• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
পাচারের সময় ফুলপুরে ২০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ টঙ্গীর ঘটনা, ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গন নিয়ে কিছু কথা — মালয়েশিয়া সফর থেকে মামুনুল হক লক্ষ্মীপুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস পুলিশের হঠাৎ ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উঠে এলো নানা সংকট ফুলপুরে আলহাজ্ব শামছুল হকের জানাজা সম্পন্ন সাংবাদিকদের দুঃসময়ে সাহসী কণ্ঠস্বর খায়রুল আলম রফিক ফুলপুরে আঞ্জুমান কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক ফুটবলার আনোয়ারুল করিম সোহেল ফুলপুরে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আনোয়ারুল করিম সোহেল আর নেই ফুলপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

ময়মনসিংহ থেকে ফুলপুর হয়ে শেরপুর পর্যন্ত রেললাইন দিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ

মোঃ আব্দুল মান্নান / ২১৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ চেয়ে স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেছেন- আমরা একটা সংবাদ পেলাম যে, ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর রেললাইন অনুমোদন হয়েছে। মাননীয় রেলমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো- এ রাস্তাটা যেন জামালপুর থেকে শেরপুর না হয়ে ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দা, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট হয়ে শেরপুর পর্যন্ত হয়। তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, মাননীয় স্পীকার, আমরা বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষ সবসময় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এটা আপনিও জানেন, আমিও জানি সামনে যারা আছেন তারাও জানেন। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে হয়তো আমি এই বেঞ্চে না থেকে ওই বেঞ্চে থাকতাম। যাক, আমি আপনাকে আমাদের অভিভাবক মনে করি। আপনি অভিভাবক হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে আমাদেরকে অবদান রাখার সুযোগ দিবেন, ইনশাআল্লাহ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শুরুতে সালাম দিয়ে বক্তব্যে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় স্পীকার, হাদীসে একটি বাক্য আছে, তুমি যদি কাউকে ভালোবাস তাকে জানিয়ে দাও। এই সংসদের সকল সদস্যদের সামনে ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি’ এটা জানিয়ে দিলাম। এসময় সবাই হাততালি দিয়ে তাকে সাধুবাদ জানান। স্পীকার হেসে দিয়ে বলেন- ‘অসংখ্য ধন্যবাদ।’ এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ময়মনসিংহে একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে অসংখ্য মানুষের সামনে উনার আসনে বসিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলে সম্বোধন করে তিনি আমাকে সম্মানিত করেছিলেন। আপনার মাধ্যমে তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই।
মাননীয় স্পীকার, আমার দল ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’ -এর আমীর আল্লামা মামুনুল হক জোর করে আমাকে ইলেকশনে নামিয়েছিলেন। যে কারণে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। এজন্য আল্লামা মামুনুল হককেও আমি ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই ফুলপুর তারাকান্দার মানুষগুলোকে যারা তাদের দুঃখ কষ্ট ও মনের কথাগুলো সংসদে বলার জন্য আমাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।
মাননীয় স্পীকার, এই ভঙুর অর্থনীতিতে আমাদের অর্থমন্ত্রী হৃষ্টপুষ্ট এবং হ্যান্ডসাম একটি বাজেট ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি, বাজেটটা সবদিক থেকে ভালো না হলেও মোটামুটি তুলনামূলক ভালো। এই সংসদে বহুবার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এসব বাজেট স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমি আশা করি, এ বছর বাজেট বাস্তবায়ন হবে। এসময় তিনি হাদীসের অংশ ‘খাইরুন্নাস, মাইয়্যানফাউন্নাস যে মানুষের কল্যাণ করে সে সবচেয়ে উত্তম মানুষ’ শুনিয়ে বলেন- সংসদ সদস্যরা মানুষের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। আশা করি তারা সেটা করবেন।
এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ স্পীকারের কাছে সময় বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, যে অর্থনীতির উপর আমাদের এদেশ দাঁড়িয়ে আছে, এই অর্থনীতির উপর সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়। লুটপাট না হলে এদেশের উন্নয়নের জন্য ৫৪ বছর অপেক্ষা করা লাগতো না। গত ৫৪ বছর ধরে এদেশের মানুষ সাফারার হচ্ছে। যারা জনপ্রতিনিধি হন বিশেষ করে অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন যারা ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত থাকার কারণে গত ১৭ বছরের ইতিহাস আপনার আমার সামনে আছে। আমি এ বছরের সাড়ে ৩০০ এমপিমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ করবো- ৫টা বছর জনগণের জন্য আপনারা মেহনত করুন। ৫টা বছরের এ অর্থ বরাদ্দ জনগণের পিছনে ব্যয় করুন। আপনারা খেয়ানত না করেন তাহলে এই ১ বছরের বাজেটের টাকা দিয়ে আমাদের গৈ-গেরামে ৫ বছরের সমান উন্নয়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় স্পীকার, আপনার মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট একটা ছোট্ট আবদার থাকবে সেটা হলো- আপনারা জানেন, বিএনপি যখন থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের কওমী ঘরাবার মানুষ তাদের সাথে তখনও ছিল এখনো আছে কিন্তু বিগত সময়ে কওমী ঘরানার মানষদের জন্য কখনো কোন বরাদ্দের কথা আসেনি। এ বছর আমরা ভেবেছিলাম, যেহেতু বিএনপি ইসলামপন্থী দল, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তাই তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে যেভাবে অর্থ বরাদ্দের মধ্যে এনেছে কওমী অঙ্গনকেও সেভাবে এ বরাদ্দের মধ্যে আনবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কওমী ঘরানার আলেম উলামা ও ছাত্রদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা তাদেরকে কোন গ্রহের মানুষ মনে করে তা বুঝে আসে না। মাননীয় স্পীকার, আপনার মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট সবিনয় অনুরোধ করবো- কওমী ঘরানার আলেম উলামা ও ছাত্রদেরকেও আপনাদের এই অর্থমন্ত্রণালয়ের একটা বাজেট দিয়ে তাদেরকেও এদেশ উন্নয়নের কাজে লাগানো হোক।
স্পীকারের উদ্দেশ্যে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় স্পীকার, আপনি যে এলাকার এমপি আমিও এর কাছাকাছি এলাকার এমপি। আপনার এলাকায় যত সমস্যা, যেসব সমস্যা আছে, আমার এলাকায়ও তত সমস্যা। লক্ষ লক্ষ মানুষের শুধু একটা ফোনই আসে, সেটা হলো- বৃষ্টির দিনে মানুষ কোথাও চলাচল করতে পারে না। প্রতিটা রাস্তাঘাটে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। রিকশা উল্টে অনেক মানুষ এক্সিডেন্ট করে। এসময় স্পীকার এমপির সময় বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমি আপনার এলাকা হয়ে যাই। আপনার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা তো আছেই। তাই ২ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, আপনার পক্ষ থেকে আরও ২ মিনিট চাই, মাননীয় স্পীকার। এসময় সবাই হেসে দেন। এমপির রসিকতাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে আনতে হলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন লাগবে। আমার এলাকায় ২ থানায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা। যতটুকু পাকা আছে সেটাও এখন অচল। এসময় তিনি সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী, আমার দিকে একটু নজর দিবেন। আমার এলাকার মানুষের চলাচলের একটা সুব্যবস্থা করে দিবেন, ইনশাআল্লাহ। এরপর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। আমি আপনার প্রতি অনেক সন্তুষ্ট, খুশি। আমাদের এলাকার যতগুলো স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এগুলোতে ভবন নেই। শিক্ষক নেই। তাদের ভা