অনলাইন ডেস্ক :
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয় করণের দাবিতে সড়কে শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট চলছে। জাতীয়করণ ছাড়া তারা সড়ক থেকে নড়বেন না বলে জানান। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) চাকরি জাতীয়করণসহ ৬ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ঐক্যজোট, আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে কমিটির আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম সভাপতিত্ব করেন।
ধর্মঘটে সংহতি প্রকাশ করার জন্য সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম প্রমুখ।
নায়েব-এ আমির শিক্ষা উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অতিদ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
তারা বলেছেন, প্রাথমিক স্কুলের মতো সব বিধি-বিধান মেনেও মাদরাসা শিক্ষকেরা চার দশক ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ ঘোষণা করতে হবে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান চলবে ও ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
বক্তারা বলেন, আমরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায় সরকারি বিধি-নিয়ম অনুসরণ করে গত ৪০ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতার পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু সামান্য অনুদানের টাকা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে একই পরিপত্রে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের ৫০০ টাকা সরকারিভাবে অনুদান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। বাকি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জাতীয়করণ তো দূরের কথা এ পর্যন্ত একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাও এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়নি।
আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব বলেন, প্রাইমারির মতো জাতীয়করণের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চলবে।
* ছবি ও তথ্য অনলাইন থেকে সংগৃহীত।