মোঃ আব্দুল মান্নান :
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ-২ আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা নাকি সব কাজে তাকে বাধা প্রদান করি। সম্প্রতি তারাকান্দায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, আজ আমরা একটি বিশেষ কারণে আপনাদের সাথে মতবিনিময় করছি। সেটা হচ্ছে যে, আমি ফুলতারাতে একটি নিউজ দেখেছি যে, ভোট চুরির মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদুল্লাহ বলেছেন, ‘ফুলপুর তারাকান্দা থেকে সরকার দলীয় প্রার্থী, এমপি প্রার্থী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার প্রত্যেকটা কাজে বাধা দিচ্ছে।’
এই কথার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আমি বলতে চাই, আপনারা দেখেছেন, কোথাও নির্বাচনি সহিংসতা হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী পোলিং অফিসার তারা জামাতের এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছিল। যে কারণে সূক্ষ্ম কারচুপির মধ্য দিয়ে মুহাম্মাদুল্লাহ জয়লাভ করেছে।
আমরা হাই কোর্টের ট্রাইবুনালে গিয়েছি। আমরা কয়েকটা কেন্দ্রের ব্যালট পেপারের মোড়ি পেয়েছি। ব্যালট পেপার পেয়েছি। সেগুলো আমরা কোর্টের কাছে দিয়েছি আমাদের আইনজীবীর মাধ্যমে। সেটা তিনি ফাইল করেছেন। সেটা শোনানোর জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, নির্বাচনে কারচুপি সংঘটিত হয়েছে। এটা যখন শোনানো হবে তখন বিস্তারিত আপনারা জানতে পারবেন এবং দেশবাসী তা জানতে পারবে।
সেই এমপি এখন বলছে যে, আমরা নাকি সবকাজে তাকে বাধা প্রদান করি। আমি তাকে বলতে চাই- আপনি এই এলাকায় নতুন। আপনার বাড়ি টাঙ্গাইলে। মাত্র ৩ মাস হয়েছে আপনি এই এলাকায় এসেছেন। আপনার মামার বাড়ি রহিমগঞ্জে। আপনি এই এলাকার কাউকে চিনেন না, জানেন না, বুঝেনও না। কোন এলাকায় কোন গ্রাম, এইটাও আপনি জানেন না। যে কারণে আপনি এখানে এসে সমুদ্রের মধ্যে পড়েছেন। এইটা আপনার বিষয়। এটা আমার কোন বিষয় নয়। আমরা দীর্ঘদিন এই এলাকায় আছি। আমরা ৩৭ বছর যাবৎ ফুলপুর তারাকান্দায় কাজ করছি। উন্নয়ন কাজ করছি। মানুষের সুখেদুখে আনন্দ বেদনায় আমরা তাদের পাশে আছি এবং আমরা সকল কর্মকর্তা, কর্মচারি, সাংবাদিক ভাই তাদের সঙ্গে মিলেমিশে ফুলপুর তারাকান্দা উন্নয়নের চেষ্টা করছি। কিন্তু আপনি এখানে নতুন এসে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে হতাশ হয়ে এখন নানা গল্প গুজব শুরু করেছেন। মিথ্যাচার শুরু করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।

শুধু নিন্দাই না বরং যদি আপনার এরকম কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে তাহলে আমরা আইনের আশ্রয় নিব এবং আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।
আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, অতীতে আপনাকে বলেছি যে, আপনি চাঁদাবাজ বলেন। কাকে চাঁদাবাজ বলেন? সেটা নির্ধারণ করতে হবে। তা নাহলে চাঁদাবাজির ঘটনা আপনি ক্রিয়েট করে, তৈরি করে আমাদেরকে কিংবা দলকে কিংবা এলাকাবাসীকে আপনি দোষারপ করবেন। এটা আমরা আর মেনে নিব না। আজকের পরে আর মেনে নিব না। আজকে নতুন করে যে অভিযোগ তুলেছেন এই অভিযোগও আমরা মেনে নিব না।
আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছেন। ১০ লক্ষ টাকা, ৭০০ শাড়ি, ১০০ লুঙ্গি, ১০০ থ্রি পিস ও ৫০টি রুমাল। এগুলো নিয়মানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতরণ করবেন। আপনি তালিকা দিবেন। সেই তালিকা অনুযায়ী। অথবা আমরা যদি তালিকা দেই, সেই অনুযায়ী কিন্তু আপনার লোকজন সেই টাকা এবং শাড়ি লুঙ্গি ব্যক্তিগতভাবে বুঝে নিয়ে শুধুমাত্র বওলাতে কয়েকটা শাড়ি লুঙ্গি আর কয়েকটা টাকা বিতরণ করেছে। আপনি বলেছেন যে, এটা ১১ দলীয় জোটের ত্রাণ উপহার।
আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন এলাকার মানুষের জন্য। কারণ, এই এলাকার জনপ্রতিনিধি আমি মোতাহার হোসেন তালুকদার। আমি নির্বাচন করেছি এবং এখানে এখনও জনগণের পাশে আছি। জনকল্যাণে কাজ করছি। আপনারা দেখেছেন যে, নির্বাচনের পরে প্রত্যেকটি এলাকায় আমি যাচ্ছি। সেখানে আমি মা-বোনদের জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শাড়ি আর ভাইদের জন্য লুঙ্গি বিতরণ করছি। এটা অনেক আগে থেকে আমি করছি। আজ নতুন নয়। আপনি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভাঁওতাবাজি বন্ধ করবেন। আমি সাংবাদিক ভাইদেরকে বলতে চাই, তিনি উন্নয়ন নিয়েও মিথ্যাচার করছেন।
আপনারা জানেন যে, তারাকান্দা টু ধোবাউড়া রাস্তার ৩টা প্যাকেজ হয়েছে। এর মধ্যে একটা আমরা দেনদরবার হয়ে মাননীয় সচিব মহোদয়ের সাথে কথা বলে আমরা তারাকান্দা টু ভূষাগঞ্জ রাস্তার টেন্ডার করিয়েছি। এবং এই টেন্ডারের মধ্য দিয়ে এখন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে কাজ ধরার কথা ছিল। কিন্তু এটা ঈদের পরে ধরবে। এখন কাজ শুরু হবে। কিন্তু তিনি বলেছেন, এই কাজ তিনি এনে দিয়েছেন। আমি এই কথারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কারণ হচ্ছে- মিথ্যাচার দিয়ে জনগণের মুখ বেশিদিন আটকিয়ে রাখা যাবে না। এখন আমি আছি প্রতিবাদ করছি। কোন এক সময় ফুলপুর তারাকান্দার জনগণ, মা-বোনরা আপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, প্রতিরোধ গড়বে।
আপনারা দেখেছেন, কথা ছিল ঈদের আগের দিন তারাকান্দা উপজেলা পরিষদে তিনি শাড়ি লুঙ্গি টাকা বিতরণ করবেন। পরে তিনি আসেননি। তার লোকজনও আসেনি। তারপর প্রশাসন তাদেরকে প্রশাসনিকভাবে উপজেলা পরিষদ থেকে ইফতারের আগে বিদায় করেছে। আমরা এ ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুহাম্মাদুল্লাহ এতগুলো মানুষকে ইফতারের আগমুহূর্তে ইফতারবঞ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করেছেন।
আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই- আপনারা এর ব্যবস্থা নিবেন। আর আমি তাকে বলতে চাই, আপনি যদি আবারও মিথ্যাচার করেন তাহলে আমরা আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। আমরা কোর্টে যাব। নিশ্চয়ই কোর্ট ন্যায় বিচার করবে এবং সুষ্ঠু বিচার পাব৷ কারণ, আমরা জানি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, এই নতুন বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। জনগণ তার ন্যায্য অধিকার পাবে এবং জনগণ কথা বলার স্বাধীনতা পাবে। এই জায়গায় মানবিক বাংলাদেশ তৈরি হবে। এজন্য আমি আজকে আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, আমি আশা রাখি, আপনারা আমার কথাগুলো তুলে ধরবেন এবং এর মধ্য দিয়ে ফুলপুর তারাকান্দাবাসী সত্যটা জানতে পারবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘এশিয়া পোস্ট’ নামে একটি পত্রিকা এমপি মুহাম্মাদুল্লাহর একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। ওই সাক্ষাৎকারটি ফুলতারা নামে একটি অনলাইন পত্রিকা শেয়ার করে। সেখান থেকে জানতে পেরে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এশিয়া পোস্ট এমপি মুহাম্মাদুল্লাহর নিকট জানতে চায়, ‘আপনার এলাকায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনে আপনার পদক্ষেপ কি হবে? ওই প্রশ্নের উত্তরে এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, এগুলো দমনে আমি নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। সমস্যা হলো- আমরা তো বিরোধী দলের। সরকারি দলের প্রার্থী এবং সমর্থকরা প্রতিটি কাজে আমাদের বাধা দিচ্ছে। পথে পথে কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছে। একদম শুরু থেকেই তারা প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তারা মামলা হামলা করছে। আমার সমর্থকদের আক্রমণ করছে। আমি ধৈর্য্য ধরছি। এর চেয়ে বড় শক্তি পৃথিবীতে নেই। তারা এক সময় ক্লান্ত হবে। আমরা তাদের পথ অনুসরণ করলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা হবে। মারামারি হবে। আমি আমার নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরতে বলেছি। আশা করছি- তারা এক সময় ক্লান্ত হবে। আমাদের গতিতে আমরা নতুন করে শুরু করব।
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।