• শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে অবৈধভাবে মজুদকৃত ২৪ হাজার লিটার ডিজেল-পেট্রোল জব্দ বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে — মোতাহার হোসেন তালুকদার মহান স্বাধীনতা দিবসে ফুলপুরে আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুরষ্কার বিতরণ ২৬ মার্চে ফুলপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবে লোমহর্ষক দুর্ঘটনা, ২৩ জনের লাশ উদ্ধার বেগম খালেদা জিয়া رحمها الله কে যেমনটি দেখেছি (পর্ব-৫) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ফুলপুরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ হালুয়াঘাটে ইটাখোলা টু আলিশাহ বাজার রাস্তা সংস্কারের দাবি

”বেগম খালেদা জিয়া রাহ: কে যেমনটি দেখেছি”(পর্ব-২)

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

মোঃ মুখলেছুর রহমান :
রাত আনুমানিক ১১:০০ টা। বাসায় ফিরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই। মোবাইল বেজে চলছে। রিসিভ করে সালাম দিলাম। সালামের উত্তর দিয়ে শিমুল ভাই বললেন, দ্রুত চলে আসুন গুলশান অফিসে। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া রাহ:) ডেকেছেন। শিমুল ভাইয়ের পুরো নাম শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি ছিলেন ম্যাডামের বিশেষ সহকারী। আমার দেখা ভালো মানুষদের একজন।

দ্রুত জামাকাপড় পরে রেডি হলাম। ড্রাইভার চলে গেছে বাসায়। গাড়ীর চাবি নিয়ে নামলাম গ্যারেজে। দরজা খুলে স্টিয়ারিং হুইলের আসনে চেপে বসলাম। সিট বেল্ট বেঁধে গাড়ী স্টার্ট দিলাম। সফরের দুআ পড়ে এক্সেলেটরে চাপ দিতেই গাড়ী চলতে শুরু করলো। আমি তখন থাকতাম উত্তরায়। রাতের রাস্তায় গাড়ি হনহন করে ছুটে চললো গুলশান- ২ এ অবস্থিত খালেদা জিয়ার দলীয় অফিসের দিকে। ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম।

রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে ঢুকে পড়লাম অফিসে। তিনি বসতেন দোতলায়। দোতলায় উঠতেই দেখলাম শিমুল ভাই অপেক্ষা করছেন আমার জন্য। সিরিয়াস ও আন্তরিক মানুষ তিনি। আমাকে নিয়ে ঢুকলেন ম্যাডামের রুমে। ম্যাডাম উনার সামনের চেয়ারে বসতে বললেন। শিমুল ভাই বেরিয়ে গেলেন। টেবিলের দুপাশে ম্যাডাম আর আমি মুখোমুখি মা ছেলের মতো।
পরিবারের খোঁজ খবর নিলেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করে আমার মতামত জানতে চাইলেন। আমার মতামত জানালাম। তিনি শুনলেন মনোযোগ দিয়ে।

এরপর ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকার একটি কপি আমাকে ধরিয়ে দিলেন। বিশেষ একটি সংবাদ পড়তে বললেন। পড়লাম লোমহর্ষক, লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক একটি ঘটনা।
সাতক্ষীরায় বোরকা পরিহিত কিছু মা বোনেরা কুরআন তালিম করা অবস্থায় পুলিশ বিশেষ অজুহাতে তাদেরকে অপমানজনক অবস্থায় গ্রেফতার করে।
নিউজটি পড়া শেষ করলাম। ম্যাডামের চেহারা লাল হয়ে গেলো। যেন প্রতিরোধের বহ্নিশিখা জ্বলে উঠল চেহারায়।

তিনি বললেন, কুরআন তা’লিম করার জন্য পর্দানশীন নারীদেরকে গ্রেফতার কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আইনের মধ্য থেকে সবধরণের প্রতিবাদ গড়ে তোল। দল মত, ধর্ম বর্ন ও পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত কর। যেদেশে আল্লাহর কুরআন শিখতে গেলে গ্রেফতার হতে হয়, সেদেশের শাসকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
আমি অনুভব করছিলাম, তিনি আল্লাহর আজাব নেমে আসার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিলেন।
আমি বের হয়ে এসে আল্লাহর উপর ভরসা করে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তৎপর হয়ে পড়লাম।

(চলবে)
লেখক :
ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও সমাজ চিন্তক
* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা