন মাত্র ৬ জন। ৯ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে আছেন ৫ জন। ডিজি স্যারের অর্ডারে একজন মেডিকেল অফিসারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর সিভিল সার্জন স্যার ফুলবাড়িয়া থেকে এখানে ২ জন মেডিকেল অফিসার সংযুক্তি দিয়েছেন। এছাড়া চক্ষু ও ডেন্টালের কনসালট্যান্ট নেই। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি ডেলিভারি হয়ে থাকে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ২০০৬ সনের পর থেকে অদ্যাবধি এ হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মাত্র ১/২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা আয়া দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ৫০ শয্যা নামের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতাল। তিনি আরও বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জন্যে যে পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন এটাই এখানে নেই অথচ দীর্ঘদিন ধরে আমাদেরকে ১০০-এর বেশি রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হওয়ায় ৫০ জনের পথ্যের বরাদ্দ আসে। একইভাবে ডাক্তার ও সিস্টারও ১০০ শয্যার প্রয়োজন। অথচ আমরা তা পাচ্ছি না। যে কারণে রোগীদেরকে আমরা অন্যান্য খাবার দিতে পারলেও মাছ গোশত দিতে পারি না। এক প্রশ্নের জবাবে ডা. রাহাত চৌধুরী বলেন, জনবল কম থাকায় সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আমরা কিন্তু জানপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং পর্যাপ্ত সেবা দিচ্ছি। হাসপাতালটিকে ১০০ বেডে উন্নীতকরণ করা হলে এবং জনবল ও অবকাঠামো সেইভাবে পেলে আশা করি সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা