মো. আব্দুল মান্নান :
‘বাইল বাট্টা দিয়া সবাই ভোট নিছে। কেউ আর করে দেয়নি ব্রিজ! অহন এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগ আর বিএনপি বলেন এরারে আর ভোট দিতো না। এমপিরা ভোটে আসার আগে ব্রিজের আশ্বাস দিয়ে ভোট নেয়। পরে আর ব্রিজ করে দেয় না! বড় আক্ষেপ ও মনে কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিলপুর টু ডেফুলিয়া বাঁশতলা এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। শিলপুর টু ডেফুলিয়া বাঁশতলা সড়কে খরিয়া নদীর উপর একটি ব্রিজ তাদের প্রাণের দাবি। এ দাবিটুকু আদায়ের জন্য বিগত দিনে তারা এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি মেম্বার পর্যন্ত কাউকে তোষামোদ করার বাকি রাখেননি। সবাই আশ্বাস দিয়ে ভোট নেয় কিন্তু কেউ আর ব্রিজ করে দেয়নি। প্রিয় পাঠক, আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন, গত কদিন আগে ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকড়া টেক থেকে ফুলপুর পৌরসভার ৮নং দিউ পূর্বপাড়া হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার যে কোন গুরুত্বপূর্ণ অফিসে যেতে যেখানে ১০ থেকে ২০ টাকা খরচ হয় আর সময়ও বাঁচে অনেকটা; ১ ঘন্টার জায়গায় মাত্র ১০-১৫ মিনিট লাগে ; সেই জায়গায় একটি সেতু বা টানা ব্রিজের অভাবে তাদের এসব জায়গায় যেতে খরচ হয় ১২০ থেকে দেড়শ টাকা! সময়ও ব্যয় হয় কয়েকগুণ বেশি। আমার ওই নিউজে ডেফুলিয়া গ্রামের সন্তান আফ্রিকার মরিশাস প্রবাসী নজরুল ইসলাম নামে এক ভাই এই শিলপুর টু ডেফুলিয়া বাঁশতলা সড়কে খরিয়া নদীর উপর একটি ব্রিজের বিষয়ে লেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) ড্রাইভার লিটনের অটোরিকশা দিয়ে এলাকাটি পরিদর্শনে যাই। কথা হয় অনেকের সাথে। দুলাল মিয়া নামে এক ভাই বলেন, কত বাইল বাট্টা দিয়া আমরার ভোট নিল কিন্তু বিরিজ আর অইলো না। জিজ্ঞেস করছিলাম, বাইল বাট্টা মানে? উত্তরে মো. আমজাদ হোসেন মন্ডল বললেন, ‘আমরারে ভোটটা দেইনযে বিরিজডা এক্কেরে আপনেরারে এই বছর দিমুই দিমু। কে এরকম আশ্বাস দিয়েছিলেন? জানতে চাইলে বিগত দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের নাম উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কাছে গেলে তারা বলেন যে, আইন্নেরারে দেয়াম কিবা? ভোট আমারে দিছুইন, অহন আমার লগে যে শাখা প্রশাখা আছে হেরারে না দিলে, হেরা ছাড়া আমি দেই কিবা জিনিসটা? তারারেও আপনেরার পার করন লাগবো। ভুক্তভোগীরা বলেন, কি করবাম? একটা বিরিজের আশায় আবার তারারেই ভোট দিছি। এত দেওন দিলাম কিন্তু বিরিজ আর পাইলাম না! এসময় শিলপুর অংশে সুমনের ও মেহেদী হাসান জিহাদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানদার দুজনসহ এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন তোতা মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল কাদির ও আরও অনেকে। জিহাদ বলেন, এই ব্রিজটা হলে এদিক দিয়ে শিলপুর, মইশাউন্দা, কায়সাপুর, বিলাসাটি, বালিয়া ও বওলার লোকেরা খুব সহজে কম খরচে ফুলপুরে যাতায়াত করতে পারবেন।
নদীর উপর দাঁড়িয়ে এ প্রতিবেদককে সাক্ষাৎকার দেন, রাকিবুল হাসান সজিব নামে একজন স্টুডেন্ট যিনি ওষুধের ব্যবসা করেন। এছাড়া হরমুজ আলী, ডেফুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর, শামীম, মুকাররম ও রিয়াদসহ অনেকে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের সবারই দাবি খরিয়া নদীতে একটি ব্রিজ। আব্দুল কাদির নামে একজন মুরুব্বি বললেন, ছোট থাইক্যা হুনতাছি এইনো বিরিজ অইবো কিন্তু আইজ পর্যন্ত বিরিজ আর দেখতারলাম না। দোকানদার সুমন বলেন, একটি বিরিজের অভাবে আমাদের প্রতি মণ জিনিসের জন্য ৩০ টাকা বেশি গণতে অয়। হেইপাড় পর্যন্ত মালডা ফুলপুর থেকে ২০ টাকায় আনা যায় কিন্তু এই নদীটুকু পার করতে গেলেই ৩০ টাকা বাড়তি লাগে। মণ প্রতি ৫০ টাকা লাগে। হরমুজ আলী বলেন, অহন ত মোটামুটি একটা জায় আছে কিন্তু বর্ষাকালে আমরার বড় বিপদ। অ্যাম্বুলেন্স নিয়া ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে যে একটা রোগী নিয়া যে হাসপাতালে যাইবাইন এই বাও নাই। আমজাদ মন্ডল বলেন, সবচেয়ে অবহেলিত জায়গাই হলো আমরার এই জায়গাডা। ইস্কুলের অনেক শিক্ষার্থী এইনো পইরা ব্যথা পাইছে; বই পুস্তক ভিজাইছে। সময়মত ইস্কুলে যাইতারে না। বহুত কষ্ট অয়। বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার জন্য ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমার মাধ্যমে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।