অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়া ছিলেন আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পাঠশালা। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। উহা হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো-
‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
আজ আমার জীবনের সবচেয়ে ভারী, সবচেয়ে নীরব দিন।
আজ আমি শুধু একজন নেত্রীকে হারাইনি—আমি হারিয়েছি আমার রাজনৈতিক মা, আমার অভিভাবক, আমার ছায়া।
আমাদের প্রিয় ম্যাডাম , বেগম খালেদা জিয়াকে হারিয়ে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
ম্যাডাম,
আপনি ছিলেন আমার রাজনীতির প্রথম পাঠশালা। আপনার ছায়াতেই আমার এ পর্যন্ত পথচলা। রাজনীতি কী—তা আমি বই থেকে নয়, শিখেছি আপনার জীবন, আপনার ধৈর্য, আপনার দৃঢ়তা আর আপনার মানবিকতা থেকে। আপনি শুধু নেতৃত্ব দেননি, আপনি মানুষ গড়েছেন।
আপনি আমাকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন।
ভুল করলে শাসন করেছেন, আবার ঠিক পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।
স্নেহ দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন, দায়িত্ববোধ শিখিয়েছেন।
দেশ–বিদেশে আপনার সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
প্রতিটি সফরে, প্রতিটি আলোচনায়, প্রতিটি নীরব মুহূর্তেও আমি শিখেছি—কীভাবে একজন মানুষ হয়েও ইতিহাস হওয়া যায়।
আমার অসুস্থতায় আপনি মায়ের মতো খোঁজ নিয়েছেন।
আমার আম্মা–আব্বার মৃত্যুতে আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন ঠিক মায়ের মতো করে।
আমার বিয়েতে এসে আশীর্বাদ করেছেন।
আমার ছেলের জন্ম, তার বেড়ে ওঠা—সবকিছুতেই আপনি ছিলেন দাদীর মতো স্নেহময়।
শত ব্যস্ততার মাঝেও আমার আলিফের আকিকা ও জন্মদিনে এসে আপনি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দোয়া দিয়েছেন, হাত তুলে আল্লাহর কাছে আমার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
একবার রমজানে ওমরাহ পালনের সময়, মক্কা থেকে আপনি আমাকে ফোন করেছিলেন—দেশের সময় তখন রাত। প্রয়োজনীয় কথা সেরে আপনি আলিফের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। বলেছিলেন, “ওর জন্য সময় দিও।”
এই ছিল আপনার রাজনীতি—মানুষ দিয়ে শুরু, মানুষেই শেষ।
ঈদের দিন মিন্টু রোডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে গাড়িতে উঠে ফালু ভাইকে দিয়ে আমাকে ডাকালেন।
হাত বাড়িয়ে একটা ব্যাগ দিয়ে বললেন,
“এটা তোমার ছেলেকে দিও—মক্কা থেকে কিনেছি।”
আমি বাসায় ফিরে খুলে দেখলাম—একটি সুন্দর ড্রেস।
সেটা আলিফকে পরিয়ে যখন আপনার কাছে নিয়ে গেলাম, আপনি কী আনন্দে ভরে উঠেছিলেন!
সে হাসিটা—আজও চোখের সামনে ভাসে।
ম্যাডাম,
এরকম শত শত স্মৃতি আমার বুকের ভেতর জমে আছে।
কোনটা বলবো, কোনটা রাখবো—সবই যে অমূল্য।
আজ আপনি চলে গেছেন,
কিন্তু রেখে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা—
যা কোনো পদ, কোনো ক্ষমতা, কোনো মানুষ পূরণ করতে পারবে না।
আপনি শুধু একজন নেত্রী ছিলেন না—
আপনি ছিলেন আশ্রয়, ছিলেন ভরসা, ছিলেন মমতার ঠিকানা।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফিরদৌস নসিব করুন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার পাশে আপনাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্থান দিন।
ম্যাডাম,
আপনি আমার রাজনীতির অনুপ্রেরণা ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
আপনার সন্তান হয়েই আমি আজীবন গর্ব করবো।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’