মোঃ আব্দুল মান্নান :
বিশ্বসেরা গবেষক মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ন্যানো বিজ্ঞানী ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চরনিয়ামত গ্রামের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেছেন, আমার পার্শ্ববর্তী গ্রামে দীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করুণ অবকাঠামো দেখে খুবই কষ্ট পেলাম। এখানে এসে প্রতিষ্ঠানের যে করুণ অবস্থা দেখলাম, তা আমাকে মনোক্ষুণ্ণ করেছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের দ্বারাকপুর দাখিল মাদরাসার পক্ষ থেকে উনাকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে আমি যাই, মোটিভেশনাল বা অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখি কিন্তু মাদরাসাতে যাওয়া হয় না। আসলে মাদরাসাগুলোতেও আমার যাওয়া উচিৎ। এখানে দরিদ্র পীড়িত মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে তারা টিকিয়ে রেখেছেন, শিক্ষার যে ব্যবস্থা করেছেন, (শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন) ভাঙাচুরা বিল্ডিংয়ে তোমাদের শিক্ষার যে ব্যবস্থা উনারা করেছেন এটা আসলেই খুবই প্রশংসনীয়। তবে বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দেয়। কারণ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের অনুদান আসে। এটাও তো একটা সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।

এখানের ছাত্রছাত্রীরা যে সুন্দর বক্তব্য রেখেছে, শিক্ষকদের যে উপস্থাপনা ও বক্তব্য শুনলাম, সবমিলিয়ে খুবই চমৎকার। অথচ এর প্রতি সরকারের কোন নজর নেই। এটাও তো একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীনী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। দীনী শিক্ষা বা ইসলামিক শিক্ষা, এ শিক্ষাই আমাদেরকে সঠিক মানুষ বানায়। আমাদের দেশের ভেতরে যত ধরনের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি চলছে এগুলোকে প্রতিহত করার জন্য দীনী শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি কোন খারাপ কাজ করি, কোন অন্যায় করতে যাই এই দীনী এলেম আমাকে প্রটেকশন দেয়। আমাকে বাধা দেয়। কারণ আমি একজন মুসলিম। আমি এ কাজ করতে পারি না। কাজেই দীন যদি একজন মানুষ ভালভাবে অনুসরণ করে তাহলে সে দুর্নীতি করতে পারে না। সে অন্যায় বা খারাপ কাজ করতে পারে না। অথচ এই দীনী শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অনীহা, সরকারের অনীহা, দেশের অনীহা, সামাজিক অনীহা। এটা আসলেই খুব দুঃখজনক বিষয়।

তিনি আরও বলেন, তারপরও আমাদের কাজ চেষ্টা করা। চেষ্টা করলে আল্লাহ অবশ্যই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবেন। এলাকার মানুষ যারা আছেন তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের মেহনতেই মাদরাসাটি আজও টিকে আছে। তবে আমরা যদি সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি তাহলে আশা করি এটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এর আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উনার নিকট একটি বিল্ডিং দাবি করলে এর জবাবে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি একটি বিল্ডিং করে দিব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী মৌলভী মাওলানা বেলাল হুসাইনের সঞ্চালনায় ও সাবেক সভাপতি মোঃ হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন, অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মোঃ তোফায়েল আলম, সুপার মাওলানা হানিফ উদ্দিন প্রমুখ। এর আগে তিনি মাদরাসার গেটে গিয়ে পৌঁছলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয়। তারপর মানপত্র ও দাবি পত্র পাঠ করে শোনানো হয়। মানপত্র পাঠ করেন দাখিল ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম আখতার, দাবি পত্র পাঠ করেন শিক্ষিকা স্বর্ণা আক্তার। এছাড়া পরিচিতি তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান, সমাপনী বক্তব্য দেন, সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল মোমেন মানিক প্রমুখ। সবশেষে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের মুনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। ফেরার পথে দ্বারাকপুর দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন নূরানী মাদরাসা ও মসজিদও ভিজিট করেন তিনি। এসময় বিজ্ঞানীর ছোট ভাই রুবেল, ফুলপুর বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ আব্দুল মান্নান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।