মুহাম্মদ মুখলেছুর রহমান :
তিনি কথা বলতেন গুছিয়ে। বক্তব্য দিতেন পয়েন্ট আকারে। শব্দের গাঁথুনি, বাক্যের বিন্যাস, উচ্চারণের শুদ্ধতা ও সাবলীলতা তাঁর বক্তব্যকে তুলে নিয়েছিল অনন্য উচ্চতায়।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়ও তিনি বিষয় নির্ধারণে ভুল করতেন না। আমি অধমের কাছ থেকেও তিনি বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও পরামর্শ করতেন তিনি।
ফ্যাশনদোরস্ত ছিলেন। চলনে বলনে, পোষাক পরিচ্ছদে, সবখানে।
তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টংগী শাখার প্রতিষ্ঠায় অন্যদের মতো তাঁরও ভুমিকা ছিল বলিষ্ঠ। জামেয়া দ্বীনিয়াকে তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার প্রস্তাব যখন করলাম, তিনি ছিলেন এ প্রস্তাবের বলিষ্ঠ সমর্থক। নীতিনির্ধারণী ফোরামে তিনি, মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ (রহঃ) এবং অধ্যাপক গোলাম আজম (রহঃ) সহ আরও অনেকেই সে প্রস্তাব অনুমোদনে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন।
চারদলীয় জোটের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে তিনি বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেন। লিয়াজো করার ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা ও পারঙ্গমতা। বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে বেশ মূল্যায়ন করতেন।
তিনি জাতীয় সংসদে নির্বাচন করতেন শেরপুর সদর আসন থেকে। এটি তাঁর জন্যই নির্ধারিত ছিল। একবার বিএনপির তৎকালীন জেলা সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম সাহেব সে আসনে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম কিনে মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত হন। বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ফরম হাতে নিয়েই রাগতস্বরে জিজ্ঞেস করেন, এ ফরম দিয়েছে কে? সবাই চুপ। কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছেননা। এডভোকেট আবুল কালাম সাহেব বিনীত ভাবে বললেন, ম্যাডাম, এ আসনটিতে ক্বামারুজ্জামান সাহেব একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। আমারও বয়স হলো। দয়া করে যদি ক্বামারুজ্জামান এর পরিবর্তে আমাকে মনোনয়ন দিতেন, আমি ভালো করতে পারতাম।
বেগম খালেদা জিয়া সাফ জানিয়ে দিলেন, এ আসন ক্বামারুজ্জামানের। অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এ আসনের মনোনয়ন ফরম যারা এডভোকেট কালাম সাহেবকে বিতরণ করেছেন, তাদেরকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন তিনি।
[চলবে]
লেখক :
চেয়ারম্যান, শরীয়াহ্ সুপার ভাইজারি বোর্ড অ্যাট এইচএফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড
ও
সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা।