• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

‘দিন শেষে আমি ভালোবাসার কথাই মনে রাখি’ — রক্তযোদ্ধা মোঃ জাকারিয়া 

Reporter Name / ৮৫ Time View
Update : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫

গোলাম মোস্তফা :

যখন দেখি রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে একজনের জীবন বেঁচে গেছে, তখন অজানা তৃপ্তি পাই। রক্ত দেওয়ার পর রোগীর স্বজনদের হাসিমুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। মনে হয় যে, আমরা কারও জীবন রক্ষা করার ক্ষেত্রে উসিলা হয়েছি।’ কথাগুলো বললেন, স্বেচ্ছাসেবক রক্তযোদ্ধা মোঃ জাকারিয়া।

মোঃ জাকারিয়া ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চর স্বল্পা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা ফুলপুরবাসী’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।

রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে টগবগে সুদর্শন তরুণ মোঃ জাকারিয়ার সংগঠন ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা ফুলপুরবাসী’ কাণ্ডারিরূপে হাজির হন অসহায়দের পাশে। রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাত দিন ছুটে বেড়ান তারা। মানুষের জীবন বাঁচাতে মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে কাজ করেন। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে।

কারও রক্তের প্রয়োজন হলে জাকারিয়া তা যোগাড় করে দিতে হণ্যে হয়ে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে রক্ত যোগাড় করে দেন তিনি। নিকটাত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এমনকি পরিচিতজনদের রক্তের গ্রুপ মোবাইল নম্বরসহ অসংখ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে তার কাছে।

মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন তিনি। এছাড়া অন্য কেউ পোস্ট দিলে বা ফোনের মাধ্যমে জানালে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি তা সংগ্রহ করে দেন। রক্তের জন্য পোস্ট দিলে বা ফোনে যোগাযোগ করলে কখনো রক্ত পাওয়া যায় আবার কখনো পাওয়া যায় না। তবুও হাল ছাড়েন না জাকারিয়া।মানুষের সেবায় এভাবেই কাজ করছেন তিনি।

রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি মোঃ জাকারিয়া দেশে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার রক্তদান করেছেন। এখন তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান থেকে দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। এর পাশাপাশি সংগঠনটি পরিচালনা করছেন তিনি।

তিনি এ সংগঠন থেকে ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রক্তদাতা সংগ্রহ, ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

রক্তদান ছাড়াও শীতবস্ত্র বিতরণ, ব্লাড গ্রুপিং, রক্তদানে উৎসাহিত করা ও থ্যালাসেমিয়া মুক্তির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা, ‘ফুলপুর ব্লাড ব্যাংক চাই’ এর রূপকার হিসেবেও কাজ করছে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় একশো ছাড়িয়েছে।

২০২৪ সালে ফুলপুরের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় নিজস্ব অর্থায়নে ২২৫টি ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্ত পরিবারের মাঝে তিনি ত্রাণ  সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া ৭’শ জনকে একবেলার খাবার এবং সংগঠনটির রেফারেন্সে ১ হাজার ৪ শ পরিবারকে ত্রাণ  সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিগত বন্যায় এ  সংগঠনের ৪০ জন নওজোয়ান স্বেচ্ছাসেবক বন্যার্ত মানুষের জানমাল উদ্ধার কাজে আত্মনিয়োগ করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন।

শুধু ফুলপুরেই নয় ২০২৪ সালে নোয়াখালী ফেনী ও কুমিল্লায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নোয়াখালীতে ৩৫০ টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে পুর্নবাসনের সময়  ১০ টি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল  সংগঠনটি। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা ফুলপুরবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা মোঃ জাকারিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম মানুষের পাশে থেকে সেবা করবো এবং রক্তের অভাবে একটি প্রাণও যাতে না ঝরে, সেই লক্ষ্যে কাজ করবো। এই চিন্তাভাবনা থেকে এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ স্বপ্ন জয়ের নেশায় ২০২১ সালের ১০ মার্চে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও শতভাগ সেবামূলক সংগঠন। যার প্রথম নাম ছিল ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা রামভদ্রপুর ইউনিয়নবাসী’। পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত হলে এর নামকরণ করা হয় ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা ফুলপুরবাসী’।

আমাদের এই ৪ বছরের পথ চলায় হয় তো খুব বেশি ভূমিকা আমরা রাখতে পারিনি; তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের কল্যাণে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে পাশে থাকতে।আমাদের এই পথচলাকে সহজ ও মসৃণ করে তুলেছেন রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের এই পরিবার এখন অনন্য এক উচ্চতায় আরোহণ করতে সক্ষম হয়েছি।

মানবতার সেবায় শুধু ৪ নয়, ৪ যুগ নয়, যুগে যুগে কাজ করে যাব আর্ত মানবতার সেবায়। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন; যারা মোটিভেশনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করে রক্তদাতা তৈরি করেছেন, স্বেচ্ছায় শ্রম পরামর্শ, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এবং যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা সেই দায়িত্ব সুন্দর, সুস্থভাবে পরিচালনা করেছেন; তাদের সকলের প্রতি।আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা মহৎ কাজে সময় দিচ্ছেন তাদের এই সময়গুলো বৃথা যাবে না।

মোঃ জাকারিয়া আরও বলেন, সংক্ষিপ্ত আয়ুর জীবনে তেমন কোনো সাফল্য নেই, তবে একটা সাফল্য আছে- সেটা হলো,  ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা ফুলপুরবাসী’ প্রতিষ্ঠা করা। এই সংগঠন থেকে দিনশেষে যদি একজন মানুষও উপকৃত হয়ে থাকে সেটাই বড় সাফল্য বলে মনে করছি। ইতোমধ্যে চার বছরে আমরা ১ হাজার ৮’শ ব্যাগ রক্ত দিতে সক্ষম হয়েছি,  আলহামদুলিল্লাহ। ৫০ টির মত রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন করতে সক্ষম হয়েছি। এটা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে,  ইনশাআল্লাহ।

রক্তদান করতে গিয়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন মোঃ জাকারিয়া কিন্তু সেসব ভুলে মানুষের ভালোবাসার কথাই মনে রাখেন তিনি এবং তিনি বলেন, এখনো অনেক রোগীর স্বজন খোঁজেন, পারিবারিক কোনো আয়োজনে আমন্ত্রণ জানান। দিন শেষে আমি ভালোবাসার কথাই মনে রাখি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা