মো. আব্দুল মান্নান :
হুজুরের সাথে চাঁদপুরের কচুয়াতে আমি ১ চিল্লা লাগিয়েছি। তিনি আমার জামাতের জিম্মাদার ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, খুবই বুঝনেদার ভাল জিম্মাদার। তিনি টঙ্গী বিশ্ব ইজতিমা ময়দানে মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জোড়ের সময়ও মুকাব্বির থাকেন। বিশ্ব ইজতিমায় এ ময়দানের প্রথম মুকাব্বিরের দায়িত্বে ছিলেন ফয়জুল্লাহ সাহেব। উনার পর ডা. মুফিজ সাহেব। এভাবে তালেব সাহেব দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে এ দায়িত্বে আছেন ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসেন সাহেব। জানা যায়, এ ময়দানে প্রথম ৮৮ জন মুকাব্বির ছিলেন। বর্তমানে ২০ জনের মত মুকাব্বির আছেন। সবার সাথেই তিনি মুকাব্বির ছিলেন।
হুজুরের নাম মো. সুরুজ আলী (৯২)। উনার পিতা ছিলেন খমির উদ্দিন। উনার বাড়ি ফুলপুর পৌরসভার চরপাড়া গ্রামে। হুজুর ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তানের জনক। উনার বিবি ২ জন।
হুজুর আনুমানিক ১৯৭৩ সনে তাবলীগ করা শুরু করেন। আমাদের ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ওলীউল্লাহ হুজুরের সাথে তিনি প্রথম চিল্লা লাগিয়েছেন। ওলীউল্লাহ হুজুরের সাথে এ অধমের তিনদিন লাগানোর সৌভাগ্য হয়েছিল। সুরুজ আলী হুজুর দ্বিতীয় চিল্লা লাগিয়েছেন হালুয়াঘাটের আরেক কৃতি সন্তান আল্লাহর ওলী মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ আলী সাহেবের সাথে। যাকে শীতলক্ষ্যা থেকে কুমিরে নিয়ে হজম করতে পারেনি। ৪৩ ঘন্টা পর জেতা ফেরত দিয়েছে। সেই ওলীর সাথে। টঙ্গী ময়দান থেকে ৫ দিনের জোড় শেষে বাড়ি ফেরার সময় আমাদের ১৮৩৩ নম্বর খুঁটিতে দেখা করতে এসেছিলেন হুজুর। এসময় হুজুরের সাথে টুকটাক আলাপ হয়। এত দীর্ঘ সময় ধরে তাবলীগ করে আসলেও বছরে ২-৩ চিল্লা করে দিয়ে আসলেও আজও ভাগ্যে জোটেনি বিদেশ সফর। কথা বলতে বলতে দোয়া চেয়ে কেঁদে দিলেন তিনি। তিনি বললেন, এবার আবারও বিদেশ সফরের জন্য নাম লিখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে কবুল করেন। অর্থনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করে দেন। সবাই হুজুরের জন্য দোয়া করবেন।