মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ১নং ছনধরা ইউনিয়নে কাশিগঞ্জ বাজার থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এ ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছটি।
সরেজমিন গিয়ে মুরুব্বিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছটির বয়স ৫শ বছরের চেয়েও বেশি। ৮২ বছর বয়সী এক মুরুব্বির সাথে যুহরের নামাজ আদায় করেছি। তিনি বলেন, ছোট সময় দাদার কাছে জিগাইছিলাম যে, ‘এই গাছের বয়স কিরুম অইবো?’ পরে দাদা বললেন, ‘কইতারতাম না। আমরা ছুটু থাইক্যা এরুমই দেখতাছি।’
জানা যায়, এটি একটি ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছ। এ গাছটিকে কেন্দ্র করেই এলাকার নামকরণ করা হয়েছে ‘তেঁতুল তলা’ বা ‘ছুক্কাতলী’। বিশাল এ গাছটির উত্তর পাশে একটি জামে মসজিদ ও একটি হাফিজিয়া মাদরাসা গড়ে উঠেছে। আর পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে রামসোনা দাখিল মাদরাসা। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি ঈদগাহ মাঠও রয়েছে ওখানে।
কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরকারের কোন নেক নজর রয়েছে বলে দেখে মনে হয়নি। কেননা, দেখা গেল, কোন বাউন্ডারি ওয়াল নেই। মসজিদ মাদরাসার যে টয়লেট বা অজুখানা রয়েছে তা খুবই নিম্নমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী। কষ্ট করে মুসল্লীরা অজু ইস্তেঞ্জা সারেন।
গাছটির পশ্চিম পাশ দিয়ে ছোট একটি নদী বয়ে গেছে; যে নদীটি ইছামতি থেকে বের হয়ে মালিঝি নদীর সাথে যুক্ত হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের সময় পথচারী বা গ্রামের কৃষক শ্রমিকরা ঐতিহাসিক এ তেঁতুল গাছটির নিচে গিয়ে বসেন। কিন্তু ওখানে বসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় লোকজন ঘাসের উপরই বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ শরাফত আলী ও কাজী মুজ্জাম্মেল এ গাছটি সম্বন্ধে অনেক তথ্য দিয়েছেন। এ থেকে প্রতি বছর যে তেঁতুল হয়ে থাকে তা কেউ হেফাজত করেন না বরং যে যার মত করে নিয়ে যান। এসময় তারা গাছটির নিচে বসার জন্য আসনের ব্যবস্থা করে দিতে উপজেলা প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করে দেখা গেছে যে, গাছটির নিচের অংশে ক্ষত দেখা দিয়েছে। বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। উলি পোকা মাটি তোলে গাছটির মূল শিকড়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও সন্দেহ হচ্ছে। মনে হয়েছে, এর প্রতি রয়েছে অযত্ন ও অবহেলা। গাছটির পরিচর্যা দরকার। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।