• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

হাদীস শাস্ত্রে বাংলাদেশে যিনি বিপ্লব ঘটিয়েছেন

মুফতী আরিফ বিন হাবিব / ১১ Time View
Update : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

ইলমি দুনিয়ায় আগে থেকেই তুমুল পরিচিতি লাভ করলেও জাতীয় মসজিদে খতীব হওয়ার পর সাধারণ জনগণের নিকটও তিনি বেশ আস্থাভাজন হয়ে উঠছেন দিনদিন, প্রতিটি বিষয় নিয়ে নমনীয়তার সাথে বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন,মাঝেমধ্যে নমনীয়তার সাথে অনমনীয় হয়ে উঠেন, যে কোন কঠিন বিষয় সাধারণ জনগণকে সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে তিনি অসাধারণ ভুমিকা রাখছেন।

সম্প্রতি চাদ বিষয়ে তাঁর সারগর্ভ আলোচনায় প্রতিটি অঙ্গনের মানুষ মুগ্ধ হয়েছে,সেদিন দেশবাসী এটাও বুঝেছেন যে তিনি আধুনিক বিভিন্ন বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন,সেই আধুনিক জ্ঞান কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পেশ করে থাকেন।

সেই আলোচনায় তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তিনি অনন্য,সাথে এটাও মনে হয়েছে আক্বীদার কোন বিষয়ে যেদিন আলোচনা করবেন সেদিনও সেই বিষয়ে সেরা আলোচনা উপহার দিবেন।

তিনি জাতীয় মসজিদে নিজে থেকে আসেননি, তাকে জোর করে আনা হয়েছে, কখনো যদি চলে যেতে বাধ্য করা হয় তিনি চলে যাবেন কোনরকম চিন্তা ছাড়াই, তবে ক্ষতি হবে জাতীর, কারণ জাতী “জাতীয় রাহবার” হারাবে।

প্রথম দেখেছি যেদিন:
২০১১ ইংরেজি তে আল মারকাজুল ইসলামী তে আরবি সাহিত্য বিভাগের ছাত্র ছিলাম। মাওলানা, আদীব শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রহিমাহুল্লার কাছে উচ্চতর আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়তাম।

কোন এক শুক্রবারে ছাত্র ভাইদের দলবেঁধে কোথাও যেতে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় যান আপনারা?

তারা বললেন তেজগাঁও নাবিস্কো এলাকায় অবস্থিত(বর্তমানে মোহাম্মদপুর) জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া তে মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ বুখারীর দরস দিতে আসবেন, আগ্ৰহ নিয়ে আমিও গেলাম, অসংখ্য ত্বলবা হযরতের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ, আশ্চর্যের বিষয় হলোঃ ত্বলবাদের মাঝে অনেক মুহাদ্দিস এবং শাইখুল হাদীসগনও ছাত্র হয়ে বসে আছেন, বিশেষ করে ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহাদ্দীস জ্ঞানপিপাসু আলেমেদ্বীন শাইখুল হাদীস আল্লামা যিকরুল্লাহ খান সাহেব তাঁর দরসে বসা, সুবহানাল্লাহ!একজন সাধারণ তালিবুল ইলমের মতোই তিনি বসে ছিলেন।

যুগের অনন্য হাদীস বিশারদ আসলেন, বসলেন, দরস দিলেন,ইলম্ এবং হিলমের সমন্বয়ে তাকরীর পেশ করলেন, সেদিন দেখেছি হযরত দরসের আলোচনায় তাকমীলের ছাত্রদের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাকরীর পেশ করেছেন, এবং শুধু হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন, শিষ্টাচার নিয়ে সেদিন হযরতের আলোচনা আমার সারাজীবনের শিক্ষা হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয়বার যেদিন দেখেছি:
সময়কাল-২০১১
মিরপুর-১২ তে এক ছাত্র ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে জানতে পারলাম আজ (বৃহস্পতিবার) মারকাযুদ্ দাওয়ার মিরপুর- ১২ শাখায় হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব আসবেন, চলে গেলাম মারকাযুদ্ দাওয়ায়, বাদ মাগরিব হযরত “ইলমি মুহাদরা” পেশ করলেন, সেদিন আলোচনা করেছেন উলুমুল হাদীস নিয়ে, সেদিন দেখলাম ইলমের ঝলক, প্রভাব কাকে বলে আল্লাহু আকবার কাবিরা!
আলোচনা থামেইনা, চলছে তো চলছে….
দীর্ঘক্ষণ পর হঠাৎ বললেন ভাই! আমরা তো বহুদূর চলে গেলাম।

সেদিন বুঝেছি, হাদীস শাস্ত্রে তিনি বাংলাদেশে অদ্বিতীয় ইনশাআল্লাহ, জীবনের শেষের দিকে খন্দকার ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ তাকে ভালোভাবে রপ্ত করেছিলেন, হযরতের প্রতিষ্ঠিত আস সুন্নাহর উস্তাদ নিয়োগ নিয়ে হযরতের সাথে পরামর্শ করতেন এবং মারকাযুদ্ দাওয়া থেকে ফারেগদের হযরত খুব কদর করতেন, রহিমাহুল্লাহু রহমাতান ওয়াসিয়াতান।

টুপির কারিশমা:
ঈদুল আযহায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রী কে টুপি পরিধান করানো নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা চলছে এটাকে “টুপির কারিশমা” বলা যেতে পারে।

টুপির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে যদি আরেকটু উচুঁ টুপি পরিয়ে দেয়া হতো, তাহলে কাহিনী এতদূর যেতনা।

* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা