মুস্তাক্বীম আল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে পবিত্র রমজানে ইফতার মাহফিল উপলক্ষে এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অগ্রজ ও অনুজদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ : ২৭ রমজান) ফুলপুর এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসা সংলগ্ন ফুলপুর মিনি স্টেডিয়ামে ওই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ‘রমজানের আলোয় হোক জীবন আলোকিত, সিয়ামের শক্তিতে হোক আত্মা পবিত্র’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। লাবিব নাহাদী রাহাত ও হাফেজ নাঈম বিন কালামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, হাফেজ মাওলানা ইমরান বিন আব্দুল মান্নান, হাফেজ ইহতিশাম মুসাদ্দিক কিয়াস, মুফাসসেল হোসেন প্রান্ত পাবেল, হাফেজ মাওলানা ইশতিয়াক আহমাদ প্রমুখ।

এর আগে অনেকে প্রায় এক যুগ পরে নিজ সহপাঠী ও অনুজদের সাথে দেখা করতে পেরে আনন্দে বিমোহিত হন। মুসাফাহা মুয়ানাকা করেন। গলায় জড়িয়ে নেন একে অপরকে। অনেক আনন্দ করা হয়। কেরাত, হামদ নাত পরিবেশন করা হয়। ইফতারপূর্ব মুহূর্তে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় মিলনমেলায় ময়মনসিংহের হাফেজ মাওলানা মুফতী ইউসুফ বিন ফরিদ, মুফতী মোস্তফা সাঈদ মুস্তাক্বীম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান,

ফুলপুরের হাফেজ মুশফিকুর রহমান ফাহিম, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত, নাঈমুর রহমান, নিশাত, তামিম, মিনারুল, হাফেজ নাঈম বিন নবী হোসেন, মুহাইমিনুল ইসলাম সুপ্ত, মুবাশ্বির, হাফেজ মাইনশাহ, আব্দুর রহমান শাকিল, রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, হাফেজ মাওলানা মুশাররফ হুসাইন সুজন, তারাকান্দার হাফেজ মাওলানা সাইফ, নকলার হাফেজ ওমর ফারুক, হালুয়াঘাটের হাফেজ শামীম, সাইম, ইহসানুল মান্নান, ধারার রাকিব, ধোবাউড়ার হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন, নালিতাবাড়ীর লুৎফর রহমান, ফুলবাড়িয়ার আবু রায়হান ও মুক্তাগাছার হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসূমসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে সাবেক এসব শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।

কিন্তু মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মোঃ আব্দুল মান্নান ই’তিকাফে বসার কারণে যোগদান করতে পারেননি তাদের এ আনন্দের অনুষ্ঠানে।
সবশেষে বাড়িঘরে ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় উস্তাদ এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মোঃ আব্দুল মান্নানের সাথে শেরপুর রোডে বাইতুন নূর জামে মসজিদে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও দোয়া নেন।
এসময় মাওলানা মোঃ আব্দুল মান্নান এক আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তোমাদেরকে আমি নিজের সন্তানের মত ভালোবাসি। প্রায় এক যুগ পর তোমাদেরকে কাছে পেয়ে আমার এতটাই খুশি লাগতেছে যে, মনে হয় কোটি টাকা দিলেও এত খুশি হতাম না। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুক।

এরপর তিনি শিক্ষার্থীরা কে কোথায় আছেন, কোন ক্লাসে পড়ছেন, কি করছেন খোঁজ খবর নেন। তাদের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের কথা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ছাত্রদের লেখাপড়ার রেজাল্ট শুনে তিনি খুশি হন ও তাদের আরও তরক্কির জন্য দোয়া করেন।

তারপর তিনি তার নিজের ও মা-বাবার জন্য দোয়া চান। তাদেরকে কুরআন সুন্নাহর উপর অটল থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাগিদ প্রদান করেন।
৫৬ জন শিক্ষার্থী মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, আসছে কুরবানির ঈদের একদিন পর (অর্থাৎ ঈদ শুক্রবারে হলে রবিবারে) আবারও আরও বড় আকারে পুনঃমিলন অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।