• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

খবরদার! আলেমদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলে নিজেদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন না — ড. মিজানুর রহমান আজহারি

Reporter Name / ১৩৮ Time View
Update : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মো. আব্দুল মান্নান :
বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন ড. মিজানুর রহমান আজহারি বলেছেন, খবরদার! আলেমদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলে নিজেদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন না। যারা ইসলামের কথা বলে, কুরআনের কথা বলে তারা ধর্মব্যবসায়ী নয়। আমরা ধর্মের কথা প্রচার করি। যেটা দেশের জন্য ও জনগণের জন্য ভালো সেটাই প্রচার করি। আমাদের বলে মৌলবাদী। আমরা আসল কথা বলি।  ভালো কথা বলি। দেশপ্রেমের কথা বলি। জনগণের কথা বলি। ইসলামের কথা বলি, দেশের সমৃদ্ধির কথা বলি। এজন্য আমাদের বলে মৌলবাদী। জেনে রাখবেন, এদেশের আসল পরিচয় ইসলাম। ধৈর্য এমন এক গাছ, এই গাছের চারদিকে কাঁটা কিন্তু এর ফল সুমিষ্ট। আপনারা ১৬ বছর ধৈর্য ধরেছেন; ফল দিয়েছেন  আল্লাহ। বিপদ আসবে, জুলুম আসবে। ধৈর্যধারণ করতে হবে। ফলাফল পেয়ে যাবেন।

আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) বেলা ২টার দিকে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে আল ইসলাম ট্রাস্ট, ময়মনসিংহ– এর উদ্যোগে আয়োজিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আহযাবের ৩৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। শানে নুযূল বলতে গিয়ে আজহারি বলেন, আম্মাজান উম্মে সালামা (রা.)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাযিল করেন। আয়াতের আলোকে মিজানুর রহমান আজহারি বলেন, নারী পুরুষকে আল্লাহ তায়ালা সমান মর্যাদা দান করেছেন। আমলের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ দান করলে যে সাওয়াব একজন মহিলা দান করলেও সেই সাওয়াব। একজন পুরুষ রোজা রাখলে যে সাওয়াব হয় একজন মহিলা রোজা রাখলেও সেই সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা দিয়ে থাকেন। আমলের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। উভয়ই সমান। তিনি বলেন, আল্লাহর আদেশের সামনে সারেন্ডার করার নামই হলো ইসলাম। ইসলাম মানলেও হবে বা না মানলেও হবে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলামকে মানতে হবে। মুসলমান সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কথার সামনে কোন কথা বলে না। নত থাকে।

বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন ড. মিজানুর রহমান আজহারির  ময়মনসিংহে আগমন উপলক্ষে বিভাগজুড়ে আনন্দ ও  উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে। কাছে থেকে প্রিয় বক্তাকে মনভরে দেখতে ও তার বয়ান সুন্দরভাবে শুনতে কেউ কেউ চলে এসেছিল আগের রাতেই।

উপস্থিত ভদ্রমন্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রিয় বক্তা মিজানুর রহমান  আজহারি বলেন, আল্লাহর আইন দিয়ে যদি আপনাকে কোন আদেশ করা হয়, মানবেন না? অবশ্যই মানবেন। যখন ইবরাহীম (আ.)-কে আল্লাহ তায়ালা সারেন্ডার করতে বললেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সারেন্ডার করলেন। আসলামতু বিরাব্বিল আলামীন। আমান্না, ওয়া আতা’না। এটাই হলো মুসলমানের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করলেই ইজ্জত। ইসলামের মধ্যেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের সম্মান রেখেছেন। এর বাইরে সম্মান খুঁজলে সম্মান পাওয়া যাবে না। এসময় লিল্লাহি তাকবির আল্লাহু আকবার বলে তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের সভ্যতার একদিন কবর রচিত হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে ইসলামের সভ্যতা। তিনি বলেন, ইসলাম বিরোধী কোন মতবাদ আমরা মানি না, মানবো না। ইন্নাল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত। আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বাস এত গুরুত্বপূর্ণ যে, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক, পার্টনারশিপ এগুলো টিকে বিশ্বাসের উপর। মানুষে বলে, ‘বিশ্বাসে মিলে বস্তু, তর্কে বহুদূর।’ দেখা যায়, কক্সবাজারের গাড়িতে উঠে যাত্রী দেয় ঘুম। কারণ, ড্রাইভারের উপর তার বিশ্বাস আছে যে, তাকে অন্য কোথাও নিবে না। কক্সবাজারেই পৌঁছাবে। বাচ্চাকে নিয়ে বাবা খেলায়। উপর দিকে ফিকে মারে। বাচ্চা ভয় পায় না। সে জানে আব্বু তাকে নিচে ফেলে মেরে ফেলবে না। বিমান অনেক উপর দিয়ে যায়। যেখান থেকে পড়ে গেলে মরা ছাড়া আর উপায় নেই। তবু যাত্রীরা ভয় না পেয়ে বরং আরামে ঘুমায়। কেননা, পাইলটের প্রতি তাদের বিশ্বাস আছে যে, তিনি মেরে ফেলবেন না। এজন্য আল্লাহ তায়ালাকেও মুমিনরা না দেখে এভাবে বিশ্বাস করে। তাদের বিশ্বাস আছে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের যত কষ্টই দেওক না কেন তিনি বান্দার মঙ্গলের জন্যেই সব কিছু করেন। এজন্য আল্লাহ তায়ালাকে না দেখে বিশ্বাস করার নাম ঈমান। তিনি এজন্য আমরা আল্লাহর যিকির বেশি বেশি করবো। ‘আল্লাহর নাম যতই জপি ততই মধুর লাগে, নামে এত মধু আছে কে জানিত আগে।’ এসময় তিনি ঈমানে মুফাসসালের ৬টি বিষয়ের উপর বয়ান করেন। তিনি বলেন, ঈমান ছাড়া নেক আমলের কোন দাম নেই। ঈমান হলো সফলতার চাবিকাঠি। ক্বাদ আফলাহাল মুমিনূন। ঈমান বিজয়ের পূর্ব শর্ত। ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আনতুমুল আ’লাওনা ইন কুনতুম মুমিনীন। তোমরা চিন্তা করো না, নিরাশ হয়ো না, ভেঙে পড়ো না। বিজয় তোমাদের হবেই যদি তোমরা মুমিন হও। এরপর আজহারি গজল বলেন, ‘ঈমানের পথে অবিচল থেকে আমার মরণ যেন হয়, তোমারই কাছে মিনতি আমার মহামহিম দয়াময়।’ তিনি বলেন, বিশ্বাস হলো, সবচেয়ে দামী। তোমরা নামাজ যত্নের সাথে আদায় কর। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা মুবারক ফুলে যেত। আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, নবী হে, আপনার আগের গুনাহও মাফ, পরের গুনাহও মাফ। তাহলে কেন এত দীর্ঘ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে থাকেন? জবাবে নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি কি শোকরিয়া আদায় করবো না? আমি কি শোকরগোজার বান্দা হবো না? ওয়াল ক্বানিতীনা ওয়াল ক্বানিতাত। বান্দাকে আল্লাহর অনুগত হতে হবে। মক্কার ইমাম শায়েখ আব্দুর রহমান আস সুদাইস মুনাজাতে অনেক কান্নাকাটি করতেন। আমাদেরকেও কাঁদতে হবে। ওয়াস সাদিকীনা ওয়াস সাদিকাত। মিথ্যার সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকতে পারবে না। বসে ফোনে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কোথায়? বাসায় থেকে বলেন যে, জ্যামে স্যার। এরকমভাবে মিথ্যা আশ্বাস না দেই। মিথ্যা সাক্ষী, মিথ্যা রায় এগুলো আমরা চাই না। আল্লাহ সত্যবাদী। তিনি সত্যকেই পছন্দ করেন। নবীজীও সত্যবাদী। জিন্দেগীতে তিনি কোন মিথ্যা কথা বলেননি।
নবীজী (সা.) বলেন, হে আমার জাতির লোকেরা, আমি যদি বলি পাহাড়ের পাদদেশে শত্রু লুকায়িত আছে। তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে? তারা বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই বিশ্বাস করবো। কেননা, আমরা তোমাকে জীবনেও মিথ্যা বলতে শুনিনি। ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু কূনূ মায়াস সাদিকীন। আমরা কাদের সাথে থাকবো? সত্যবাদী নাকি মিথ্যাবাদীর সঙ্গে? আমরা খবর পড়বো কার? মিথ্যাবাদীর নাকি সত্যবাদীর? ওয়াস সাবিরীনা ওয়াস সাবিরাত। ‘ধৈর্য্যধারণ করার শক্তি দাও গো মেহেরবান, আমায় দাও গো মেহেরবান, বুকের ভেতর ব্যথার নদী বইছে অবিরাম।’ বিপদ আসলে সবার আগে ফেইসবুকে নাকি বন্ধুর সাথে? নাকি আল্লাহর নিকট শেয়ার করবো? শেয়ার করবো আল্লাহর সাথে। ওয়াসবির আলা মা ইয়াকুলূনা ওয়াহজুরহুম হাজরান জামিলা। ইন্না শানিআকা হুয়াল আবতার। আমাদের নবীজীকে গালি দিত। আমাদেরকেও গালি দেয় নাকি দেয় না? রাজাকার রাজাকার বলে গালি দেওয়ার দিন শেষ। আমাদেরকে বলে মৌলবাদ। আমরা আসল কথা বলি। ভালো কথা বলি। দেশপ্রেমের কথা বলি। জনগণের কথা বলি।  ইসলামের কথা বলি। দেশের সমৃদ্ধির কথা বলি। এজন্য আমাদের বলে মৌলবাদী। আলেমদেরকে বলে ধর্মব্যবসায়ী। খবরদার! আলেমদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলবেন না। আমরা ধর্মের কথা প্রচার করি। যেটা দেশের জন্য ও জনগণের জন্য ভালো সেটাই প্রচার করি। যারা ইসলামের কথা বলে, কুরআনের কথা বলে তারা ধর্মব্যবসায়ী নয়। খবরদার আলেমদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না, নিজেকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন না। এদেশের আসল পরিচয় ইসলাম। এসব গালিগালাজ হজম করার আহ্বান জানিয়ে আজহারি বলেন, আপনারা ধৈর্য্যধারণ করুন। ধৈর্য এমন এক গাছ যার চারদিকে কাঁটা কিন্তু এর ফল সুমিষ্ট। আপনারা ১৬ বছর ধৈর্য ধরেছেন, ফল দিয়েছেন আল্লাহ। বিপদ আসবে, জুলুম আসবে। ধৈর্যধারণ করতে হবে। ফলাফল পেয়ে যাবেন। আলেমদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলে নিজেদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়ে দাঁড় করাবেন না। এদেশের আসল পরিচয় ইসলাম। ধৈর্য্যশীলদের আল্লাহ পছন্দ করেন। ক্বাদ আফলাহাল মুমিনূন। নামাজ পড়ার সময় এমনভাবে পড়বেন, মনে করবেন এটাই আমার শেষ নামাজ। খুশু খুজুর সাথে নামাজ পড়বেন। ওয়াল খাশিয়িনা ওয়াল খাশিয়াত। সবমিলিয়ে এই আয়াতের আলোকে তিনি মুমিন মুমিনাতের মোট ১০টি গুণ নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মুনাজাতের মাধ্যমে উনার তাফসীর সম্পন্ন করেন ড. মিজানুর রহমান আজহারি।

ড. মিজানুর রহমান আজহারি একটি হেলিকপ্টারে করে বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে এসে অবতরণ করেন। এরপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বেলা ১টা ৫৬ মিনিটের সময় পুলিশি নিরাপত্তার মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের মঞ্চে এসে পৌঁছেন এবং ২টায় তাফসীর শুরু করেন। এ সময় আয়োজক কমিটি আল ইসলাম ট্রাস্ট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল করীম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা কামরুল আহসান ইমরুল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার, সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুব ফরাজী, শম্ভুগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মাওলানা মফিদুল ইসলাম, মহানগর উলামা শাখার সুরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ ইসলামিক স্কলারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাফসীরের শুরুতে ড. মিজানুর রহমান আজহারি বলেন, আজকে এই মঞ্চে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করীম ও আকন্দ ভাই তার পুরো টিম নিয়ে এসেছেন। বিএনপির প্রিন্স ভাই জেলা বিএনপির পুরো টিম নিয়ে এসেছেন। বৈষম্যবিরোধীরাও এসেছে। এতে বোঝা যায় পুরো বাংলাদেশ আজকের এই মঞ্চে। এটা অনেক সুন্দর। এর আগে স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন মাহফিলের সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল (এমএ) মাদরাসার প্রাক্তন হেড মুহাদ্দিস শায়খুল হাদীস ফাজেলে দেওবন্দ হাফেজ মাওলানা নূরুল ইসলাম দামাত বারাকাতুহুম। ঐতিহাসিক এ মাহফিলে আমন্ত্রিত মুফাসসিরীন হিসেবে এটিএন বাংলার আলোচক ও সোবহানবাগ মসজিদ মাদরাসা কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি -এর খতীব শাইখ শাহ ওয়ালী উল্লাহ, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তাফসীরকারক রূপায়ণ টাউন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব শাইখ মুহাম্মাদ জামাল উদ্দীন, কুমিল্লার মাওলানা মনিরুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ তাফসীর করেন। এসময় দেশ বরেণ্য আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরাম, বিশিষ্টজন, কবি সাহিত্যিক, শিক্ষক সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা ও লাখো জনতা উপস্থিত ছিলেন। মহিলাদের জন্য জিলা স্কুল মাঠে আলাদা ব্যবস্থা ছিল। স্বেচ্ছাসেবক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ ছিল মাঠসহ পুরো এলাকা। সবমিলিয়ে অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে মাহফিলটি। ময়মনসিংহে এত সুন্দর তাফসীরুল কুরআন মাহফিল উপহার দেওয়ায় মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্ কায়সারহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে সুধীমহলের পক্ষ থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা