মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী স্বদেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম শহর আলী মাস্টার তার বাড়ি সংলগ্ন নাগলা বাজার এলাকায় ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ১১নং আমতৈল ইউনিয়নের ধোপাগুছিনা গ্রামে আব্দুল লতিফ তারা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ‘ধোপাগুছিনা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা মো. মোখলেসুর রহমান বাচ্চু জানান, এ বিদ্যালয়টি সম্ভবত: ২০০০ সালে পাঠকার্য পরিচালনার মৌখিক বা লৈখিক অনুমোদন পায়। মরহুম আজিম উদ্দিন সরকার, শহর আলী স্যার ও মুনসুর আলী স্যারসহ স্থানীয় বিদ্যানুরাগীদের সহযোগিতায় এটি গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এটি শত সমস্যায় জর্জরিত। নানা প্রতিকূলতায় এর স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন করে ভাবতে হবে। এর অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে শহর স্যারের ছাত্রছাত্রী ও বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। উল্লেখ্য, মাহবুবা ফারজানার বাড়ি এই স্কুলের নিকটেই। তিনি স্বদেশী পঞ্চায়েত বাড়ির কৃতি সন্তান সাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মরহুম শামসুল হকের কন্যা। স্কুলটিতে কামরুল মাস্টার, আরমান মাস্টার ও শহর মাস্টারের এক মেয়েসহ বেশ কয়েকজন পড়াতেন। সরকারের সুদৃষ্টি না পেয়ে তারা সবাই এখন ক্লান্ত। গত ক’বছর আগে প্রচন্ড ঝড় তুফানে এর টিনগুলো উড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে এখানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এর দিকে তাকালে এটিকে আর কোন স্কুল বলে মনে হয় না। তবে স্থানীয় মুরুব্বি কামাল হোসেন দুলু বলেন, শহর মাস্টার উদ্যোগ নিয়ে আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েদের জন্য স্কুলটি করেছিলেন। তার ইন্তেকালের পর থেকে এর তদারকি করার কেউ না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়ে স্কুলটি। এমনকি দিনে দিনে এটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। এর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে হলে, সংকট থেকে কেটে উঠতে চাইলে শিক্ষক স্টাফ ও স্থানীয়দের আর্থিক ও শারীরিকভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।