মো. আব্দুল মান্নান :
টঙ্গী বিশ্ব ইজতিমা ময়দানে ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত গভীর রাতে ঘুমন্ত ও ইবাদতরত আলেম-উলামা ও তাবলীগী সাথীদের উপর খুনী সাদপন্থীদের বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে ময়মনসিংহ আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে উলামায়ে কেরামের মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর আয়োজনে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইত্তেফাকুল উলামা কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার সভাপতি আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী এতে সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী তিনটি দাবি পেশ করেন। প্রথমত: সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে টঙ্গীতে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এটা এক তরফা সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড ছিল। যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা এটাকে ‘দুই দলের সংঘর্ষ’ বলে নিউজ করেছেন উহা সংশোধন করতে হবে। উহা ছিল অতর্কিত হামলা। দ্বিতীয়ত: যারা রং বদলায় তাদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তৃতীয়ত: যাদের ধরা হয়েছে এরা হলো গাছের ডালপালা, পাতালতা। বিষফোড়ার গোড়া কাটতে হবে। সাদপন্থী লিডারদের গ্রেফতার করতে হবে। এরপর মুনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।
এর আগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সরকারের নিকট ৬টি দাবি পেশ করেন।
১. গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতিমা মাঠে সাথীদের উপর অতর্কিত হামলাকারী খুনি সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. ময়মনসিংহ বিভাগে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে ময়মনসিংহের সকল মসজিদে খুনি সাদপন্থীদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে যেসব সন্ত্রাসী টঙ্গীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে সনাক্ত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৪. কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্ব ইজতিমার মাঠে তাদের সকল কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. এ সমাবেশ লক্ষ্য করেছে যে, সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের গডফাদার ওয়াসিফুল ইসলাম, তার ছেলে উসামা ইসলাম, জিয়া বিন কাসিম, আব্দুল্লাহ মানসুর, সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ ও রেজা আরিফসহ সকল গডফাদার এহেন হত্যাকাণ্ডের পরও বহাল তবিয়তে আছে ও বিশৃঙ্খলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। যা দেশের শান্তি শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ সমাবেশ তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে শান্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। ও
৬. এ সমাবেশ মনে করে, হত্যাকারীরা পার পেয়ে গেলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হবে এবং মব জাস্টিস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। যার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুস সামাদ, ময়মনসিংহ মার্কাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল হাসান, পাটগুদাম মসজিদের ইমাম মুফতী আব্দুল হাই কাসেমী, মিফতাহুল উলূম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুজ্জামান, বালিয়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার হোসেন, ফুলপুর আদর্শ মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা আবু রায়হান, মাওলানা শেখ ফিরোজ আহমাদ, মাওলানা সাদিকুর রহমান রাশিদ, মাওলানা নুসরাত আহমাদ ফারুকী, ফুলপুর জামিয়া গিয়াছ উদ্দিন (রহ.) মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, নাসিরাবাদ কলেজের শিক্ষক কামরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক নাঈম, মাওলানা রশিদ আহমাদ ফেরদৌস, ত্রিশালের মাওলানা আশরাফ, বিএনপি নেতা ও খতমে নবুওয়তের সদস্য শেখ আহমাদ আলী, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল আলম, ভালুকার মাওলানা আজিজুল ইসলাম শেখ, বালিয়া মাদরাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন, ফুলবাড়িয়ার মাওলানা আবু হানিফা নুমান, ত্রিশালের মাওলানা ইখলাস উদ্দিন, প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ, মাখযানুল উলূম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলী, সমন্বয়ক ওয়ালীউল্লাহ, মাওলানা মঞ্জরুল হক, মুফতী আমির ইবনে আহমাদ, মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, ছাত্র প্রতিনিধি ওলীদ আহমাদ ওলী, ক্যাপ্টেন শহীদ সালাহ উদ্দিন, মিফতাহুল উলূম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জামিয়া ইসলামিয়ার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল হক প্রমুখ। তারানা পাঠ করেন হাফেজ তানভীর। ইত্তেফাক নেতা মাওলানা শরীফুর রহমান ও মাওলানা মানাযির আহসান খান তাফসীরের উপস্থাপনায় এসময় আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জীসহ বরেণ্য উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।