৭ দিন ধরে একা ফ্ল্যাটে মরে পড়েছিল মা। নিঃসঙ্গতায় একা একা পড়ে থেকে মারা গেলেন। মৃত্যুর পরও ৭ দিন অতিক্রান্ত হলেও কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি। লাশ পঁচে গলে গেছে। পোকায় খেয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) মিরপুরে এমন ঘটনার কথা অনলাইন থেকে জানা যায়।
তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। আরেক ছেলে কানাডা প্রবাসী মেয়ে ও জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তবুও ঈদের আনন্দের দিনগুলোতে কেউ একবার ফোন করেনি, কেউ তার খোঁজ নেয়নি।
উনার বাসার অবস্থা দেখলে মনে হয় দীর্ঘদিন অবহেলায় ছিলেন। কতদিন ঠিকমতো খেতে পারেননি, কত রোগ-শোক আর কষ্ট বুকে নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—তা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়।
অথচ এই মা-ই ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেছিলেন সন্তানদের। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে মমতা আর ত্যাগে তাদের লালন-পালন করেছেন। শিক্ষিত করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সমাজে সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।
কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর প্রাপ্য হলো নিঃসঙ্গতা, অবহেলা আর একাকী মৃত্যু। কী নির্মম পরিণতি! কেউ শেষবারের মতো কোন সন্তানকে পাশে পেলেন না।
তাঁদের নীরব কান্না আমরা অনেক সময় শুনতে পাই না।
আজ যাদের মা-বাবা বেঁচে আছেন, একবার ফোন করুন। তাঁদের গলার স্বর শুনুন। একটু সময় দিন। পাশে বসুন। খোঁজ নিন তাঁরা কেমন আছেন।
আজ আমরা ব্যস্ত, কাল হয়তো আমাদের সন্তানেরাও ব্যস্ত থাকবে। তখন যেন আমাদেরও একই পরিণতি না হয়।
মা-বাবাকে ভুলে যাবেন না। তাঁরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, সবচেয়ে বড় ঋণ। যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, তাঁদের খোঁজ নিন, সেবা করুন, সম্মান করুন।
আজ আপনি যা করবেন, আগামী প্রজন্মও সেটাই শিখবে।
* তথ্য ও ছবি ড. আমিনুল ইসলামের আইডি থেকে নেওয়া।